১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাতারের হাতে বিশ্বকাপের ব্যাটন তুলে দিলেন পুতিন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অলিম্পিকের মতো ফুটবলেও এই ব্যাপারটি আছে। মস্কো, ১৫ জুলাই রাশিয়ায় শেষ হয়েছে ফিফা ২০১৮ বিশ্বকাপ। আনুষ্ঠানিকভাবে কাতারের হাতে বিশ্বকাপের ব্যাটন তুলে দিয়েছেন রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ফাইনালের আগে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ফুটবল তুলে দেন পুতিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মস্কোর ওই অনুষ্ঠানে কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি উপস্থিত ছিলেন। আর দুজনের মাঝে ছিলেন ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ২০২২ সালে কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে।

‘রাশিয়া সফলভাবে বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে। এমন একটি টুর্নামেন্ট করতে পেরে গর্বিত। আমি এখন ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য কাতারকে আহ্বান জানাচ্ছি। বিশ্বকাপ শেষ হচ্ছে। তবে আমাদের ভাল লাগছে। সমর্থকরা উৎসব করেছেন। আশা করি কাতারেও এমন একটি বিশ্বকাপ হবে। আশা করব কাতারও ২০২২ সালে একইরকম সাফল্য পাবে। আমার বন্ধুর জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।’ আরবের প্রথম দেশ হিসেবে কাতার বিশ্বকাপের আয়োজন করতে চলেছে। পুতিন তার বক্ত্যবে আরও বলেন, আমরা যেমন করেছি, কাতারও সেখানে সফল হবে বলে আমি মনে করি। এই বিশ্বকাপ আমরা কিভাবে করেছি সে ব্যাপারে কাতারকে সাহায্য করব। আমরা সাহায্য করতে পারলে বিষয়টি আরও ভাল হবে। ফুটবল বিশ্বকাপ মহাদেশ ও মানুষের মধ্যে যে ভালবাসা সৃষ্টি করেছে সেটা নজির হিসেবে থাকবে। স্প্যাসিভা (ধন্যবাদ।)!

আর কাতারের আমির বলেন, ‘আমাদের দেশের জন্য বিশাল এক উৎসব হতে চলেছে ২০২২ বিশ্বকাপ।’ তিনি বলেন, আজ আমি খুব খুশি। কারণ আমার দেশে বিশ্বকাপ হবে। আমি রাশিয়ার কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নেব। আর সেটা আমাদের জন্য বড় ব্যাপার হবে। রাশিয়া সফল একটি বিশ্বকাপ করেছে। আমরা এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেব। ধন্যবাদ।’ বিশ্বকাপে শেষ আট থেকেই বিদায় নিয়েছে রাশিয়া। তাহলে রাশিয়া কীভাবে বিশ্বকাপ জিতল? প্রশ্নটা মাথায় আসতেই পারে। হ্যাঁ, রাশিয়া বিদায় নিয়েছে ঠিকই তবে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে অংশ নেয়া বাকি ৩১ দেশের সঙ্গে এক মাসেই বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে দেশটির। এটিই তো চেয়েছিলেন পুতিন।

২০১৮ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য সবার কাছ থেকেই প্রশংসা কুড়িয়েছে রাশিয়া। আয়োজনের কোথাও কোন কমতি নেই, বিদেশী দর্শকদের জন্যও ছিল কড়া নিরাপত্তা। বেশি খুঁতখুঁতে মেজাজের না হলে কারও পক্ষে রাশিয়ানদের আয়োজনের কোন ত্রুটি ধরা সম্ভব না। জমকালো স্টেডিয়াম, স্টেডিয়ামে বিনামূল্যে ট্রেনযাত্রার ব্যবস্থা, সমর্থকদের মধ্যেও কোন দাঙ্গা দেখা যায়নি। রাশিয়া এখন যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। শুধু বিদেশী পর্যটকদেরই নয় খেলোয়াড়দেরও মন কেড়েছেন পুতিন। সাবেক জার্মান মিডফিল্ডার লোথার ম্যাথাউস জানান, ‘গত চল্লিশ বছরে আমি যত বিশ্বকাপ দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে সেরা বিশ্বকাপ ছিল এটি। সত্যি অনন্য আয়োজন। ধন্যবাদ রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট, ধন্যবাদ রাশিয়া।’

কূটনীতিক সম্পর্কটা যে এই বিশ্বকাপের জেরেই অনেকটা মসৃণ হয়েছে তা না বললেও চলে। বিশ্বকাপটা জিতল আসলে রাশিয়াই।