১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে

দেশের তিন বিভাগের তিনটি সিটি কর্পোরেশন এলাকাজুড়ে এখন উৎসব উৎসব সাজ। ভোটারদের মধ্যে তাদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নেয়ার সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগানোর উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়ছে। জনগণ চায় অবাধ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। তাদের সেই চাওয়া ও আকাক্সক্ষাকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনও সার্বিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। খুলনা ও গাজীপুরের মতো সংঘর্ষ, হানাহানি এবং প্রাণহানিমুক্ত পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিতে আগ্রহী। তাদের এই আগ্রহকে কার্যকর রূপ দিতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকেও সক্রিয় হতে হবে। নিশ্চয়তা দিতে হবে ভোটারদের যে, নির্বিঘেœ ভোট প্রদান করা যাবে। আগামী ৩০ জুলাই একযোগে সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। এর আগে খুলনা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন কোন গোলযোগ, সংঘর্ষ, এমনকি প্রাণহানি ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ছিল সহিষ্ণু। সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ছিল সহায়ক। আশা করা হচ্ছে, তিন সিটি নির্বাচনও অনুরূপভাবে সম্পন্ন হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম এখন তিন মহানগরী। নির্বাচন সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটারদের মন জয় করতে মাঠে নেমেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা। পথসভা থেকে শুরু করে দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট চাওয়া চলছে। অনেক প্রার্থী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। নানা রকম প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। ভোটাররা তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি যাতে লঙ্ঘিত না হয় সেজন্য প্রার্থীরাও এখন সতর্ক রয়েছেন। এই অবস্থা ভোটের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে এমন আস্থা ও বিশ্বাস ভোটারদের। এটা ঠিক যে, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচকম-লীর দায়িত্ববোধই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার সবচেয়ে বড় শর্ত। সে কারণেই ভোটার এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিচয় প্রদানের বিকল্প নেই। অবস্থা সে রকম হলে নির্বাচন সব ধরনের বিতর্কের উর্ধে থাকতে পারে। নির্বাচন কমিশন সব প্রার্থীকেই আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এক্ষেত্রে কমিশনকে কঠোর হতেই হবে। সরকারী ও বিরোধী দল যা-ই হোক না কেন, সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমান সুযোগ-সুবিধা বহাল রাখাও কমিশনের দায়িত্বভুক্ত। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তারা যথাযথ ভূমিকা পালন করায় গাজীপুর ও খুলনায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ এবং সহিংসতামুক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। যে বৈঠকে তিন সিটির উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে নির্বাচনের আগে তিন সিটিতেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, নির্বাচনী এলাকায় সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের রোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সন্দেহভাজন মনে হলে যে কাউকে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী গ্রেফতার করা যাবে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করতে হবে। নির্বাচনে সহিংসতা, এমনকি কোথাও কোথাও জঙ্গী তৎপরতার আশঙ্কাও ব্যক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচনে টাকার খেলা, বহিরাগতদের আগমন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার ইত্যাদি বিষয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা এখন কার্যকর করাটাই মুখ্য বিষয়। দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই তিন সিটি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সক্রিয় থেকে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা নেবে বলে প্রত্যাশা করি। জাতীয় নির্বাচনের আগে এই তিন সিটি নির্বাচন রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কিমশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে সবাই একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করলে অহিংস, স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব হবে।