২০ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রোড সুইপার

রাজধানী ঢাকাকে যদি এক কথায় বর্ণনা করতে বলা হয় তাহলে অপ্রিয় হলেও বলতেই হবে যে, ছিঃ ছিঃ এত্তা জঞ্জাল। প্রায় তিন কোটি অধিবাসী অধ্যুষিত ঢাকায় একদিকে যেমন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত নয়, অন্যদিকে মশা-মাছি-আবর্জনা-নোংরা নালা-নর্দমায় পরিপূর্ণ। এর পাশাপাশি অসহনীয় যানজট-জলাবদ্ধতাসহ জনজট তো আছেই। এসব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা ইতোমধ্যেই অন্যতম বসবাস অযোগ্য শহরের তকমা পেয়েছে। তবে বোধ করি বিলম্বে হলেও বোধোদয় ঘটেছে ডিএনসিসির। ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন তথা ধুলাবালি-বর্জ্য মুক্ত রাখার অভিপ্রায়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সম্প্রতি পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে জাপান থেকে সংগ্রহ করেছে অত্যাধুনিক রোড সুইপার। এই যন্ত্র দিয়ে দৈনিক মাত্র ৬ ঘণ্টায় গড়ে আঠারো কিলোমিটার রাস্তা নিবিড়ভাবে পরিষ্কার করা যায়। রাস্তার ধুলাবালি থেকে শুরু করে কঠিন বর্জ্যÑ সবই উঠে আসবে এই যন্ত্রের কোটরে। কোটর বা ট্যাঙ্কটি ছয় টন আবর্জনা ধারণে সক্ষম। সঙ্গে একটি পানির ট্যাঙ্কও রয়েছে, যা দিয়ে রাস্তা ধুয়ে ফেলা যায়। এই পরিমাণ রাস্তার বর্জ্য অপসারণ ও রাস্তা পরিষ্কারে অন্তত ৮৬ জন নারী-পুরুষ পরিচ্ছন্নকর্মীর আবশ্যক হয়, যা অমানবিক, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। নিয়মিত সার্ভিসিং করালে যন্ত্রটি কার্যক্ষম থাকবে ১০-১২ বছর। আপাতত সীমিত পরিসরে এর পরীক্ষামূলক কাজ চললেও ফলপ্রাপ্তি সাপেক্ষে আগামীতে পুরো রাজধানীই আসবে এর আওতায়। ডিএনসিসির এহেন ডিজিটাল কর্মসূচীর আওতায় আমরা অতঃপর একটি পরিচ্ছন্ন রাজধানীর প্রত্যাশা করতেই পারি। তবে সর্বাগ্রে জোর দিতে হবে পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণে।

রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার অভাব রাজধানীর সর্বত্র প্রকট। কী বুড়িগঙ্গা, কী হাতিরঝিল, কী হাজারীবাগ, কী উড়াল, সড়ক-রাস্তাঘাট সর্বত্রই যেন বিরাজমান অব্যবস্থা, অনিয়ম, এমনকি দৃষ্টিকটু পরিবেশ-পরিস্থিতি। উদাহরণত হাতিরঝিলের কথা বলা যেতে পারে। রাজধানীর ফুসফুস বলে খ্যাত এই এলাকাটি বহু আশা-আকাক্সক্ষা ও স্বপ্ন নিয়ে বাস্তবায়ন করা শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। তবে দুঃখজনক ও হতাশার খবর হলো, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে মাত্র চার বছরেই প্রায় বিলীন হতে বসেছে হাতিরঝিলের নানা স্থাপনা ও সৌন্দর্য। লেকের পানি হয়েছে বিবর্ণ, দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনায় পরিপূর্ণ। লেকের দু’পাশের দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষগুলো গেছে শুকিয়ে, কোন কোনটি পড়েছে ভেঙ্গে। বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাসের আস্তরণ আজ আর চেনা যায় না। পরিচর্যার অভাবে ফুলের বাগান শ্রীহীন, পুষ্পহীন প্রায়। লাল-নীল-সবুজ-হলুদ বাতিগুলো একদা লেকের পানিতে দৃষ্টিনন্দন আলোর ফোয়ারা ছড়িয়ে দিলেও বর্তমানে অনেক বাতি বিকল হয়ে পড়েছে। স্থাপনার নানা কিছু ইতোমধ্যে চুরি হয়ে গেছে অথবা অকেজো। অনেক স্থানে সন্ধ্যার পর বিরাজ করে ভুতুড়ে পরিবেশ। হয়ে ওঠে ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য। অনুরূপ রাজধানীর প্রাণপ্রবাহ বুড়িগঙ্গা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে চিন্তাভাবনা চলছে দীর্ঘদিন থেকে। এর জন্য সর্বাগ্রে যা করণীয় তা হলো একদার কল্লোলিনী স্রোতস্বিনী বুড়িগঙ্গার পরিপূর্ণ পুনরুদ্ধার, যা এক কথায় দুরূহ ও অসম্ভব। কেননা, ভূমিগ্রাসীদের অবৈধ হিংস্র থাবায় ইতোমধ্যেই বুড়িগঙ্গার দুই তীরের অধিকাংশ জমি চলে গেছে বেদখলে। সেসব স্থানে গড়ে উঠেছে বড় বড় অসংখ্য স্থাপনা ও বহুতল ইমারত। সময় সময় সে সবের কিয়দংশ লোক-দেখানোভাবে উচ্ছেদ করা হলেও অচিরেই তা চলে যায় দখলদারদের কবলে। কোন কোন স্থাপনা উচ্ছেদ স্পর্শকাতরও বটে। সেক্ষেত্রে দু’পাশের অবৈধ স্থ্পানাগুলো উচ্ছেদ করা না গেলে নদীর প্রবাহ অক্ষুণœ রাখা সম্ভব হবে না কিছুতেই। সেক্ষেত্রে বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করাও জরুরী ও অপরিহার্য। রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা না হলে কোন কিছুই যথাযথ ও সৌন্দর্যম-িত রাখা যাবে না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন তো নয়ই।

এই মাত্রা পাওয়া