১৯ জুলাই ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অন্য ভুবনের প্রাণী

রাত তখন তিনটা। একটা রহস্যময় মহাকাশযান রক্তিম আলো ছড়িয়ে আকাশ থেকে নেমে এলো পৃথিবীতে। তার ভিতর দেখা গেল রুপালি পোশাকে আবৃত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত ভিনগ্রহের কয়েকটি অচেনা প্রাণী। ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৮০ সালে পূর্ব ইংলন্ডের সাফোক অরণ্যে খুব কাছে থেকে গোপনে সামরিক লোকজনসহ শ’দুয়েক মানুষ এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে। পরবর্তীকালে ব্রিটেনের বহুল প্রচারিত রবিবাসরীয় পত্রিকা ‘দি নিউজ অব ওয়াল্ড’এ এই খবরটি ছাপা হলে তা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও খবরটির সত্যতা স্বীকার করে। একই সময়ে ইংল্যান্ডের আরো কয়েকটি এলাকায় চাকতির মতো আকাশযানের দেখা পেল অনেকে এবং রাতে শস্য ক্ষেতের ওপর আলোক বিন্দুর ছটাও অনেকের নজর এড়ায়নি। রাত শেষে শস্য ক্ষেতে দেখা যেত বিভিন্ন অদ্ভুত সুন্দর, জটিল ও সূক্ষè ঈড়ৎঢ় ঈরৎপষব। রাতের বেলায় কে বা কারা জমির শস্য ক্ষেত মাড়িয়ে এসব দৃষ্টিনন্দন অভূতপূর্ব নকশার কারুকার্যমণ্ডিত ঈড়ৎঢ় ঈরৎপষব তৈরি করত। অন্তত মানুষের পক্ষে একরাতে এসব নকশা তৈরি অসম্ভব।

অনেকে বলে থাকেন, ভিনগ্রহের প্রাণীরা এসব ঈড়ৎঢ় ঈরৎপষব করে দিয়ে যায়। হয়তো তাই! নাহলে একবার শস্য ক্ষেতের ওপর দিয়ে এ ধরনের আলোক কণার ছটা চলন্ত অবস্থায় দেখামাত্রই ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের প্লেন ক্যামেরাসহ অজানা আলোক কণাকে তাড়া করলে তাদের ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা গেল, অজানা আলোক কণা যে ক্ষেতের উপর দিয়ে যাচ্ছে, সে ক্ষেতের শস্য কাত হয়ে যাচ্ছে এবং ঈড়ৎঢ় ঈরৎপষব তৈরি হচ্ছে। অবশ্য এ আলোক কণা মাত্র কিছু সময়ের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে যায়। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডে এ ধরনের শস্য ক্ষেতের এক ঈড়ৎঢ় ঈরৎপষব এ এক ভিনগ্রহী এলিয়নের মুখচ্ছবি এবং তার হাতে রাখা একটি গোলক দেখা গিয়েছিল। তাহলে কি এসব ভিনগ্রহীর কাজ?

আরেকটি ঘটনা, সেটা ১৯৭৮ সালের। মেলবোর্নের আকাশে বিমান চালাচ্ছিলেন বৈমানিক ফ্রেডরিক ভ্যালেনটিচ্। হঠাৎ আকাশে এক অদ্ভুত দৃশ্য অবলোকন করলেন তিনি। সাথে সাথে রেডিওর মাধ্যমে তা তিনি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল রুমে জানাচ্ছিলেন। আকাশের ঠিক পূর্বদিক থেকে ওঠা এগিয়ে আসছে আমার দিকে। এত জোরে আসছে যে, আমি বুঝতে পারছি না জিনিসটা কী! মনে হচ্ছে, লম্বা আকৃতির কিছু একটা। একটা আলো বেরুচ্ছে সবুজ রঙের। জিনিসটা ঠিক আমার মাথার ওপর দিয়ে ঘুরে চলেছে নিজের কক্ষপথে। আকাশে ভেসে আছে এই বস্তুটা। আমি নিশ্চিত যে, কোনও এয়ারক্রাফট নয় এটা। —একথা বলতে বলতে হঠাৎ থেমে গেল রেডিও ট্রান্সমিশন। পুরো প্লেনসহ তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। তাকে আর পাওয়া গেল না। তরে এ ঘটনার পরই অস্ট্রেলিয়ার আকাশে মহাকাশযানের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন অনেকেই। তাহলে কি ভিনগ্রহের কোন প্রাণী ভিনগ্রহী স্পেসশিপে করে তাকে নিয়ে গেল দূর অজানার কোন গ্রহে !

