২০ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কৃষিতে ন্যানো প্রযুক্তি

মাছে ভাতে বাঙালী এই প্রবাদটি হাজার বছরের। প্রবাদের এই উৎসের জোগান আসে আমাদের কৃষি থেকেই। বাড়ছে দেশের জনসংখ্যা, বাড়ছে খাদ্য চাহিদা। সেই সঙ্গে দিন দিন কমছে আবাদি জমি। তবুও আমাদের এই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছে কৃষক। সেই চাহিদার পথ ধরে কৃষিতে নানা সময়ে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সেকেলে কাঠের লাঙ্গলের বদলে এখন ব্যবহার হচ্ছে ‘কলের লাঙ্গল’ ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার প্রভৃতি। অর্থাৎ কৃষি এখন প্রযুক্তিনির্ভর। ফলে ফলন বেড়েছে কয়েকগুণ। এ কারণে চাষাবাদে খরচ, শ্রম, সময় সবই কমেছে। আর বাড়ছে ফসল উৎপাদন, বদলাচ্ছে মানুষের ভাগ্যের চাকা, দেখা দিচ্ছে সৌভাগ্যের আলো। সেই কৃষি এবং কৃষকের জন্য আরও একটা সুখবরের কথা জানা গেল সোমবার। দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কৃষিকে নিরাপদ ও লাভজনক করে তুলতে ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পদার্থকে আণবিক ও পারমাণবিক পর্যায়ে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করার কৌশলকে বলা হয় ন্যানো প্রযুক্তি। এই সুযোগ রেখে জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৮-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সেবা, উদ্ভাবনী সম্প্রসারণ প্রযুক্তি, প্রযুক্তি ব্লক স্থাপন এবং বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের বিষয়গুলো নতুন নীতিমালায় সংযোজন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে- ফসলের উৎপাদন ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি, শস্য বহুমুখীকরণ, পুষ্টি সমৃদ্ধ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাভজনক কৃষি ও দক্ষ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন। এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে ফসলের রোগ, জাতভিত্তিক পুষ্টি চাহিদা নির্ণয় ও পুষ্টি আহরণ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ন্যানো সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমির গুণাগুণ পর্যবেক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। কৃষিতে ভারি ধাতুর উপস্থিতি শনাক্ত এবং শোধন করে ন্যানো প্রযুক্তির সার, বালাইনাশক উদ্ভাবন ও ব্যবহারের মাধ্যমে উপকরণ দক্ষতা অর্জনের উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, ন্যানো সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমির গুণাগুণ পর্যবেক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

জাতীয় কৃষি নীতির লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ ও লাভজনক কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দক্ষতার সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করা। এ জন্য নতুন কৃষি নীতিতে ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে। ২০১৩ সালের কৃষি নীতিকে হালনাগাদ করে নতুন কৃষি নীতি-২০১৮ প্রণীত হয়েছে। নতুন কৃষি নীতিকে আগের চেয়ে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। আগে ১৮টি অধ্যাদেশ ছিল, সেটিকে বাড়িয়ে ২২টি অধ্যাদেশ করা হয়েছে। নতুন কৃষি নীতিতে ১০৬টি অনুচ্ছেদ রাখা হয়েছে। পাট, তিল ও তিশিকে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সমবায়ভিত্তিক কৃষি খামারকেও জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৮-এর খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

দিন দিন কৃষি জমি কমে যাচ্ছে, বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা। তাই কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে চাষাবাদের সব পর্যায়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষিতে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও উন্নতি সাধিত হচ্ছে তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি দেশের তৃণমূলে এ খাতে জড়িত কৃষক, উদ্যোক্তাদের এ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মাঠ পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠান কৃষকদের পাশে থেকে প্রযুক্তিগত ধারণা প্রদান, প্রশিক্ষণ, পরার্মশ, কৌশলগত সহযোগিতা প্রদান করলে কৃষিতে অব্যাহত সাফল্য আসবেই।

এই মাত্রা পাওয়া