১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টি-২০তে টাইগারদের কৃতিত্ব

টি-২০-এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সিরিজ জিতে নেয়ার গৌরব অর্জন করে। সাকিব আল হাসানের অধিনায়কত্বই শুধু নয়, নিজের ক্রিকেট বিশ্বে বারো বছর পার করার সুবর্ণ ক্ষণটি আরও মহিমান্বিত হয়ে থাকল বিদেশের মাটিতে এই অবিস্মরণীয় জয়টি অর্জনের মধ্যে। ১৯৯৭ সালে মাত্র ২১ বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আঙিনায় বাংলাদেশের শুভ সূচনা। উত্থান-পতন, চড়াই-উতরাই আর টানাপোড়েন অতিক্রম করতে গিয়ে সব সময় সামনের দিকেই তাকাতে হয়েছে। জয়-পরাজয়কে বরণ করে অনেক কৃতিত্ব যখন তাদের আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখিয়েছে, পাশাপাশি আশা ভঙ্গের বেদনার অভিজ্ঞতাও কিছু কম ছিল না। বিজয়ের মুকুট যেমন পরতে হয়েছে, তেমনি পরাজয়ের গ্লানিও কম কষ্টদায়ক হয়নি। তবে এ কথা সুবিদিত, ক্রিকেট মানেই অনিশ্চয়তার খেলা। যেদিন খেলা হয় সেটা সেদিনেরই খেলা। বিদেশের মাটিতে হয়ে যায় তা আরও সঙ্কটজনক। সেটাকে জয় করতে পারা সবচেয়ে বড় সাফল্য। বিশ্বকাপ ফুটবলের চরম উত্তেজনার সময় অতিক্রান্তের বিশেষ পর্বটিতে বাংলাদেশ যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-২০ ক্রিকেটের সিরিজ খেলতে। টেস্ট খেলা দিয়ে শুরু হয় সফরকারী বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাগতিক দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম সিরিজটি। এক সময় ক্রিকেট বিশ্ব দাপিয়ে বেড়ানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলই শুধু নয়, মাঠে তৈরি করা পিচটিও ছিল বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। টেস্ট খেলার জন্য যে ধৈর্য, অভিজ্ঞতা তার চেয়েও বেশি ব্যক্তিক এবং দলীয় পারদর্শিতার জন্য বাংলাদেশকে হয়তবা আরও সময়ক্ষেপণ করতে হবে। আর বোধ হয় সে কারণেই টেস্টে বাংলাদেশ নিজেকে সেভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলো। সিরিজ হেরে পরাজয়ের সমবেদনাকে পাশ কাটিয়ে নতুন উদ্যমে একদিনের খেলায় মনোনিবেশ করাটাই ছিল টাইগারদের জন্য বিশেষ জরুরী। খেলার মাঠে শুধু পিচই নয়, টসে জেতাও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সেটা যদি বিদেশের মাটি হয় তা হলে সফরকারীদের জন্য আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। টেস্টে শোচনীয় হারের পর অন্তর্নিহিত শক্তি আর বুদ্ধিতে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর যে অদম্য সাহস আর উদ্দীপ্ত মনোবল সেটাই সাকিব আল হাসানের দলকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে। ওয়ান ডে সিরিজের প্রথম খেলাতে শতক থেকে মাত্র ৩ রান পিছিয়ে থাকলেও দলকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করান তিনি। বল হাতেও এই অলরাউন্ডার নিজের সাফল্য দেখাতে সক্ষম হন। তুখোড় ব্যাটসম্যান তামিমও একদিনের সিরিজে শুধু নিজের সক্ষমতাই প্রমাণ করলেন না, দলকেও জয়ের স্বপ্ন দেখালেন। ফলে একদিনের সিরিজে বাংলাদেশের বিজয় মুকুট আসতে সময় লাগেনি। এক সময় ক্রিকেট বিশ্বে সাড়া জাগানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশের উদীয়মান খেলোয়াড়দের দাপটে সিরিজ হেরে নিজেদের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করল। এরপর একেবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক অজানা-অচেনা মাটিতে টি-২০-এর মতো দ্রুততর খেলার মোকাবেলা করতে হয় ৩ সিরিজের প্রথম খেলাটি বাংলাদেশের হাতের বাইরে চলে গেলেও খেলোয়াড়দের মনোবল জিইয়ে রাখতে অসুবিধা হয়নি। কারণ পরের দুই খেলায় সেটাই প্রমাণ হলো। টি-২০তেও সাকিব তার সফল অধিনায়কত্বের পাশাপাশি অলরাউন্ডারের বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়ে সিরিজসেরা বিবেচিত হলেন। টি-২০-এর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় খেলা অনুষ্ঠিত হয় ফ্লোরিডায়। দ্বিতীয় খেলাটিও তামিম-সাকিবের অসামান্য পারদর্শিতায় স্বাগত দল পরাভূত হয়। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে এক সময় বাদ পড়া লিটন দাস আপন শক্তিতে জ্বলে ওঠে। ৩২ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংসে লিটন দাস দলকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়। শেষ অবধি দলের রান পৌঁছায় ১৮৪তে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন ১৩৫/৭ উইকেটে তখন বাকি খেলাটুকু বৃষ্টিই নির্ধারণ করে দেয়। বৃষ্টিবিঘিœত নিয়মে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে ১৯ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নেয়। ম্যাচসেরার জয়মাল্য আসে লিটনের কাছে। দুর্দান্ত এক খেলা উপহার দিয়ে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শক্তিশালী দলকে একদিন ও টি-২০ সিরিজে পরাজিত করে বিজয়ের মুকুট দখল করে। অভিনন্দন সাকিব এবং তার দলকে ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের সম্মানকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়ার জন্য।