একই ধরনের আরো একটি ঘটনা। সময়টা ১৯৪৭ সাল। বৈমানিক আর্নল্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের আকাশে উড়ছিল নিজ বিমানে চড়ে। হঠাৎ লক্ষ্য করলেন, রুপোর মতো চকচকে গোলাকৃতির ৯টি আকাশযান মালার মতো একটা বিন্যাসে আকাশে উড়ে চলছিল, ঠিক যেন জলের ওপর দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে ভেসে চলা কতগুলো প্লেট। গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০০ মাইল। তার এই অভিজ্ঞতার কথা পরদিন ছাপা হয় বিভিন্ন সংবাদপত্রে। এর পরপর প্রায় ১ মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের আকাশযানের উপস্থিতি লক্ষ্য করল পৃথিবীর মানুষ। এ বছরই নিউ মেক্সিকোর রসওয়েল শহরে ভেঙে পড়লো এক রহস্যময় উড়ন্ত আকাশযান। বলা হলো, এটা ভিনগ্রহের স্পেসশিপ। এর ভেতরে নাকি ভিনগ্রহের কয়েকটি প্রাণীও ছিল, যারা মুহূর্তেই অদৃশ্য হয়ে যায়।

এসব আকাশযানের অস্তিত্ব এবং এসবে চড়া প্রাণী কয়টি ভিনগ্রহের না পৃথিবীর অথবা সেখানে আদৌ কোন প্রাণী ছিল কিনা তা রহস্যের চাদরে ঢাকা বিষয় হলেও একথা বলা যায়, পৃথিবীর মতো জীবন সৃষ্টি ও বিকাশের অনুকূল উপযুক্ত পরিবেশ সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহে থাকা অস্বাভাবিক নয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, অন্তহীন এই মহাবিশ্বে রয়েছে অগণিত গ্রহ-নক্ষত্র। প্রখ্যাত জ্যোর্তিবিজ্ঞানী মার্কিন মহাকাশ প্রকল্পের শীর্ষ ব্যক্তাত্ব কার্ল সাগান ( মৃত্যু ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৬) জানান এক মুঠো বালিতে থাকে ১০ হাজার বালুকণা...। আর পৃথিবীর সমস্ত সাগরের বেলাভূমিতে যে সংখ্যক বালুকণা আছে, তার থেকেও বেশি নক্ষত্র আছে এ মহাবিশ্বে। আর এ নক্ষত্রের কত গ্রহ-উপগ্রহ থাকতে পারে, প্রিয় পাঠক আপনারাই কল্পনা করুন।

