২০ জুলাই ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেড়িয়ে আসুন বরিশাল

বরিশাল কীর্তনখোলা নদীর তীরে বেড়ে উঠা এক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যের শহর। লঞ্চের সাইলেনের শব্দে ঘুম ভাঙে এ শহরের। জীবিকার তাগিদে তীরে ভিড়ে অনেক ছোট, বড় স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয় মানুষের দিন। দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনের একটি মূল উৎস এই বৃহত্তর বরিশাল জেলা। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নদীবন্দর বরিশাল নদীবন্দর। বরিশাল নামকরণে রয়েছে নানা মতভেদ। ধারণা করা হয় এ জেলা প্রচুর পরিমাণ বড় বড় শাল গাছ জন্মাতো; আর শাল গাছ থেকেই ‘বরিশাল’ নামের উৎপত্তি।

কলসকাঠি জমিদার বাড়ি

জমিদারবাড়ি নামটি শুনলেই ভ্রমণপ্রিয়সীদের মনে যেন একটু ব্যতিক্রম অনুভূতি জাগে মনে। নতুন কিছুর দেখার জন্য মন আনচান করে। জমিদারদের রেখে যাওয়া স্থাপত্যশৈলি এমনিতেই সচরাচর আমাদের হৃদয়ে শিহরণ জাগিয়ে দিয়ে যায়। কলসকাঠি জমিদার বাড়ির জমিদাররা ছিল খুবই প্রতাপশালী। বিশে^র রায় চৌধুরী নামের একজন জমিদার ছিলেন খুবই প্রতাপশালী লোক। তিনিই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেন। পাকিস্তান শাসন আমলে সেখানকার কিছু জমিদার ভারতের মাটিতে পাড়ি জমান। জমিদারদের কালের সাক্ষী হয়ে কলসকাঠি জমিদার বাড়িটি এখনও ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তি ঘটায় সেখানে এখন জমিদারদের রেখে যাওয়া স্থাপত্যশৈলিটি এখন দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।

তাই দেড়ি না করে আজই ঘুরে আসুন জমিদার বাড়িটিতে।

কীর্তনখোলা নদী

নদীমাতৃক আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। দেশের আনাচে-কানাচে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য নদ-নদী। তেমনই এক বৃহত্তর নদী কীর্তনখোলা নদী। কীর্তনখোলা নদীটির শুরু হয়েছে বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদ হতে। গজালিয়ার কাছে গিয়ে নদীটি মিশেছে গাবখান খালে। নদীর সৌন্দর্য উপভোগে অনেকেই ছুটে আসেন কীর্তখোলার তীরে। নদীটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৬০ কি.মি.।

কীর্তনখোলা নদীর ওপরই বরিশাল নৌবন্দর অবস্থিত। যা কিনা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদীবন্দর। নদীবন্দর হওয়ার কারণে অনেকই এ স্থানটি দেখার জন্য ছুটে আসেন বরিশাল। নদীর অপার সৌন্দর্য বিমোহিত করে ভ্রমণপ্রিয়সী দর্শনার্থীদের। প্রতিদিনই নদী তীরে অসংখ্য মানুষের ভিড় জমে থাকে।

দুর্গাসাগর দীঘি

‘দুর্গাসাগর’ নামের সঙ্গে সাগর কথাটি অন্তর্ভুক্ত থাকলে আদৌ এটি কোন সাগর নয়। ১৭৮০ খ্রি. চন্দ্রদ্বীপ পরগনার তৎকালীন রাজা শিবনারায়ণ এলাকাবাসীর পানির সঙ্কট নিরসনে মাধবপাশায় একটি বৃহৎ দীঘি খনন করেন। শিবনারায়ণের মায়ের নাম দুর্গাদেবী। দুর্গাদেবীর নামানুসারেই দীঘিটির নামকরণ করা হয় ‘দুর্গাসাগর দীঘি’। দীঘিটির তিন দিকে ঘাটলা এবং দীঘির ঠিক মাঝখানে রয়েছে বিশালাকার ভূমির উপর একটি টিলা। এক সময় নাকি দুর্গাসাগরে প্রচুর পরিমাণ অতিথি পাখির আনাগোনা ছিল। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পরবর্তী সময়ে স্থানটিতে পাখিদের আনাগোনা একেবারেই কমে গেছে। তবে অনেক দর্শনার্থীই এখনও স্থানটি দেখার জন্য ছুটে আসেন। বরিশালের বাবুগঞ্জে দুর্গাসাগর একটি চমৎকার, দৃষ্টিনন্দন স্থান।

শাপলার রাজ্যে ‘সাতলা’

লাল আর সবুজের মাখামাখি দূর থেকেই চোখে পড়বে। কাছে গেলে সবুজ কেটে গিয়ে লালের অস্তিত্ব আরও গাঢ় হয়ে ধরা দেবে। মনে হবে যেন রক্তের বন্যা বইছে। চোখ জুড়িয়ে দেবে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলার অপার সৌন্দর্য। আগাছা আর লতাগুল্মো ভরা বিলের মাঝে ফুটে আছে লাখ লাখ শাপলা ফুল। সূর্যের সোনালি আভা শাপলার ফাঁকে ফাঁকে প্রবেশ করে যেন নতুন সৌন্দর্যের মাত্রা যোগ করে। নৌকায় অথবা হাঁটু পানি মাড়িয়ে বিলে প্রবেশ করলে মনে হবে যেন বাতাসের তালে তালে শাপলা ফুলগুলো আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে। হাসিতে হাসিতে আপনাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। বলছিলাম বরিশাল সদর থেকে প্রায় ৬০ কি.মি. দূরে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের সাতলা গ্রামের, সাতলা বিলের গল্প। যেখানে একক রাজত্ব যেন করছে শাপলা ফুল। ব্যস্ততম এ জীবনে শান্তির পরশ খুঁজতে অনেকেই এখন ছুটছে সাতলা বিলের দিকে। শাপলা ফুলের সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে ছুটছেন তারা সাতলা গ্রামে। শাপলা হয় প্রায় নয় মাস। মার্চ থেকে শুরু করে নবেম্বর মাস পর্যন্ত শাপলার দেখা মিলবে সাতলা গ্রামে। এ সময়ের মধ্যে গেলেই আপনি শাপলার দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

কীভাবে যাবেন বরিশাল

ঢাকা শহর থেকে বরিশাল যাওয়ার সবচেয়ে আরামদায়ক যান হলো নৌযান। ঢাকার সদরঘাট থেকে বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে যায় বিলাসবহুল বেশ ক’টি লঞ্চ, স্টিমার।