২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কৃষি শুমারি

মাত্র এক লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন ও ১৬ কোটির বেশি মানুষের এই মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশের পথে অগ্রসর দেশে সবচাইতে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জিত হয়েছে কৃষিক্ষেত্রে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও ক্রমহ্রাসমান কৃষি জমির বিপরীতমুখী চাপ থাকা সত্ত্বে¡ও বাংলাদেশের বর্তমান খাদ্যশস্য উৎপাদন স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২-৭৩ সালের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়েছে। ধানের উৎপাদন তিনগুণ, গম দ্বিগুণ, সবজি পাঁচগুণ ও ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে দশগুণ। এমনকি ধান, গম ও ভুট্টায় বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে এক হেক্টরে গড়ে পাঁচ দশমিক ১২ টন ভ্ট্টুা উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশে এ হার ছয় দশমিক ৯৮ টন। বিশ্বে প্রতি হেক্টরে খাদ্যশস্য উৎপাদনের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই আছে বাংলাদেশের নাম। এভাবে প্রধান খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ। দেশে কৃষি খাতের অবস্থা ও অবদান সন্ধানে কৃষি শুমারি পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতি দশ বছর পর পর এই শুমারি হয় শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ে। এ শুমারির মাধ্যমে কৃষি খাতে শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপখাতগুলোর পরিবার পর্যায়ে কৃষি খামারের সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করে সঙ্কলন ও প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করা হবে। সেই সঙ্গে এ খাতে দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামোগত কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সে চিত্রও উঠে আসবে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় এ শুমারি পরিচালিত হবে। যাতে শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সম্পর্কে সম্যক তথ্য অবহিত হওয়া যাবে। এ তথ্য থেকেই পরবর্তী অগ্রগতির কার্যক্রম ও পরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব হবে।

দেশে পঞ্চমবারের মতো কৃষি শুমারি পরিচালনা হচ্ছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যেই তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করবে। এ লক্ষ্যে এলাকাও নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের অর্ধেক এলাকাব্যাপী এটি চলবে মাসখানেক। এরপর দ্বিতীয় ধাপে আরও এক মাস অন্য এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দেশের সকল থানা ও কৃষি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান হতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বেঞ্চমার্ক তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ২০১৭ সালে একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪৫ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ শুমারির কাজ চলবে। শুমারির মাধ্যমে শস্য, মৎস্য, প্রাণিসম্পদসহ পোল্ট্রি সাব-সেক্টরেও বড় পরিসরে পর্যায়ক্রমিক পরিসংখ্যান তৈরি করা হবে। এ ছাড়া কৃষি খাতের কাঠামোগত পরিবর্তন সংক্রান্ত উপাত্ত, ভূমি ব্যবহার, চাষের প্রকার ও ফসল বৈচিত্র্যের পরিসংখ্যান, সেচ, কৃষি উপকরণ ও যন্ত্রপাতি সম্পর্কিত উপাত্ত থাকবে। দেশের সব সাধারণ খানা (পরিবার) এবং কৃষি বিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক থানায় শুমারি পরিচালিত হবে। তালিকায় মোট পরিচালনাধীন জমির পরিমাণ, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল ও মহিষ ইত্যাদির সংখ্যা এবং খানা মৎস্য চাষ ও মৎস্য শিকারে জড়িত কি না এ বিষয়ক তথ্য থাকবে।

বাংলাদেশে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে কৃষি খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ জীবনে দারিদ্র্য দূরীকরণ জাতীয় পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য, যা কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। সরকারের নীতি নির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে কৃষি জমির পরিমাণ, জমির ব্যবহার, কৃষক, শস্য উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদন এবং প্রাণিসম্পদ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা প্রধানত কৃষি শুমারির মাধ্যমেই পাওয়া যায়। পঞ্চম এই কৃষি শুমারিতে সঠিক তথ্য সন্নিবেশিত না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পরিকল্পনা গ্রহণ তথা দেশ। প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি গ্রহণ করা না হলে বিপর্যয় ঘটতে বাধ্য, যা কোন ভাবে কাম্য নয়। প্রকল্প নিয়ে নয়-ছয় হোক এটা দেশবাসী চায় না।

নির্বাচিত সংবাদ