বিজ্ঞানীদের অধিকাংশই বিশ্বাস করেন, অন্তহীন এই বিশাল মহাশূন্যে বিরাজমান এসব অগণিত গ্রহের কোন কোনটিতে অবশ্যই ভিনগ্রহী প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে। ওখানকার প্রাণের ছোঁয়া হয়তো অন্যরকম। হতে পারে পৃথিবীর মানুষের কল্পনার বাইরের কোন সীমানায় এর পরিধি। প্রাণের সংজ্ঞাতে থাকতে পারে ভিন্নতা। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই পৃথিবীতে যদি প্রাণ থাকতে পারে, তরে বিশাল মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণ থাকবে না— এটাতো হতে পারে না। গাণিতিকভাবে হিসাব করলেও দেখা যায়, অন্যগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে। আসলে মহাবিশ্বে মানুষ একা নয়। চন্দ্রাভিযানে পাঠানো এ্যাপোলো—১৪ এর নভোচারী মিচেল এগার মনে করেন, এ মহাবিশ্বে মানবজাতি কোনভাবেই একা নয়, তাদের স্বজাতিরা ভিন্ন কোন গ্রহে নিশ্চয়ই আছেন। তাদের একদিন নিশ্চয়ই খুঁজে পাওয়া যাবে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগও গড়ে তুলতে পারবে পৃথিবীর বাসিন্দারা। সেদিন বেশি দূরে নয়। আমাদের এ প্রজন্মেই হয়তো এটা সম্ভব হবে। (২০০৯ সালের এপ্রিলে ওয়াশিংটনে জাতীয় প্রেসক্লাবে ৫ম বার্ষিক ‘এক্স সম্মেলনে’ নভোচারী মিচেল এগার।)

১৯৭৫ সালে নোবেল বিজয়ী জার্মান বিজ্ঞানী ম্যানফ্রেড আইজেনের আন্তর্জাতিক পদার্থবিদ সম্মেলনে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘অন্যগ্রহেও প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব। কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীর মতো বিশ্বের অন্যান্য গ্রহেও বজায় ছিল একই ধরনের পরিবেশ সেখানেও ঘটেছিল আদিম প্রাণীর বিকাশ’। শুধু তাই নয়, আমাদের দৃষ্টি ও বোধসীমার বাইরে সুবিস্তৃত এসব গ্রহের কোন কোনটিতে হয়তো রয়েছে বুদ্ধিমান প্রাণী— এমনকি তারা হতে পারে পৃথিবীর মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান। রর্তমান বিশ্বের সেরা জ্যোর্তিপদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংও বিশ্বাস করেন, ভিনগ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণী অর্থাৎ এলিয়েনের অস্তিত্ব রয়েছে। ডিসকাভারি চ্যানেলের সাথে এক সিরিজ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, এলিয়েন আছে এবং তারা অবশ্যই বুদ্ধিভিত্তিক জীবন যাপন করেন। তরে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তাদের শারীরিক আকার কি রকম হতে পারে, তা বের করা।

