১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীতে সিআইডির হাতে প্রতারক চক্রের গ্রেফতার ১৩

রাজধানীতে সিআইডির হাতে প্রতারক চক্রের গ্রেফতার ১৩

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চাকুরী দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক চক্রের ১৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। চক্রটির হাতে ইতোমধ্যেই অন্তত ৫০ জন প্রতারিত হয়েছেন। প্রতারিতদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে অন্তত দেড় কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডির সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, সানলাইট গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আদনান তালুকদার ওরফে আল আমিন (৪০), পরিচালক খন্দকার মো. আলমগীর ওরফে মাসুম (৪২) ও মো. জহুরুল হক ওরফে মো. শাহজাহান মিয়া (৪২), সৈয়দ সাহরিয়ার সোহাগ ওরফে মো. আবু শাফি তালুকদার শাফিন (৩৮), প্রতিষ্ঠানটির গণসংযোগ কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ ওরফে মো. সবুজ মিয়া (৩২), মো. রহমত উল্লাহ সৌরভ ওরফে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৮), মো. হাফিজুর রহমান আল মামুন ওরফে মামুন লস্কর (৪০), মো. ইনছান আলী (৩৭), মো. সিরাজুল ইসলাম (৩৬), মো. নাদিম উদ্দিন (৩৮), মো. মেহেদী হাসান (৩৫), মো. হানিফ কাজী (৩২) ও মো. মামুনুর রশিদ (৩০)। চক্রের মূলহোতা আল আমিন।

সিআইডি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলছেন, চক্রটি গণমাধ্যমে চোখ ধাঁধানো চাকুরীর বিজ্ঞাপন দেয়। সেখানে মোটা অঙ্কের বেতনের প্রলোভন দেখায়। ইন্টারভিউ শেষে চাকরি হয়ে গেছে জানিয়ে নির্ধারিত তারিখে যোগদান করতে বলা হয়। এরপর সিকিউরিটি মানি, পেনশন স্কিম এবং ব্যক্তিগত গাড়ি দেয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত জমা নেয়। এরপর তারা টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

চক্রটির টার্গেট অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা। ২০১৩ সাল থেকে চক্রটি এখন পর্যন্ত ফরচুন গ্রুপ অব কোম্পানীজ, রেক্সন গ্রুপ অব কোম্পানীজ, ইস্টার্ন গ্রুপ অব কোম্পানীজ, কেয়া গ্রুপ অব কোম্পানীজ, নেক্সাস গ্রুপ অব কোম্পানীজ, সানলাইট গ্রুপ অব কোম্পানীজ, ম্যাক্স ভিশন গ্রুপ অব কোম্পানীজ নামে বহু মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত চক্রটি অন্তত ৫০ জনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে দেড়কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য মিলেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা আছে। ইতোপূর্বে তারা র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।