১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লিটনের প্রচারে ঐক্যবদ্ধ সবাই, বুলবুলের সঙ্গে শুধু মিনু-মিলন

লিটনের প্রচারে ঐক্যবদ্ধ সবাই, বুলবুলের সঙ্গে শুধু মিনু-মিলন

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে শুরুতেই জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। রাজশাহীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দুই প্রার্থীই সমানে নেমেছেন ভোটের মাঠে। প্রতিশ্রুতির ঝুড়ি নিয়ে ভোট চাইছেন তারা। লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও আধুনিক রাজশাহী গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামন লিটন। আর সুযোগ পেলে ক্লিন সিটি, হেলদি সিটি গড়ার অঙ্গীকার দিচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ভোটের প্রচারে লিটনের সঙ্গে ১৪ দলীয় জোটের নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবীরা সমানে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে এ ক্ষেত্রে উল্টো বুলবুল। তার সঙ্গে রয়েছেন শুধুমাত্র নগরের শীর্ষ দুই বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু ও শফিকুল হক মিলন। শরিক দলেরও কাউকে এখনও মাঠে নামাতে পারেননি বুলবুল।

এ দিকে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুধবার সকাল থেকে মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের জনবহুল সাহেববাজার আরডিএ মার্কেট এলাকায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করেন। নিজেকে ‘স্বপ্নশ্রমিক’ উল্লেখ করে নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন তিনি। তার স্বপ্নের কথা আধুনিক রাজশাহী গড়ার পাশাপাশি বিপুল কর্মস্থান, পরিবেশ বান্ধব নগর আর মানুষের সর্বোচ্চ নাগরিক সেবা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করছেন লিটন। ভোটারদের হাতে রাজশাহীর উন্নয়নে মহাপরিকল্পনার নির্বাচনী ইশতেহারের কপি তুলে দেন লিটন। এ সময় আরডিএ মার্কেটের এক নারী ব্যবসায়ী লিটনকে একটি পিতলের তৈরি নৌকা উপহার দেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা খায়রুজ্জামান লিটনকে সমর্থন দেন, তার পক্ষে ভোট চান এবং নৌকার বিজয়ের জন্যে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

গণসংযোগকালে মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ‘সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষ থেকে তার পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙ্গাতে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, রাতারাতি সব জায়গা দখল করে সরকার দলীয় প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন টাঙ্গানো হয়েছে। তারগুলো লাগানোর কোন জায়গা রাখা হয়নি।

এ সময় তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ধানের শীষে ভোট দিতে নিষেধ করাসহ ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য তার সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানোসহ হয়রানি করা হচ্ছে। নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের চাপ প্রয়োগ করা শুরু করেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে প্রায় ৭০ হাজার ভোটে তিনি জয়লাভ করবেন’ বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বুলবুল বলেন এবার সুযোগ দিলে তিনি ক্লিন ও হেলদি সিটি উপহার দেবেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দশ মোবাইলকোর্ট ॥ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। রাসিকের ত্রিশ ওয়ার্ডে নির্বাচনী আচরণবিধি রক্ষায় এবং অপরাধ প্রতিরোধে সর্বক্ষণিকভাবে মোবাইলকোর্ট পরিচালনায় ইতোমধ্যে দশজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের দিন মঙ্গলবার থেকে তারা কাজ শুরু করেছেন। নির্বাচন পরবর্তী ১ আগস্ট পর্যন্ত তারা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।

সবাই ভোটের মাঠে ॥ গত মঙ্গলবার প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন প্রতীক হাতে নিয়ে। নগরীর সর্বত্র এখন শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোস্টার, লিফলেট। দিনরাত ভোটারদের কাছে ছুটে চলেছেন তারা। সবার ঝুলিতেই থাকছে ভোটারদের জন্য নানা প্রতিশ্রুতির বয়ান। দুপুরের পর থেকে শুরু হচ্ছে প্রার্থীদের মাইকের আওয়াজ।

ভোটের মাঠে ‘হাতি নিয়ে সাকি’ ॥ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী এ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদের (হাতি মার্কা) নির্বাচনী প্রচারে যোগ দিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। বুধবার বেলা ১১টায় জোনায়েদ সাকিকে সঙ্গে নিয়ে নগরীর ভুবনমোহন পার্কের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করেন।