ভিনগ্রহের প্রাণীর শারীরিক আকার কি রকম অথরা তারা দেখতে কেমন— এ ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা আজো দ্বিধান্বিত। কারণ অণু রসায়ন একই রকম হলে একই ধরনের প্রাণের উদ্ভব ঘটবে তা ভাবার কোন কারণ নেই। আমাদের এই পৃথিবীতে কত বিচিত্র ধরনের প্রাণীর বসবাস, অথচ একেবারে অভিন্ন তাদের অণু জীববিজ্ঞান। বেতার টেলিস্কোপের মাধ্যমে আন্তঃনক্ষত্রিক মহাশূন্যে, গ্রহে, ধূমকেতুতে জৈব-অণুর সন্ধান পাওয়া গেছে। এ্যামিনো এসিড পাওয়া গেছে উল্কাপিণ্ডের মধ্যে। এ থেকে মনে হয়, উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ভিনগ্রহে জীবনের উদ্ভব ঘটতে পারে। তবে তার বিকাশ, গঠন, পূর্ণতা নির্ভর করে অনুকূল পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর। এ প্রসঙ্গে মহাজাগতিক সভ্যতার স্বাপ্নিক কার্ল সাগান বলেন, আমি বলতে পারি না একটা বহির্জাগতিক প্রাণী কেমন দেখাবে? আমি ভীষণভাবে এই সত্যে সীমাবদ্ধ যে, আমি জানি মাত্র এক ধরনের প্রাণের কথা, যাকে বলা হয় পৃথিবীর প্রাণ, যা কার্বন জৈব অণুর ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। অনেক সময় কল্পকাহিনী লেখক ও চিত্রশিল্পীরা অন্য জগতের প্রাণীদের বর্ণনা দেন অথবা ছবি আঁকেন। আমি বহির্জাগতিক প্রাণীগুলোর আকার-আকৃতি সংক্রান্ত তাদের ওই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একমত নই। তারা পৃথিবীর প্রাণের ছায়া অবলম্বনে এ ধরনের প্রাণের কাঠামো তৈরি করেন। প্রাণের বিকাশ ঘটার জন্য একটা দীর্ঘ ধারার স্বতন্ত্র প্রায় অসম্ভব কিছু পদক্ষেপের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আমি মনে করি না, অন্যগ্রহের প্রাণ দেখতে হবে অনেকটা সরীসৃপ অথবা কীটপতঙ্গ অথবা মানুষের মতো; সঙ্গে থাকবে ক্ষুদ্র কসমেটিক প্রলেপ হিসেবে সবুজ চামড়া, রঙ লাগানো কান ও অ্যান্টেনা বা হুল। আসলে এরা যে কোন রকমের হতে পারে। হয়তো এরা হতে পারে মানুষের আদলের কাছাকাছি বুদ্ধিমান প্রাণী অথবা হতে পারে আকারে খুব ছোট নিরীহ প্রাণী অথবা কৌশলী শিকারী প্রাণী — যাদের চামড়ায় থাকবে কিছু অভিযোজনক্ষম পরিবর্তনীয় প্যাটার্ন। এরা ফ্লোটার (ঋষড়ধঃবৎ) প্রাণীও হতে পারে— যাদের শরীর হবে বিশাল হাইড্রোজন বেলুনের মতো। আবার ভিনগ্রহীরা এসবের কারো মতো নাও হতে পারে। আসলে ভিনগ্রহীরা কি রকম— তা বলা মুশকিল। সেটির বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ মনে করেন, প্রকৃতি সম্ভবত বেশ আগেই ভিন্ন ভিন্ন রসায়নিক পদার্থ ও আকৃতিতে জীবন সৃষ্টির সমস্যা সমাধান করে ফেলেছে। সুতরাং ভিনগ্রহের প্রাণীরা দেখতে আমাদের মতো না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা জৈবিক পর্যায়ে আমাদের মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা নাও করতে পারে। তারপরও মানুষ বিশ্বাস করে, ভিনগ্রহী আছে- শারীরিক গঠন যাই হোক না কেন।

রাশিয়ার বিজ্ঞানী আলেক্সি রোজানভ বলেছেন, বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে প্রাপ্ত উল্কাপিণ্ডের মধ্যে প্রায় ৪৫০ কোটি বছরের ফসিলায়িত ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের সন্ধান পেয়েছেন। এ উল্কাপিণ্ডের বয়স পৃথিবীর বয়সের সমান। তবে পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশের যে বয়স তার চেয়ে তা বেশি প্রাচীন। রোজানভ বলেন, এর অর্থ হচ্ছে পৃথিবীর সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই এমন বস্তুর মধ্যে আদি প্রাণের অবশেষ পেয়েছি আমরা। আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, পৃথিবীর বাইরে জীবন ছিল বা আছে। ( সূত্র- এপি পরিবেশিত সংবাদ। দৈনিক ভোরের কাগজ, বাংলাদেশ - ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮ ইং) ২৯ জুলাই ২০০৫ এএফপি পরিবেশিত অন্য এক সংবাদে জানা যায়, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার শক্তিশালী স্পিৎজার টেলিস্কোপ পৃথিবী থেকে এক হাজার কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত কয়েকটি ছায়াপথে জৈবযোগের সন্ধান পেয়েছে, যা থেকে প্রাণের উদ্ভব হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের প্যাসাডেনায় অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়া টেকনোলজির গবেষকরা বলেছেন, এ যৌগ কার্বন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে হঠিত।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, বৃহস্পতির আবহমণ্ডলে গ্যাসীয় প্রাণের বিকাশ ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে তাদের জোরালো অনুমান রয়েছে। শনির উপগ্রহ টাইটানে জৈব মেঘের সন্ধান লাভ প্রাণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তারা শনিগ্রহের অন্যতম বড় উপগ্রহ টাইটানে প্রাণী থাকার ব্যাপারে সূত্র পেয়েছেন। তারা টাইটানের পৃষ্ঠের রাসায়নিক মিশ্রণ পর্যবেক্ষণে ধারণা করছেন, ওই উপগ্রহের আদি পর্যায়ের প্রাণীরা সেখানকার আবহাওয়া মণ্ডলে শ্বাস নিচ্ছে এবং টাইটানের পৃষ্ঠের জ্বালানি থেকে খাদ্য গ্রহণ করছে।

