১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘নারীর চোখে বিশ্ব দেখুন’: আয়েশা খানম

‘নারীর চোখে বিশ্ব দেখুন’: আয়েশা খানম

স্টাফ রিপোর্টার॥ নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। আইন কেন এভাবে তৈরি হয়েছে যে আইনের পরতে পরতে নারীকে ছোট করে দেখা হয়েছে। আইন দিয়ে যখন কোন কিছু দাঁড়া করানো হয় তখন তার বিরুদ্ধে কোন কিছু দাঁড়া করানো অনেক কঠিন। নারীর অধিকার মানবাধিকার আর এই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সমাজের গোটা কাঠামো, পাঠ্যসূচি, পোশাক অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হয় যা করা অনেক চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিসদেও সভাপতি আয়েশা খানম।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পরিচালিত ‘জেন্ডার, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ বিষয়ক অষ্টম সার্টিফিকেট কোর্সের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম এবং বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কোর্স পরিচালক সীমা মোসলেম।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদ সম্পাদক রীনা আহমেদ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত ‘জেন্ডার, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ বিষয়ক অষ্টম সার্টিফিকেট কোর্সটি তিনমাস ব্যাপি। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে জেন্ডার সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে জেন্ডার সংবেদনশীল মানবসম্পদ গড়ে তোলা। উক্ত কোর্সে এবছর ১৭ জন শিক্ষার্থ অংশগ্রহণ করে।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এবং বাংলাদেশ নারী আন্দোলন বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নারীর আত্ম আবিস্কার, আত্ম জাগরণ এবং আত্ম পরিচয়ের যে প্রচেষ্টা সেটা পরবর্তীতে নারী আন্দোলন, নারীবাদ সহ বিভিন্ন পরিচয়ে বিকশিত হয়। বিংশ শতাব্দির শেষে এসে বলা হল ‘‘নারীর চোখে বিশ্ব দেখুন’।

প্রাকৃতিক পরিচয়ের জন্য লিঙ্গের যে পরিচয় তার জন্য সমাজে নারী-পুরুষের ভিন্ন অবস্থান তৈরি হয়েছে। পরিবারে, সমাজে অর্থনীতি, রাজনীতি, দর্শন সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মাঝে এক ধরনের বিভাজন তৈরি হচ্ছে। মহিলা পরিষদ বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করছে। নারী আন্দোলন ইতিহাসকে চ্যালেঞ্জ করেছে কারণ নারীরা ইতিহাসে নেই। লিঙ্গীয় ভেদাভেদের জন্য নতুন দৃষ্টি নিয়ে নতুনভাবে নারীর প্রতি বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে।

নির্মাণ করা হয়েছে সামাজিক বৈষম্য। এটাকে আবার বিনির্মাণ করতে হবে। ইতিহাসের শক্তি নিয়ে, ইতিহাস থেকে জ্ঞান নিয়ে মহিলা পরিষদ সেই বৈষম্য দূর করার প্রচেষ্টা চলোচ্ছে চার দশকের অধিক সময় ধরে। তিনি বলেন, পরাধীনতার রুপটা পরিবারে, রাষ্ট্রে এবং সমাজে একেক জায়গায় একেক রকম। সব শেষে তিনি বলেন আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজে মানব সম্পদ তৈরি হবে এবং আমরা নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ সামজ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।

কোর্স পরিচালক ও সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ একটি আন্দোলনমুখী গণনারী সংগঠন। দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজ করে চলছে সংগঠনটি। সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মহিলা পরিষদ নারীর ক্ষমতায়নের কাজ করে যাচ্ছে। তারই একটি অংশ হিসাবে জেন্ডার সংবেদনশীল মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য এই জেন্ডার সার্টিফিকেট কোর্সের আয়োজন করা হয়। মহিলা পরিষদ মনে করে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি যতদিন পরিবর্তন না হচ্ছে, প্রচলিত গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হচ্ছে ততদনি সমাজে নারীর মানবাধিকর প্রতিষ্ঠা হবে না।

যতই পরিকল্পনা এবং আইন থাকুক না কেন জেন্ডার বিষয়ক জ্ঞান না থাকার অভাবে জেন্ডার সমতা সমাজে পতিষ্ঠিত হচ্ছে না। কাজেই তাত্ত্বিক ধারনা এবং নারী আন্দোলনের সাথে সম্মিলনের উদ্দেশ্যে এই কোর্সের আয়োজন করা। এই কোর্সের মধ্য দিয়ে যেন নারী-পুরুষের সতাপূর্ণ সমাজ গড়ার মানসিকতা তৈরি হয় সেই আহ্বান তিনি সকলকে জানান।

উক্ত অধিবেশন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অন্যতম সহ-সভাপতি ডা.ফওজিয়া মোসলেম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক শাহান কবির, অর্থ সম্পাদক দিল আফরোজ বেগম, প্রচার ও প্রকাশণা সম্পাদক সারাবন তহুরা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক বুলা ওসমান, সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি মাহাতাবুন্নেসা সংগঠনের সংগঠকবৃন্দসহ মোট ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচিত সংবাদ