২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘দেশের ইতিহাসে বর্তমান সংসদই ছিল সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত’

‘দেশের ইতিহাসে বর্তমান সংসদই ছিল সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত’

সংসদ রিপোর্টার ॥ বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ বর্তমান সংসদ নিয়ে কটাক্ষকারীদের সমালোচনা করে বলেন, গত নির্বাচনে অনেক ঝুঁকি নিয়ে অংশগ্রহণ করতে হয়েছে। বাংলাদেশে এই প্রথম বর্তমান সংসদ সবচেয়ে বেশি কার্যকর ছিলো। এই সংসদের মেয়াদে ১৫৭টি বিল পাস করা হয়েছে। কেউ যদি বলে এই সংসদ কার্যকর নয়, সেটি মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই না। এই সংসদ অত্যন্ত প্রাণবন্ত ছিলো।

এর আগে কোনদিন এমন প্রাণবন্ত সংসদ কেউ দেখেনি। আগে সংসদে অনেক আজেবাজে কথা, কাঁদাছোঁড়াছুড়ি হতো। সেই অবস্থা এখন আর নেই। সংসদ কার্যকর না হলে সিপিএ সভাপতি ও আইপিইউ সভাপতি বাংলাদেশের দুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় কীভাবে?

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার চলতি বাজেট অধিবেশনের সমাপনি বক্তব্যে অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ এসব কথা বলেন।

রওশন এরশাদ বলেন, জনগণ আশা করে বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি কাজ করবে। তাদের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। প্রতিবছর দেশ থেকে বিপুল সংখ্যেক রোগী বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আমাদের চলে যাচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা ও নার্সের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বেকার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বেকার সঙ্কটের সমাধান করতে না পারলে কাংখিত সুফল আসবে না।

তিনি বলেন, দেশে সাড়ে ৫ কোটি লোক বেকার। সরকারি চাকুরি সীমিত। তাই শিল্প কল-কারখানা দ্রুত তৈরি করতে হবে। এতে বিপুল সংখ্যেক বেকারের চাকুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-অধিদফতরেরও বিপুল পদ শুন্য রয়েছে। এসব শূণ্যপদ পূরণ করা কেন হচ্ছে না? বিরোধী দলের নেতা কোটা প্রথাটি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মাতৃহৃদয় রয়েছে। তিনি দেশকে ও দেশের জনগণকে ভালোবাসেন। অর্থবছর পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নত দেশেও অর্থবছর পরিবর্তন করা হয়েছে। যখন অর্থ ছাড় শুরু হয় তখনই বৃষ্টি মৌসুম শুরু হয়। কোন কাজ হয় না। অর্থবছর পরিবর্তন করলে অনেক সুফল আসবে।

তিনি বলেন, ব্যাংক লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বাজেটে উল্টো তাদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক সেক্টরে চলছে অবাধ লুটপাট, জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর্থীকখাতের নৈরাজ্য রোধ করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই হবে। এই সঙ্কট ভয়াবহ আকার ধারণ না করার আগেই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। তিনি বলেন, দারিদ্র্যের হার কমলেও ৭০ ভাগ লোক অপুষ্টিতে ভুগছে।

সারাবছর মাদক ও ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কীভাবে হবে? খাদ্য ভেজাল, পানিতে ভেজাল, নদীগুলো দূষণে শেষ হয়ে গেছে। বায়ু দুষণে মাত্রারিক্ত। যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতেই হবে। যুব সমাজের কর্মসংস্থান না হলে তারা মাদকে জড়িয়ে পড়বেই। শুধু একটা পদ্মা সেতু দেখিয়ে কোন লাভ হবে না, দেশের মানুষ চাকুরি চায়, ভেজালমুক্ত খাদ্য চায়। মানসম্মত শিক্ষা চায়।

তিনি বলেন, দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ জাতি হিসেবে আমাদের জন্য নিঃসন্দেহ গৌরবের। ক্রিকেট মহিলারা প্রথম শিরোপা পেয়েছে। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ প্রতিটি বিভাগে দিয়ে রাজধানীর উপর চাপ অনেক কমে যাবে। কারণ ঢাকায় জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে।

নির্বাচিত সংবাদ