২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সবকিছু দেখে মনে হয় দেশে কোনও সরকার নেই ॥ মওদুদ

সবকিছু দেখে মনে হয় দেশে কোনও সরকার নেই ॥ মওদুদ

অনলাইন রিপোর্টার ॥ সবকিছু দেখে মনে হয় দেশে কোনও সরকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, ‘সবকিছু দেখে মনে হয় দেশে কোনও সরকার নেই। পুলিশ আছে, র্যাব আছে, কিন্তু কোনও সরকার নেই। রাজধানীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা করা হলো, কারা হামলা করেছে আমরা সবাই জানি কিন্তু কোনও গ্রেফতার নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা চলে গেল, সোনা চুরি হলো, কয়লা চুরি হলো, পাথর চুরি হলো, কঠিন শিলা চুরি হলো কিন্তু একজনকে গ্রেফতার করা হয়নি। দেশে সরকার থাকলে এগুলো হওয়ার কথা নয়।’

আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন আয়োজিত ‘শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক নির্যাতন এবং বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা কেন?’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মওদুদ বলেন, ‘আমাদের নেত্রী কারাগারে, সবাই মামলায় জর্জরিত। বিএনপিকে নিঃশেষ করার যেই পরিকল্পনা, তাতে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। কিন্তু তাতে কি দেশের কোনও উন্নতি হয়েছে? প্রকৃতির যে আইন তা নিজস্ব গতিতে চলে। এর একটি দৃষ্টান্ত কোটা আন্দোলন এবং আরেকটি হলো শিক্ষার্থীদের হত্যার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন। এগুলো কী আমরা কখনও কল্পনা করতে পেরেছিলাম? আজকে এই ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসবে এটা কি আমরা কখনও ভেবেছিলাম? এটাকেই বলে প্রকৃতির আইন।’

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার সরকারের তল্পিবাহক ব্যক্তি। কিন্তু বিবেকের তাড়নায় একটি সত্য কথা বলে ফেলেছেন যে আগামী নির্বাচনে অনিয়ম যে হবে না তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তার এই বক্তব্যেও পরেই অন্যান্য কমিশনাররা দ্বিমত পোষণ করেছেন। এরপরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আর নিজের পদে থাকার কোনও অধিকার থাকতে পারে না। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করি।’

সাংবাদিকদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনেক সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু এরপরে শহিদুল আলমের ওপর যেই অত্যাচার হয়েছে এটা অকল্পনীয়। সরকার একদম বেপরোয়া হয়ে গেছে। সরকার বুঝতে পেরেছে জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আর নেই। জনগণের থেকে তারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই উপলব্ধি আজকে তাদের মধ্যে এসেছে বলেই তারা হিংস্র ও নিষ্ঠুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে ২২ জন ছাত্রকে রিমান্ডে পাঠানোর পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে।