২০ জুলাই ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রিজম্যানরা ফরাসী সৌরভ ছড়াবে বিশ্বকাপ জিতে...

গ্রিজম্যানরা ফরাসী সৌরভ ছড়াবে বিশ্বকাপ জিতে...

রুমেল খান ॥ ফুটবলের জনক হতে পারে ইংল্যান্ড, তবে বিশ্ব ফুটবলে আলাদা একটি অবস্থান, ঐতিহ্য এবং তাৎপর্য আছে ফ্রান্সের। বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে এই যে আজ পৃথিবীজুড়ে এত উন্মাদনা, এই বিশ্বকাপ আসর শুরুর স্রষ্টা কিন্তু একজন ফরাসী! তার নাম জুলেরিমে। তার প্রচেষ্টাতেই ১৯০৪ সালে গঠিত হয় ফিফা। ১৯০৬ সালেই জুলেরিমে সিদ্ধান্ত নেন ওই বছরই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম আসরটি। তবে অংশ নেয়া দেশগুলোর হাতে এত অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় দল গঠন করা সম্ভব ছিল না। তাই ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ১৯০৬ সালে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ২৪ বছর দেরি করে আয়োজিত হয় প্রথম বিশ্বকাপের আসর। ফিফার প্রথম প্রেসিডেন্ট জুলেরিমের নামানুসারে বিশ্বকাপের নামকরণ করা হয় ‘জুলেরিমে ট্রফি।’

অথচ দুর্ভাগ্যের ব্যাপারÑ জুলেরিমের সেই ফ্রান্স প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি জিততে সময় লাগিয়ে ফেলে দীর্ঘ ৬৮ বছর। নিজ দেশে অনুষ্ঠিত সেই আসরে ফাইনালে পরাশক্তি ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছিল জিদান-অঁরির ফ্রান্স। ২০০৬ সালে (জার্মানিতে অনুষ্ঠিত) আবারও সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করার একেবারে কাছকাছি চলে গিয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু জিদানের সেই ‘ঢুস’-এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে নীল বেদনায় আচ্ছন্ন হয়েছিল ‘দ্য ব্লুজ’রা।

দীর্ঘ একযুগ পর সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আরেকটি সুযোগ পেয়েছে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বরে থাকা ফ্রান্স। ইতোমধ্যেই সেমিফাইনালে তারা এই আসরের ‘ডার্ক হর্স’ বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে টিকেট কেটেছে স্বপ্নের ফাইনালের। আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে এই চূড়ান্ত মহারণ। প্রতিপক্ষ এখনও ঠিক হয়নি (রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় সেমির ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচটি তখনও শুরু হয়নি) অথচ তার আগেই ফরাসী গণমাধ্যমগুলো আগেভাগেই ভবিষ্যদ্বাণী করে ফেলেছেÑ ফ্রান্সই জিততে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। তাদের দৃঢ়বিশ্বাসÑ গ্রিজম্যানরাই ফরাসী সৌরভ ছড়িয়ে দেবেন বিশ্বকাপ জিতে।

তাদের প্রকাশিত শিরোনামগুলো পড়লেই সেটা পরিষ্কার হবে। যেমন ব্রডকাস্টার টিএফ ওয়ান বলেছে, ‘ব্রাজিলের মারিও জাগালো এবং জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের সমকক্ষতা অর্জন করতে যাচ্ছেন দিদিয়ের দেশম।’

‘লেস ব্লিউসরা (ফ্রান্স) লেজ গুটিয়ে দিয়েছে রেড ডেভিলদের (বেলজিয়াম)। তারা এখন বিশ্বকাপ জেতার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেছে।’ গণমাধ্যম পার্সিয়ানের উদ্ধৃতি।

‘ইংল্যান্ড কিংবা ক্রোয়েশিয়া... প্রতিপক্ষ হিসেবে ফাইনালে যেই আসুক না কেন, ফ্রান্সের দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতার ক্ষেত্রে তা মোটেও বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।’ দ্য ইনক্রিডেবলের শিরোনাম। ‘স্পোর্টস ডেইলি এল’ ইকুপের হেডলাইন, ‘আমাদের জিনেদিন জিদান নেই, কিন্তু আছে দলকে চ্যাম্পিয়ন করানোর মতো ১১ ফুটবলার।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মারকন তার টুইটারে লিখেছেন, ‘আমরা এখন ফাইনালে। শিরোপাটা আমাদের ঘরে আসছে রবিবার।’

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত শক্তি ফ্রান্স। এ নিয়ে তারা বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলেছে পঞ্চদশবারের মতো। ফাইনাল খেলে দু’বার। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে একবার (১৯৯৮)। রানার্সআপ হয়েছে একবার (২০০৬)। তৃতীয় হয়েছে দু’বার (১৯৫৮ এবং ১৯৮৬)। চতুর্থ হয়েছে একবার (১৯৮২)। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়েছে দু’বার (১৯৩৮ এবং ২০১৪), প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছে ছয়বার (১৯৩০, ১৯৫৪, ১৯৬৬, ১৯৭৮, ২০০২ এবং ২০১০)। এ পর্যন্ত মূলপর্বে তারা খেলেছে ৬৫ ম্যাচ। জিতেছে ৩৩, ড্র করেছে ১৩ এবং হেরেছে ১৯ ম্যাচে। ১২১ গোল করার বিপরীতে হজম করেছে ৭৫ গোল। কোন সন্দেহ নেই, বেশ ঈর্ষণীয় পরিসংখ্যান। কিন্তু এসব কোন কাজেই আসবে না যদি তারা এবার চ্যাম্পিয়ন হতে না পারে। তার কারণ এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শিরোপা জেতার ব্যাপারে বেশ উচ্চ ধারণাই পোষণ করেছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। তাদের ধারণাকে সঠিক প্রতিপন্ন করেই এ পর্যন্ত বেশ ভালভাবেই ‘ফরাসী-সৌরভ’ ছড়িয়ে এসেছে দিদিয়ের দেশমের দল। ‘সি’ গ্রুপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে তারা। হারায় অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ এবং পেরুকে ১-০ গোলে। গোলশূন্য ড্র করে ডেনমার্কের সঙ্গে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ৪-৩ গোলে হারায় দুইবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। কোয়ার্টারে হারায় দুইবারের শিরোপাধারী উরুগুয়েকে ২-০ গোলে। সেমিতে পৌঁছায় ২০০৬ আসরের পর। সেখানে হারায় বেলজিয়ামকে।

শিরোপা জিততে চাই আর একটি মাত্র জয়। সেটি কী ১৫ জুলাই কুড়িয়ে নিয়ে ফরাসী-সৌরভ ছড়াতে পারবে দেশমের শিষ্যরা?