১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চিরুনি অভিযানকে নির্মম আগ্রসন হিসেবে দেখছে বিএনপি

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চিরুনি অভিযানকে নির্মম আগ্রসন হিসেবে দেখছে বিএনপি

অনলা্ইন রিপোর্টার ॥ নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যে ‘চিরুনি অভিযান’ শুরু করেছে, তাকে ‘সরকারের নির্মম আগ্রসন’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।

দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ছাত্রলীগের পাণ্ডাদের দিয়ে শিশু-কিশোরদের রক্ত নিঙড়ে নেওয়ার পরেও ক্ষান্ত হয়নি সরকার। এখন চলছে র্যাব-পুলিশ দিয়ে বর্বর ক্র্যাক ডাউন। গতকাল বসুন্ধরাসহ রাজধানীতে সরকারি বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য চিরুনি অভিযান চালিয়েছে। “

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে গত সোমবার বসুন্ধরা এলাকার কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়কে বিক্ষোভে নামলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে।

এর দুদিন পর বুধবার রাতে বসুন্ধরা ও কালাচাঁদপুর এলাকা ঘেরাও করে তিন ঘণ্টা ধরে তল্লাশি অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রিজভী বলেন, “এই অভিযান সরাসরি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এক নির্মম আগ্রাসন। আমরা অবিলম্বে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের ওপর এই নির্মম হয়রানি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”

সোমবারের সংঘর্ষের ঘটনায় বাড্ডা ও ভাটারা থানার দুই মামলায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৭৫ জনকে আটক করে পুলিশ, পরে তাদের মধ্যে ২২ জনকে পাঠানো হয় রিমান্ডে।

সে প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের আটক করে কোমরে দড়ি বেঁধে রিমান্ডে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন করা হচ্ছে।”

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এমন আচরণে এবং মামলার কারণে অভিভাবকদের আতঙ্ক ও উদ্বেগে থাকার কথাও রিজভী বলেন।

তিনি বলেন, “রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, সামাজিক অগ্রগতি ও সভ্যতার শত্রু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। এরা মানসিক বৈকল্যগ্রস্থ। ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা শিশু-কিশোরদের রক্ত ঝরাতেও দ্বিধা করছে না। সরকার এখন ক্রোধের খেলায় মেতে উঠেছে।”

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে এই বিএনপি নেতা বলেন, শিক্ষার্থীদের এই জাগরণ ‘দুঃশাসনের বিরুদ্ধ ‘।

ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. রিপন নিহত হওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন রিজভী।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, রফিক শিকদার ও শাহজাহান সম্রাট উপস্থিত ছিলেন।