ভিনগ্রহে প্রাণী বা জনবসতি থাকার বিষয়তো সেই প্রাচীনকালেও বিশ্বাস করা হতো। প্রাগৈতিহাসিক সময়কাল থেকে ভিনগ্রহের প্রাণীরা পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ করতো বলে ধারণা প্রচলিত আছে। ঘুরে ফিরে তারা পৃথিবীবাসীর জীবনযাত্রা যে শুধু অবলোকন করতো তা নয়, তারা এ পৃথিবীতে অবস্থান করে অনেক সময় জীবন যাপনও করেছে। এরিখ ফেন দানিকেন এ মতবাদের প্রবক্তা। খ্রিস্টপূর্ব ৬/৭ শতাব্দীর দিকে গ্রিক লেখক এ্যালিস ও তার ছাত্র এ্যানেক্সিমেনদার বিশ্বাস করতেন, অসীম বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে অগণিত জনবসতি রয়েছে। সপ্তদশ শতাব্দীর চেক জ্যোর্তিবিজ্ঞানী সিরলেউসতো বলেই ফেলেছিলেন, জুপিটারে বসবাসকারী প্রাণীরা আকারে পৃথিবীবাসীর চাইতে সুন্দর ও বড়। জুপিটারের চাঁদ ইউরোপা’র আবরণের নিচে জলীয় স্তর রয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা, যা প্রাণের সম্ভাবনার আভাস দেয়। ১৮/১৯ শতকের জ্যোর্তিবিজ্ঞানী উইলিয়স হার্সেল ‘ইউরেনাস’ আবিষ্কারের মাধ্যমে আশ্বস্ত হতে চাইলেন যে, সৌরজগতের গ্রহ—গ্রহান্তরে অনেক বহিরাগত প্রাণীবসতি রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা হিসাব করে ধারণা করছেন যে, শুধু আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়েতে প্রতি দুলাখ তারকার মধ্যে মাত্র একটি তারকায়, মাত্র একটি গ্রহে যদি প্রাণের অস্তিত্ব থাকে : তাহলে এই মিল্কিওয়েতেই প্রাণময় গ্রহ থাকতে পারে পাঁচ লক্ষ। এছাড়া মহাকাশ জুড়ে অগণিত গ্যালাক্সিতো রয়েছেই। সঙ্গত কারশেই বিজ্ঞানীরা দূর মহাকাশে অব্যাহত রেখেছেন মহাজাগতিক সভ্যতার সন্ধান, যেখানে রয়েছে ভিনগ্রহী বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিতাব।

এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অসংখ্য গবেষণা সংস্থা ও অনুসন্ধানী দল। বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত উপস্থাপন করছেন এ সম্পর্কে নানা তথ্য, তত্ত্ব, ধ্যান-ধারণা। এসর তত্ত্ব-ধ্যান-ধারণায় নানা অসঙ্গতি, বিভ্রান্তি, ত্রুটি-বিচ্যুতি, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অভাব থাকতেই পারে কিন্তু এসব কিছুর মূলে একটি বিশ্বাস কাজ করছে, তাহল ভিনগ্রহে বা বহির্জগতে প্রাণ আছে।