২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গোপসাগরের অনাবিষ্কৃত সম্পদ আহরণে নীতিমালা তৈরির দাবি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরের অনাবিষ্কৃত সম্পদ আহরণের জন্য যথাযথ ও দারিদ্র্য বান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের দাবি করেছেন অধিকার ভিত্তিক নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞবৃন্দ। শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তারা বঙ্গোপসাগরকে নিয়ে সরকার যে মাছ ধরার কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে, তাতে সাগরে সাধারণ মৎস্যজীবীদের প্রবেশাধিকার যেন নিশ্চিত হয় তারও সুপারিশ করেন।

কোস্ট ট্রাস্ট আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতিবিদ ও পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কেএম আবদুস সালাম।

কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ও মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান এবং কোস্ট ট্রাস্টের পার্টনারশিপ ও এ্যাডভোকেসি সমন্বয়কারী সালেহিন সরফরাজ। এতে আরও বক্তব্য রাখেন বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেকটোরাল টেকনিক্যাল এ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)-এর পরিচালক পংকজ হাজারিকা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং মৎস্য খাত বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দুর রহমান চৌধুরী এবং মৎস্য অধিদফতরের পরিচালক (মেরিন) ড. এ কে এম আমিনুল হক।

ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ বলেন, আমরা বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি এ্যান্ড একশ্যান প্ল্যান পর্যালোচনা করছি, সেখানে ব্লু ইকোনমির বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। তিনি ব্লু ইকোনমি সংক্রান্ত কার্যক্রমের স্বার্থে দরিদ্র বান্ধব অবকাঠামো এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সকল পানি সম্পদ ও জলাশয়গুলোক প্রকৃত জেলেদের স্বার্থে উন্মুক্ত করে দেয়ার পরামর্শ দেন।

তিনজন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করেন, যেমন ব্লু ইকোনমি ও পররাষ্ট্র নীতি এবং ব্লু ইকোনমি দ্বারা দারিদ্র বিমোচনের সরাকরের কৌশল। বিষয়গুলো নিয়ে তারা কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন- ১. বাংলাদেশকে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার অন্যতম সংযোগস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, আর এ কারণেই বাণিজ্য, সম্পদ আহরণ এবং ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে, ২. সরকারকে উপকূলীয় এলাকার দারিদ্র বিমোচনের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে, যেখানে জেলেরা তুলনামূলকভাবে বেশি দারিদ্রে জর্জরিত, তাই উপকূলীয় জেলেদের জন্য বঙ্গোপসাগরের সম্পদে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সরকার এই প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে পারে একটি যথাযথ নীতিমালা গ্রহণ করে। এই নীতিমালা প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক বৈষম্য নিরসনেও ভূমিকা রাখবে।

ড. সায়েদুর রহমান বলেন, সরকারের নীতিমালা আছে, কিন্তু সেখানে সরকারের অনুমান এবং প্রকৃত তথ্যের মধ্যে অনেক দূরত্ব রয়েছে। এই দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে হবে এবং নীতিমালাকে হতে হবে প্রকৃত তথ্য নির্ভর। তিনি বঙ্গোপসাগরে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং উপকূলীয় জেলেদের পর্যাপ্ত বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ড. আমিনুল হক বলেন, ব্লু ইকোনমিতে অনেক অংশীজন বা স্টেকহোল্ডার সম্পর্কিত আছে, এতে সম্ভাবনা এবং উদ্বেগ দুটোই আছে। উপকূলীয় জেলেদের জন্য বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করার বিষয়টি আমাদের ভাবতে হবে, সরকার অবশ্য এ বিষয়ে প্রকল্প গ্রহণ করছে। আমরা মাছ আহরণ নিষিদ্ধ থাকার সময়ে বঙ্গোপসাগর এবং মেঘনা নদীর মোহনাগুলোতে জেলেদের জন্য খাঁচাভিত্তিক মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পারি।

কে এম আব্দুস সালাম বলেন, উপকূলীয় জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন করতে হলে তাদের ঋণের উচ্চসুদ হার থেকে বাঁচাতে হবে। তিনি এনজিওদের এই বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জনান। পংকজ হাজারিকা বলেন, ব্লু ইকোনমি বিষয়ে বাংলাদেশ বিমসেটকে দেশগলোর মধ্যে নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ভোলা জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম উপকূলীয় এলাকার মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রগুলো রক্ষা করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান। তিনি জলদস্যুদের হাত থেকে জেলে এবং তাদের সম্পদ রক্ষারও আহ্বান জানান।