২২ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গোপালগঞ্জে চাকরি দেয়ার নামে ৭ প্রতারক আটক

গোপালগঞ্জে চাকরি দেয়ার নামে ৭ প্রতারক আটক

নিজস্ব সংবাদদাতা, গোপালগঞ্জ ॥ গোপালগঞ্জে চাকরি দেয়ার নাম করে সহস্রাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ৭ প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহষ্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের কুয়াডাঙ্গা এলাকা থেকে পুলিশ তাদেরকে আটক করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কোম্পানীর পরিচালক আবু সাঈদ, শেখ সাদী, শিবলী খানম, ইতি, তিথি ও সামসুন্নাহার। এদের বাড়ি গোপালগঞ্জ ও খুলনা জেলার বিভিন্ন গ্রামে।

প্রতারিত যুবক গোপালগঞ্জ শহরের থানাপাড়ার কাজী রিফাত আহম্মেদ ও মুকসুদপুর উপজেলার বেজড়া গ্রামের আতোয়ার রহমান বলেন, প্রায় ২ মাস আগে আবু সাঈদ গোপালগঞ্জ শহরের কুয়াডাঙ্গা এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে ওয়ার্ল্ড মিশন ২১ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী খুলে বসেন। তিনি গোপালগঞ্জ পৌরসভা থেকে এ কোম্পানীর আড়ালে মেসার্স সাঈদ ইলেকট্রিকের নামে ট্রেড লাইসেন্স নেন। মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইলেকট্রিক পণ্য বাজারজাত করার কর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ রেবকারদের প্রস্তাব দেয়।

প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রায় ১ হাজার মানুষকে কর্মী করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ হাজার ৫’শ টাকা করে হাতিয়ে নেয় কোম্পানী। পরে কোম্পানী থেকে বলা হয় ৫ হাজার ৫’শ টাকার একজন সদস্য যোগাড় করে দিলে ৬’শ টাকা কমিশন দেয়া হবে। এছাড়া কোম্পানীর লোকজন বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন কথাবার্তা শুরু করেন। এতে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে বৃহষ্পতিবার প্রতারণার শিকার মানুষগুলো অফিস ঘেরাও করেন।

পরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কোম্পানীর পরিচালক আবু সাঈদকে মারপিট করা হয়। খবর পেয়ে গোপালগঞ্জের এএসপি সার্কেল ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে গিয়ে কোম্পানীর পরিচালকসহ ৭ জনকে আটক করেন।

কুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা সোহাগ বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বেকারদের ভুল বুঝিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাতেন আবু সাঈদ। স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীরা এখানে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা দিত। এতে তাদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছিল। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভালো কাজ করেছে। এ প্রতারণা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

গোপালগঞ্জের এএসপি সার্কেল ছানোয়ার হোসেনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জনকণ্ঠকে জানান, গত ফেব্রুয়ারী মাসে একই প্রতারণার দায়ে আবু সাঈদসহ ৯ জনকে ওই স্থান থেকে আটক করা হয়েছিল। সে সময় সে ৪’শ মানুষের কাছ থেকে ২ হাজার ৭ শ’ টাকা করে আদায় করে, যা ফেরত দিয়ে এবং মুচলেকা দিয়ে সে মুক্তি পায়। ফের সে একই কাজ করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে সহ ৭ জনকে আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।