২০ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সুফল

মহাকাশে উৎক্ষেপিত বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে বাংলাদেশ নানাভাবে উপকৃত হবে। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সুফল প্রাপ্তির সূচনাও ঘটেছে। বছরে ৫ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) বাণিজ্যিক বিপণনের কাজ শুরু করেছে। দেশের অভ্যন্তরে সেবা দিতে বিসিএসসিএল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তিও সম্পন্ন করেছে। এই চুক্তির ফলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে নৌযানে অত্যাধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে। কিছু দিনের মধ্যে দেশের আরও কয়েকটি দফতরের সঙ্গে বিসিএসসিএলের চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। এর বাইরে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কাসহ বারোটিরও বেশি দেশের সঙ্গে বিসিএসসিএল যোগাযোগ করে যাচ্ছে। উল্লিখিত দেশগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল পুরোপুরি আসা শুরু হলে এসব দেশের সঙ্গেও চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে প্রত্যাশিত সময়ের আগেই আমাদের স্যাটেলাইট ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং একই সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বলতর হয়ে উঠছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে ও সাগরে যেসব নৌযান চলাচল করবে সেগুলোর অবস্থান, গতিবিধি এবং সার্বিক অবস্থা নিরবচ্ছিন্নভাবে জানা যাবে স্যাটেলাইটের সেবা গ্রহণের মাধ্যমে। নিঃসন্দেহে এটি দেশের নৌ-যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে।

বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনকণ্ঠের কাছে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন যে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি প্রস্তুত হবে। তখন থেকেই পুরোদমে স্যাটেলাইট থেকে সেবা পাওয়া যাবে।

কিছুকাল আগে জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রদত্ত বক্তব্য থেকে জাতি নতুন আরেকটি স্যাটেলাইট নির্মাণের প্রস্তুতি গ্রহণের সুসংবাদ পেয়েছিল। প্রথম স্যাটেলাইটের মেয়াদ যেহেতু পনেরো বছর, তাই পরবর্তী স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-২-এর নির্মাণ প্রস্তুতি সরকার এখনই শুরু করতে চাইছে। কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, এই স্যাটেলাইটের মালিকানা নাকি দু’ব্যক্তি নিয়ে নিয়েছেন। এমন একটি অপপ্রচার বিষয়ে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, আমাদের স্যাটেলাইট কোম্পানি চুক্তি স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে এটি বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এ মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি কেইউ-ব্যান্ড ও ১৪টি সি-ব্যান্ডের। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর ইন অরবিট টেস্ট (আইওটি) সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে এর নেটওয়ার্ক এ্যাকসেপটেন্স রিভিউ (এনএআর) চলছে। আগামী সেপ্টেম্বরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সেবা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার পর এই উদ্যোগ থেকে আরও লাভজনক প্রাপ্তির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কেবল যে বাংলাদেশের মাথা বিশ্বসভায় উঁচু করে দিয়েছে কিংবা এটি থেকে অনেক অতীব প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে এমনটি নয়। একই সঙ্গে এই ঐতিহাসিক ঘটনা বিজ্ঞান চেতনায় পিছিয়ে থাকা একটি জাতিকে বিজ্ঞান শিক্ষার আবশ্যকতা বিষয়েও সচেতন করার পথ প্রসারিত করেছে। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বাংলাদেশের সুনাম সীমানা অতিক্রম করেছে বহুকাল আগেই। আশা করা যায় আগামীতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি চর্চায়ও দেশ যথেষ্ট উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হবে।