২২ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রশ্ন জালিয়াতির সবচেয়ে বড় চক্র গ্রেফতার

প্রশ্ন জালিয়াতির সবচেয়ে বড় চক্র গ্রেফতার

অনলাইন রিপোর্টার ॥ চাকুরিতে নিয়োগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন জালিয়াতির সবচেয়ে বড় চক্রটিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গেল শুক্রবার থেকে টানা পাঁচদিনের অভিযানে এ চক্রের নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। যারা ১০ কোটি নগদ টাকা ও সম্পদের মালিক। অনুসন্ধানে তাদের সম্পদের পরিমাণ আরও বাড়বে।

আজ(বৃহস্পতিবার) সিআইডির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সিআইডির অর্গানাইজড টিমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, অলিপ কুমার বিশ্বাস, মোস্তফা কামাল, ইব্রাহিম, আয়ূব আলী বাঁধন, গোলাম মোহাম্মদ বাবুল, আনোয়ার হোসেন মুজমদার, নূরুল ইসলাম, হোসনে আরা বেগম, হাসমত আলী।

গ্রেফতারের সময়ে তাদের কাছ থেকে বিসিএস পরীক্ষার লিখিত প্রশ্নপত্রের কপি এবং ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি চক্রের হোতা অলিপ কুমার বিশ্বাস বিকেএসপি’র সহকারী পরিচালক, মোস্তফা কামাল বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ইব্রাহিম ৩৬ তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত, আয়ূব আলী বাঁধন ৩৮ তম বিসিএসের প্রিলিতে উত্তীর্ণ।

তারা বাংলাদেশ কর্ম কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক ও সরকারি চাকরির নিয়োগ ও ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতি করতো।

মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১৯ অক্টোবর গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতি চক্র গ্রেফতার করতে অভিযান হয়। পরের দিন শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়। এরপর নাটোরের ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামীসহ এ চক্রের ২৮ জনকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আগের রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎপাটন করা হয়।

ভর্তি কিংবা নিয়োগ পরীক্ষায় দুইভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করত। আরেকটি চক্র পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করত।

এর মধ্যে গ্রেফতার ইব্রাহিমের ছিল বিলাসী জীবন। তিনি মাধ্যমে ৩৬ তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন। তিনি ৩৬ লাখ টাকা দামের গাড়িতে চলাচল করতেন। জালিয়াতির টাকায় খুলনার মুজগুন্নী এলাকায় সাড়ে ছয় শতাংশ জমির উপরে চারতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। নড়াইলে তৈরি করেছে ডুপ্লেক্স বাড়ি। এছাড়াও অবৈধ মানিএক্সচেঞ্জের ব্যবসা করতের বলে স্বীকার করেছেন সিআইডির কাছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করার কথা জানিয়েছে সিআইডি।