১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই বাংলাদেশের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারাতেই সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে। আজ দুই দলের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে। জ্যামাইকার কিংসটনের সাবিনা পার্কে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ম্যাচটি শুরু হবে। ম্যাচটিতে হারলেই হোয়াইটওয়াশ হবে বাংলাদেশ। আর জিতলে আসবে সিরিজে সমতা।

কী করবে বাংলাদেশ? দলের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ জানান, ‘প্রথম টেস্ট অবশ্যই আমাদের প্রত্যাশা মতো ভাল যায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব ভাল খেলেছে এবং জিতেছে। তবে আরেকটি টেস্ট আছে। আমাদের সুযোগ আছে ঘুরে দাঁড়ানোর। আশাকরি আমরা যতটা পারি ভাল খেলব। উন্নতি করতে পারব। অবশ্যই এটি বড় এক পরীক্ষা। দেশের বাইরে আমাদের রেকর্ড ভাল নয়। আমরা চেষ্টা করব সেটি ভাল করার।’

খেলা জ্যামাইকায়। এখানেই ওয়ালশ জন্ম নিয়েছেন। বেড়ে উঠেছেন। সেখানেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলা। ওয়ালশ মনে করছেন, ‘এ্যান্টিগার (প্রথম টেস্ট ভেন্যু) মতোই উইকেট আশাকরি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য তো কার্যকর হয়েছে। সবুজ সিমিং ও বাউন্সি উইকেট। ভাল লাগছে যে ওয়েস্ট ইন্ডিজে সেসব উইকেট আবার ফিরে আসছে। মনে হয়, একটু দ্রুতই অবসর নিয়ে ফেলেছি।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘ঘরে ফিরে ভাল লাগছে। টেস্ট ম্যাচটির জন্য মুখিয়ে আছি। এখানেও আশা করছি উইকেটে ঘাস থাকবে, বাউন্স থাকবে।’

জ্যামাইকায় পেসারদের জ্বলে ওঠা দেখতে চান ওয়ালশ, ‘আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে। ধারাবাহিকভাবে ভাল বোলিং করতে হবে। আমাদের ফাস্ট বোলারদের জন্য আরেকটি ভাল সুযোগ। স্যাবাইনা পার্কে কিভাবে বল করতে হয়, এখানকার যতটুকু আমি জানি, ওদের অবশ্যই জানাব। আশাকরি মাঠে গিয়ে ওরা সেগুলোর বাস্তবায়ন করতে পারবে।’

প্রথম টেস্টের প্রথম সকালেই ৪৩ রানে গুটিয়ে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষ পর্যন্ত আড়াইদিনেও যায়নি। হেরে যায় বাংলাদেশ। এবার বাংলাদেশ দল ভাল কিছু করার চেষ্টায় আছে। নতুন কোচ স্টিভ রোডস ও টেস্টে নতুন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের শুরুটা ভাল হয়নি। তবে টেস্ট সিরিজের শেষটা যেন ভাল হয় সেদিকেই মনোযোগী সবাই।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে লজ্জা মিলেছে। লজ্জার হার মিলেছে। এবার ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবালই যেমন বলেছেন, ‘আশা করব আগামী টেস্ট ম্যাচে (দ্বিতীয় টেস্ট) এরচেয়ে ভাল পারফর্মেন্স করার।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমার ও আমাদের দলের জন্য এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখা। আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা ভাল করতে পারি। জ্যামাইকাতে আমাদের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু। দলে যে-ই সুযোগ পাই না কেন, আশাকরি সবাই চেষ্টা করবে বড় কিছু করতে। আমরা দল হিসেবে আপনাদের একটা ভাল টেস্ট ম্যাচ উপহার দেয়ার চেষ্টা করব।’

প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসের দশাও হতে পারত। কিন্তু উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান রক্ষা করেছেন। ব্যাট হাতে ৬৩ রানের ইনিংস খেলেছেন। তাতে ১৪৪ রানে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। তবুও হার হয় এক ইনিংস ও ২১৯ রানের ব্যবধানে। প্রথম ইনিংসের দুঃষহ স্মৃতিই পিছু ছাড়েনি। সোহানের ব্যাটিং থেকে শিক্ষা নিতে চান তামিম। বলেছেন, ‘প্রথম টেস্টে সোহান যেভাবে ব্যাট করেছে এবং লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সহায়তা পেয়েছে, তাতে এটা প্রমাণ হয় যে, আমরা যদি উইকেটে টিকে থাকতে পারি তাহলে ভাল স্কোর করা সম্ভব।’ টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে হলে ভাল স্কোর করা, ভাল ব্যাটিং করার বিকল্প পথ খোলা নেই বাংলাদেশের। তা এখন বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানরা করতে পারলেই হলো। তা না করতে পারলেই আবারও টেস্ট হার হতে পারে। আর টেস্ট হার হলে হোয়াইটওয়াশ হবে বাংলাদেশ। হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর জন্যই খেলতে নামবে আজ বাংলাদেশ।