১৭ জুলাই ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফরাসীদের জয় ফুটবলের লজ্জা ॥ কুর্তোয়া

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকেট কেটেছিল বেলজিয়াম। যার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন অলরেডসদের গোলরক্ষক থিবাউ কুর্তোয়া। কিন্তু শেষ চার থেকেই বিদায় নিয়েছে রবার্তো মার্টিনেজের দল। মঙ্গলবার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বেলজিয়াম।

ফরাসীদের বিপক্ষে ম্যাচেও দুর্দান্ত পারফর্মেন্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবাউ কুর্তোয়া। কিন্তু তারপরও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি তার দল। তবে সেমিফাইনালের শেষে ফরাসী ফুটবলের কড়া সমালোচনা করেছেন কুর্তোয়া। তার মতে, সেমিফাইনালে ফরাসীরা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেছে। যা ফুটবলের জন্যই চরম লজ্জাজনক। এ প্রসঙ্গে ম্যাচের শেষে বেলজিয়ান এক টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে চেলসির এই গোলরক্ষক বলেন, ‘ম্যাচটা খুব হতাশাজনক ছিল। ফ্রান্স যেন খেলার উদ্দেশ্যেই মাঠে নামেনি। এক গোল করে ফেলার পর ৪০ মিটার দূর থেকে ১১ জন নিয়ে রক্ষণকাজে ব্যস্ত ছিল তারা। এদিন তারা প্রতিআক্রমণে এমবাপের গতিকে কাজে লাগাতে চেয়েছে, সেটা ঠিক আছে। কেননা এটা তাদের অধিকার। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো আমরা আমাদের চেয়ে ভাল কোন দলের কাছে হারিনি। আমরা এমন একটা দলের কাছে হেরেছি যারা আসলে কিছু খেলে নাই, কেবল রক্ষণ নিয়ে পড়ে ছিল।’

কুর্তোয়া এ সময় কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা ফ্রান্স-উরুগুয়ের ম্যাচটাকেও সামনে তুলে এনেছেন উদাহরণ হিসেবে। তিনি বলেন, ‘উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটা দেখুন, একটা গোল পেলো কর্নার থেকে, আরেকটা গোলকিপারের ভুলে। আজও গোল করেছে কর্নার থেকে। এটা ফুটবলের জন্যই লজ্জাজনক যে বেলজিয়াম এই ম্যাচটা হেরেছে।’ ফ্রান্সের খেলার ধরনের সমালোচনা করতে যেয়ে কুর্তোয়া উদাহরণ দেন ব্রাজিলের ফুটবলের ধরনের। শুধু তাই নয়, ফ্রান্সের চেয়ে ব্রাজিলের কাছে হারাই ভাল ছিল বলে মনে করেন তিনি। এই নিয়ে কুর্তোয়া বলেন, ‘ফ্রান্সের চেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আমাদের ব্রাজিলের কাছে হারলেই ভাল হতো। তারা অন্তত আসল ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছে।’

কুর্তোয়ার বয়স যখন মাত্র ১৯ বছর। তার খেলা দেখে ২০১১ সালে মাত্র আট মিলিয়ন ইউরোতে তাকে কিনে নেয় চেলসি। মাঝে ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ধারে এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদেও খেলেন কুর্তোয়া। চেলসি চেয়েছিল তার ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বাড়াতে। ২০০৯-১০ মৌসুমে বেলজিয়াম অনুর্ধ-১৮ দলেও গোলরক্ষক হিসেবে খেলেছেন, ২০১১ সাল থেকে বেলজিয়াম জাতীয় দলের নিয়মিত গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এবারের বিশ্বকাপে সব আলোই কেড়ে নিয়েছেন নিজের ওপর। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে তো প্রায় একাই হারিয়ে দেন কুর্তোয়া। অথচ তাকে ভলিবল খেলোয়াড় বানাতে চেয়েছিলেন তার বাবা-মা। কারণ তার বাবা থিওরি কুর্তোয়া আর মা গিটা কুর্তোয়া দু’জনই ছিলেন বেলজিয়াম জাতীয় ভলিবল দলের খেলোয়াড়। তাই তারা চেয়েছিলেন ছোট থেকে ভলিবলের সঙ্গেই সখ্য গড়ে উঠুক, হয়ে উঠুক পুরোদস্তুর একজন ভলিবল খেলোয়াড়।