১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বোমারু মিজান গ্রেফতার

২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজনভ্যানে ভয়াবহ জঙ্গী হামলার পরিকল্পনাকারী জঙ্গী বোমারু মিজান গ্রেফতার হয়েছে ভারতে। সোমবার ভারতের ব্যাঙ্গালুরু শহরের গোপন একটি আস্তানা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সে দেশের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ। ইতোমধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ে বোমারু মিজানের ছবি আদান-প্রদানসহ যোগাযোগের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে বিষয়টি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় প্রিজনভ্যানে সশস্ত্র জঙ্গী হামলা চালিয়ে পুলিশ হত্যা করে ছিনিয়ে নেয় তিন দুর্ধর্ষ জঙ্গীকে। তিন জঙ্গীর মধ্যে একজন পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হলেও মিজান ও তার সঙ্গী সানি ভারতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তখন বাংলাদেশ পুলিশ প্রত্যেককে ধরিয়ে দেয়ার জন্য পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। ভারতে পালিয়ে গিয়ে মিজান ও তার সঙ্গীরা জঙ্গী হামলা, জাল টাকা তৈরি, নতুন জঙ্গীদের সন্ত্রাসী হামলার প্রশিক্ষণ দান ইত্যাদি কুকর্ম করা অব্যাহত রাখে। বোমারু মিজানকে পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড়-বুদ্ধগয়ায় বোমা বিস্ফোরণ, বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে জঙ্গী নেটওয়ার্ক তৈরি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরি, জাল টাকা তৈরি, সর্বোপরি আগামী ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় শোক দিবস এবং ভারতের জাতীয় দিবসে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার জন্য ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। খাগড়াগড় হামলার অন্যতম আসামি হিসেবে জঙ্গী মিজানকে ধরিয়ে দিতে ভারত সরকারও দশ লাখ রুপী পুরস্কার ঘোষণা করে। এ থেকেই বোঝা যায় যে, জঙ্গী মিজানের জঙ্গী নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত ও ভয়ঙ্কর। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে ভারত তাদের সরকারের পক্ষ থেকে ১১ ভারতীয় জঙ্গীর তালিকা এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৪১ বাংলাদেশী জঙ্গীর তালিকা হস্তান্তর করা হয়, যাতে ছিল জঙ্গী মিজানের নাম।

এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় জঙ্গী সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ নৃশংস হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করে প্রয়োজনে সব রকম সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেছিলেন। সাম্প্রতিককালে আশঙ্কাজনকভাবে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী ও জঙ্গী হামলা মোকাবেলায় দু’দেশের করণীয় এবং সহায়তা বাড়ানোর বিষয়টি সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এরই চূড়ান্ত ফলশ্রুতি হলো সন্ত্রাস দমনে প্রশিক্ষণ, সামর্থ্য বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা। মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লড়াইয়ে ভারতের পরিপূর্ণ সমর্থন এবং সহযোগিতার বিষয়টি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অবশ্যই গুরুত্ব বহন করে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশ সরকারকে অনুরূপ আশ্বাস প্রদান করেছে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গীবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে যথেষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রসহ যোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে অনেক অগ্রসর। সেদিক বিবেচনায় বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে উন্নত প্রশিক্ষণ কর্মসূচীসহ সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তা নিতে পারে।

ভারত যে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু ঐতিহাসিক এই সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সর্বদাই বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। সব রকম সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করেছে। সে দেশে অবস্থানরত এক কোটি শরণার্থীকে দীর্ঘ কয়েক মাস আশ্রয় দেয়াসহ মানবিক ত্রাণ দিয়েছে। বাংলাদেশ সর্বদাই তা স্মরণ করে থাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে। ইতোমধ্যে ১৯৭৪ সালে দু’দেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়নও সম্পন্ন হয়েছে সুচারভাবে। সন্ত্রাসবাদ ও অবৈধ মাদক পাচার প্রতিরোধে দু’দেশের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন। ২০১৩ সালে সম্পাদিত বন্দী বিনিময় চুক্তিতে নতুন কিছু বিষয় সংযোজিতও হয়েছে বর্তমান সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গী হামলা মোকাবেলায়। এতে দু’দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময় অপেক্ষাকৃত সহজ করা হয়েছে। এটা সত্য যে, বাংলাদেশ ভূখ-ে অনেক সন্ত্রাসী ও জেএমবি সদস্য সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে পালিয়ে যায় পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা ও অন্যত্র। তেমনিভাবে ভারত থেকেও অনেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। ফলে এক দেশের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অন্য দেশের সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিনিময় প্রত্যর্পণ চুক্তির বিষয়টি সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে সবিশেষ সহায়ক হতে পারে।