১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে বর্তমানে কারাগারে বিপুল পরিমাণ অপরাধী অন্তরীণ। এই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা আদালত করার প্রয়োজন রয়েছে কি না, সে ব্যাপারে আইনমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করি, খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত উপনিত হতে পারবো।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

বিএনএফ প্রেসিডেন্ট এসএম আবুল কালাম আজাদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীসাবার নামে নতুন এক মাদকে আমাদের যুব সমাজ আসক্ত। আমাদের যুবক ছেলে-মেয়েরা এই সীসাবার গ্রহণ করে। তবে আইনের জটিলতার কারণে আমরা এটা বন্ধ করতে পারছি না। তবে নতুন আইনে সীসাবার নিষিদ্ধ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া যেখানেই ক্যাসিনোর সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই আমাদের পুলিশ অভিযান করছে। পুলিশ অভিযান করে বন্ধ করার প্রচেষ্টা নিচ্ছে। তাছাড়া যেখানেই খুনের ঘটনা ঘটছে আমাদের পুলিশ সেখানে আসামীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে। আমাদের সকল আসামী সনাক্ত হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে কারাগারে ধারণক্ষমতার বেশি আসামী ॥ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য উম্মে রাজিয়া কাজলের সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের কারণে প্রতিদিনই অপরাধীদের ধরা হচ্ছে। দেশের কারাগারের ধারণ ক্ষমতা যেখানে ৩৫ হাজার সেখানে এই মুহুর্তে ৮০ হাজারের অধিক আসামী কারাগারে রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর থেকেই এই ফিগারটা বাড়ছে।

তিনি বলেন, মাদক এমনই এক সর্বনাশা নেশা যাতে আমাদের যুব সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনাকে ঘিরেই আমাদের সর্বাত্মক কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিয়েছি। আমরা যৌথ তালিকা করে দেখছি কারা এর সঙ্গে জড়িত। তালিকার ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। আর যেখানে অবৈধ ব্যবসা তখনই অবৈধ অস্ত্রের লেনদেন হয়। অবৈধ ব্যবসা ও অপরাধী ধরতে গিয়ে কোন কোন জায়গায় আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী বাধার সন্মুখীন হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে আক্রমণ করে বসে। সেগুলো প্রতিহত করছি।

চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রীকে গ্রামগঞ্জে দু’হাত তুলে ধরে মোনাজাত করা হচ্ছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি গ্রামে-গঞ্জে যাচ্ছি। গ্রামের প্রত্যেক জায়গাতে সবাই দুই হাত তুলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করছেন। তারা বলছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন সেটা যেন অব্যহত থাকে। এই অভিযান যেন বন্ধ না হয়।