১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেউ কথা রাখেনি!

কথা দেয়া হয় কি কথা না রাখার জন্য? সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানী ঢাকা ডুবতে বসে। এ বিষয়ে দুই মেয়র, ওয়াসার এমডি, এমনকি মন্ত্রী মহোদয় পর্যন্ত অনেক আশার বাণী শুনিয়েছেন, কথা দিয়েছেন দুর্দশা লাঘবের। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তাই কবির ভাষায় বলতেই হয়Ñ কেউ কথা রাখেনি!

একটি আধুনিক নগরীতে জলাবদ্ধতার কোন সুযোগ নেই। ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো আমাদের মহানগরগুলো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠায় এবং মরণ দশায় উপনীত হওয়ার পরও সাবধানতা অবলম্বন করে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ায় এগুলো এখন জলাবদ্ধতার শিকার। শুধু জলাবদ্ধতা না বলে এটাকে মহাজলাবদ্ধতা বললেই বোধ করি সঠিক হবে। ঢাকায় নতুন নতুন এলাকায় জলজট দেখা দেয়ায় এবং চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার রেকর্ড হওয়ায় এ কথা নির্দ্বিধায় বলা চলে। মেয়রদের আমরা বলে থাকি নগরপিতা। মেয়র আসেন মেয়র যান, প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়ান; কিন্তু নগরীর সত্যিকারের পিতৃসুলভ দায়িত্ব পালন করতে তাদের দেখা যায় না। রাজধানী ঢাকার কথা বলতে গেলে অনেকগুলো বিষয় সামনে চলে আসে। এর দুয়েকটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ঢাকার জলাশয় ও খালগুলোকে ভরাট করে বহুতল ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে মহানগরীর চারপাশের নদীগুলোকে দখল-দূষণের মাধ্যমে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে। তাই স্বাভাবিক বৃষ্টিতে জল ধরে রাখা, জলের প্রবাহ এবং সর্বোপরি জলের গন্তব্যÑ সব এলোমেলো করে ফেলা হয়েছে। এক মহাবিপর্যস্ত পরিস্থিতি। ফলে কোন টেকনিকই আর কাজে আসছে না। এর ওপর রয়েছে অতিরিক্ত জনচাপ এবং যানের আধিক্য।

জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর যানজট দুঃসহ আকার ধারণ করে। জলাবদ্ধতা আর যানজটের কবলে পড়ে রাজধানীবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমেও রাজধানীর বহু সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাজধানীবাসীর সেবায় নিয়োজিত একাধিক কর্তৃপক্ষের কাজে সমন্বয় নেই। এসব কারণে জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ফলপ্রসূ হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুম ছাড়াও সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজধানীতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। কাজেই বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির ভার যে রাজধানী বহন করতে পারবে না সেটা জানা কথা। প্রশ্ন হচ্ছে পরিত্রাণের উপায় কী? যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, বছরের পর বছর ধরে উড়াল সড়ক নির্মাণ, কাটাকাটি, নতুন নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ, অপর্যাপ্ত পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি এবং সমন্বয়হীনতা, সর্বোপরি মৌসুমি বৃষ্টিপাত জনজীবনের এই প্রলম্বিত দুর্ভোগের জন্য প্রধানত দায়ী। বেদখল হয়ে যাওয়া ৫৩টি খালও এই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। অন্যদিকে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীও মুমূর্ষুপ্রায়। এসব নিয়ে প্রতিবছর ঢাকার সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, রাজউক, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা ওয়াসার চাপানউতোর খেলাসহ সভা-সেমিনারে সুপারিশ প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবে আদৌ কোন অগ্রগতি নেই বললেই চলে।

ঢাকা ওয়াসার যে ২৬টি খাল দেখভাল করার কথা সেগুলো দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা হলে এবং এর পাশাপাশি বক্স-কালভার্ট ও ড্রেনের ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে অন্তত জলাবদ্ধতা সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনাও আধুনিক করা জরুরী। তবেই মুক্তি মিলবে জলাবদ্ধতা থেকে।