১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘মেগাপ্রেনার্স ২০১৮’

  • বেনজির আবরার

বাড়ছে বেকারত্ব, বাড়ছে জনসংখ্যা। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে চাকরির বাজার মন্দা হলেও সম্প্রতি বেশকিছু চমৎকার উদ্যোগের গল্প জানা গেছে ১২ই জুলাই রাজধানীর গ্রামীণফোন সেন্টারে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বেশকিছু সমস্যা অনেকটাই সমাধানের দিকে এগোবে বলে ধারণা আয়োজকদের।

এই বিশাল তরুণ জনতাকে সঠিক পথের নির্দেশনা দিয়ে তাদের উদ্যোগগুলোকে টেকসই, বাস্তবসম্মত ও গ্রাহকদের পছন্দসই করে গড়ে তুলতে ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে ইয়াং সাসটেইনেবল ইম্প্যাক্ট (ওয়াইএসআই) বাংলাদেশ। ওয়াইএসআই প্রকৃতপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংগঠন, যার সদর দফতর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে অবস্থিত। বাংলাদেশ ছাড়া চীন এবং সিঙ্গাপুরেও শুরু হয়েছে সংগঠনটির একই কার্যক্রম।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ছাড়া হয় ওয়াইএসআই বাংলাদেশের প্রথম ইনকিউবেশন প্রোগ্রাম ‘মেগাপ্রেনার্স ২০১৮’-এর আবেদনপত্র। পাঁচ শতাধিক আবেদনপত্র থেকে বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সারাদেশ থেকে বেছে নেয়া হয় যোগ্যতম ২১ জনকে, যাদের সবারই ছিল উদ্ভাবনী নানা ব্যবসায়িক আইডিয়া। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এই ২১ জন থেকে পরবর্তীতে গঠন করা হয় ৫টি দল। উল্লেখ্য, ঢাকার মতো একটি মেগা সিটির নানাবিধ সমস্যা সমাধানে যে এন্ট্রাপ্রেনার তথা উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসছে, তাদেরই বলা হচ্ছে ‘মেগাপ্রেনার’।

এই ২১ জন উদ্যোক্তাকে নিয়ে এরপর শুরু হয় তিন মাসব্যাপী অনলাইন ইনোভেশন প্রোগ্রাম। এ সময় উদ্যোক্তাদের গড়ে তুলতে নরওয়ে, বাংলাদেশ, চীন ও সিঙ্গাপুরে অনুসরণ করা হয় একই গাইডলাইন। এর মধ্য দিয়ে সঠিক দল গঠন, উদ্যোগটিকে ঠিকমতো এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় গবেষণা, মার্কেট এ্যানালাইসিস, জনমত যাচাই, প্রোটোটাইপ তৈরির মতো নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাদের, যা তাদের উদ্যোগগুলোকে টেকসই করে গড়ে তুলতে সামনের দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনলাইন ইনোভেশন প্রোগ্রামের পর পরই শুরু হয় ৫ দিনব্যাপী ক্যাম্পেইন। এ সময় প্রতিযোগীরা দিনভর তাদের পণ্যের নানা বিষয়ের সর্বশেষ দিকগুলো নিয়ে কাজ করছিল।

তাদের কাগজগুলো যেন আরও নিখুঁত ও সুন্দর করে এগিয়ে নেয়া যায়, সে জন্য নরওয়ে থেকে ছুটে আসেন ওয়াইএসআইএর সিইও মার্কাস ব্রুন্স, এক্সটার্নাল রিলেশন্স অফিসার ডানাট টেকি এবং চিফ অপারেটিং অফিসার দিদ্রিক আলেকজান্ডার।

অবশেষে গত ১২ জুলাই, বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত জিপি হাউজে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘মেগাপ্রেনার্স ২০১৮’- এর ডেমো ডে। ৫টি দল সেখানে তাদের উদ্যোগগুলো দেশের বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে থেকে আগত বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরে। হোয়াইট বোর্ডে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল বেকেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়াইএসআইএর সিইও মার্কাস ব্রুন্স এবং গ্রামীণফোনের চিফ অব কর্পোরেট এ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন। সম্মানিত বিচারকমণ্ডলীর রায়ের নির্বাচিত হয় চূড়ান্ত ৩ বিজয়ী দল, যাদের জন্য পুরস্কার হিসেবে থাকছে সর্বমোট ১ হাজার মার্কিন ডলার। প্রথম স্থান অধিকার করেছে ‘ক্রুড প্লাস’। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তৈরি নিয়ে কাজ করেছে তারা। দলের সদস্যরা হলেন মাজেদুর রহমান মাসুম, মাহবুবা জান্নাত, শারমিন আক্তার, মো. সাজ্জাদ আজিম, মো. রশিদুন নেওয়াজ এবং তিলোত্তমা সাহা। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দলটির নাম ‘বিম’। তারা কাজ করেছে এমন একটি স্মার্টওয়াচ নিয়ে, যা রাস্তাঘাটে নারীদের উত্ত্যক্তকারীদের হাত থেকে সুরক্ষা দেবে, যা আজকের সমাজের নারীদের জন্য বেশ দরকারি। এ দলের সদস্যদের মাঝে আছেন মো. রোহান কামাল, রাসিব আফ্রিদি এবং সৌরভ চৌধুরী। ৩য় স্থান অধিকার করেছে ‘এ্যাকোয়ালাইন’। মাছের ফেলে দেয়া বর্জ্যকে পুনরায় ব্যবহার করে আরও নানা কাজে লাগানোর মতো চমৎকার একটি বিষয় নিয়ে কাজ করেছে তারা। দলটির সদস্যরা হলেন তন্ময় কুমার ঘোষ, এসএম ইমতিয়াজ ভূঁইয়া এবং মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম।

‘মেগাপ্রেনার্স ২০১৮’-এর স্পন্সর হিসেবে ছিল লিডসাস লিমিটেড, ইএমকে সেন্টার এবং ওয়াইএসআই বাংলা লিমিটেড। ইনোভেশন এনাব্লার হিসেবে ছিল হোয়াইট বোর্ড। সহযোগিতায় ছিল নরওয়েজীয় দূতাবাস, ইয়াং সাসটেইনেবল ইম্প্যাক্ট, বাংলাদেশ সায়েন্স সোসাইটি এবং ওয়ার্ক ফর অ্যা বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট।

বাংলাদেশের তরুণদের এমন প্রতিভা দেখে মুগ্ধ ওয়াইএসআইএর সিইও মার্কাস ব্রুন্স। তাদের কাজ, কর্মনিষ্ঠা এবং পণ্যগুলো ছাড়িয়ে গেছে তার প্রত্যাশাকেও।

হোয়াইট বোর্ডকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেছেন সামনের দিনগুলোতেও ওয়াইএসআই বাংলাদেশের এমন অসাধারণ কাজ চালিয়ে নেয়ার।

নির্বাচিত সংবাদ