২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের আক্ষেপ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এবারও হলো না। শেষ চারেই থেমে গেছে জয়রথ। বেলজিয়ামের স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান করে রাশিয়া বিশ্বকাপে ফরাসী সৌরভ ছড়িয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। যার ফলে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেরা সাফল্য ‘সেমিফাইনাল’ থেকেই বিদায় নিতে হলো এডিন হ্যাজার্ড-কেভিন ডি ব্রুইন কিংবা রোমেলু লুকাকুদের। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠতে না পারার দুঃখটা আরও বেড়ে গেল বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের।

দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়ে এমন হারের পর চরম হতাশ বেলজিয়ামের কোচ। সে জন্য ভাগ্যকেই দোষারোপ করলেন রবার্তো মার্টিনেজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল না। এ কারণেই আবারও কালো ঘোড়া (ব্ল্যাক হর্স) হয়ে থাকতে হলো। সত্যি কথা বলতে ম্যাচটা খুবই ক্লোজ (প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ) ম্যাচ ছিল। এতে আমরাই চাপ সৃষ্টি করেছি বেশি। তবে ভাগ্য অনুকূলে না থাকায় হেরে গেছি। বল দখলের লড়াইয়ে আমরাই এগিয়ে ছিলাম। অসংখ্য আক্রমণ দাগিয়েছি। তবে কাক্সিক্ষত সাফল্য পায়নি। এ জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে ফ্রান্সের ডিফেন্সকে। তাদের রক্ষণ খুবই জমাট ছিল। তারা আমাদের প্রচুর সম্মান দেখিয়েছে। ফরাসীরা আগে থেকেই সতর্ক ছিল। এ কারণেই গোলমুখে আমরা একটু জায়গাও পায়নি। সর্বোপরি দুর্ভাগ্য বলা ছাড়া আর কিছুই নেই।’ তবে নিজের শিষ্যদের পারফর্মেন্সে দারুণ সন্তুষ্ট ৪৪ বছর বয়সী এই কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলেদের জন্য গর্বিত। তারা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভাল খেলেছে। ফ্রান্সের জন্য শুভকামনা রইল। আশাকরি তারা শিরোপা নিয়েই ঘরে ফিরবে।’

রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বেলজিয়ামের নজরকাড়া পারফর্মেন্সে মুগ্ধ হয়েছে গোটা ফুটবল দুনিয়া। গ্রুপপর্বে টানা তিন জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা। শেষ ষোলোতে জাপানের বিপক্ষে ২ গোলে পিছিয়ে থেকেও রোমাঞ্চক জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় তারা। যেখানে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকেট কাটে হ্যাজার্ড-লুকাকুরা। ফ্রান্সের কাছে শেষ চারের কঠিন লড়াইয়ে হেরে গেলেও বেলজিয়ামের এমন পারফর্মেন্সে মুগ্ধ-বিমোহিত দেশটির প্রধানমন্ত্রী চার্লস মাইকেল। ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের শেষেই তিনি টুইটারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেন, ‘সাবাশ রেডডেভিলস। অসাধারণ পারফর্মেন্স উপহার দিয়েছ তোমরা। সেমিফাইনালের শেষ মিনিট পর্যন্ত রোমাঞ্চিত ছিলাম।’ ২৭ বছর বয়সী এ্যালিস কোর্ডিয়ের বলেন, ‘আমরা খুবই হতাশ। ফ্রান্সের কাছে হারাটা আমাদের জন্য খুবই খারাপ হয়েছে। আমি বলব এটা পুরো বেলজিয়াম জাতির জন্যই দুর্ভাগ্যজনক। তবে বেলজিয়ান হিসেবে আমরা এখনও গর্বিত।’

এদিকে হারের পর থেকেই ফ্রান্সের সমালোচনা করছেন বেলজিয়ামের ফুটবলাররা। বিশেষ করে গোলরক্ষক থিবাউ কুর্তোয়া তুলোধুনো করেছেন ফ্রান্সের ডিফেন্সিভ ফুটবলের। সেই সুরে তাল মিলিয়ে বেলজিয়ামের অধিনায়ক এডিন হ্যাজার্ডও সমালোচনার তীর ছুড়ে দিয়েছেন ব্লুজদের দিকে।

ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল দুই দলই। খেলায় গতিও ছিল অনেক। কিন্তু গোল করে ফ্রান্স এগিয়ে যাওয়ার পরে তারা গতি কমিয়ে দেয়। আর এ নিয়েই খেপেছেন হ্যাজার্ড। ফ্রান্স যেভাবে খেলে জিতেছে, এভাবে খেলার চেয়ে বেলজিয়ামের হয়ে হারাই তিনি ভাল মনে করছেন। এ প্রসঙ্গে হ্যাজার্ড বলেন, ‘ফ্রান্সের হয়ে এভাবে খেলে জেতার চেয়ে বেলজিয়ামের হয়ে হারকেই আমি বেছে নেব। তবে তাদের রক্ষণভাগ অনেক ভাল কাজ করেছে। আমরা তাদের কোন দুর্বলতা খুঁজে পাইনি। গোল করার সুযোগগুলো আমরা কাজে লাগাতে পারিনি।’

নির্বাচিত সংবাদ