২০ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাবালে নূরের মালিক মোঃ শাহাদত হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

জাবালে নূরের মালিক মোঃ শাহাদত হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের মামলায় জাবালে নূরের মালিক মোঃ শাহাদত হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সাত দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার শাহাদত হোসেনকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম। শাহাদত হোসেন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, স্বীকারোক্তিতে মালিক শাহদাত হোসেন বলেছেন, তিনি জাবালে নূর পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের মালিক। তার ওই বাসের ড্রাইভার ছিলেন মাসুম বিল্লাহ। তিনি জাবালে নূর কোম্পানির সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নোমান ও ডিএমডি অলি আহমেদের পূর্ব পরিচিত। তাদের অনুরোধেই চালক মাসুম বিল্লাহর ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিয়োগ প্রদান করেন।

তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই-বাছাই না করে অনুপযুক্ত চালক নিয়োগ করার কারণে গত ২৯ জুলাই জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের পাশে বাসে ওঠার অপেক্ষায় থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেনির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেনির ছাত্র আব্দুল করিম রাজীব নিহত হয়। গত ২ আগস্ট শাহাদত হোসেনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এদিকে মামলাটিতে ঘাতক জাবালে নূরের বাসচালক মাসুম বিল্লাহ বুধবার একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটিতে বাসচালক জোবায়ের ও সোহাগ আলী এবং চালকের সহকারী এনায়েত হোসেন ও রিপন হোসেন ৭ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। গত ৬ আগস্ট এ চার আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দুপুরে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় মুখেই দাঁড়িয়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে আরেকটি দ্রুত গতির বাস ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিমিষেই ওঠে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর। এতে চাকার নীচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজীব মারা যায়। আহত হয় আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী। ওই ঘটনায় ২৯ জুলাই দিবাগত রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম এ মামলা দায়ের করেন।