২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে দশ দফা দাবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি বছর মোট বাজেটের ৪-৫ শতাংশ বরাদ্দ, সরকারী চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য কমপক্ষে ৩ শতাংশ কোটাসংরক্ষণ, জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধি হিসেবে ২-৩টি সংরক্ষণ, দুস্থ প্রতিবন্ধীদের ভাতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য-শিক্ষা, চিত্তবিনোদন, সর্বস্তরে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করাসহ দশ দফা দাবি পেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে দেশে প্রথম বারের মতো আয়োজিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিতর্ক প্রতিযোগিতা। শুক্রবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী মমতাজ বেগম এমপি। ‘প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষায় সরকারের করণীয়’-শীর্ষক চূড়ান্ত লড়াইয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন, ইডেন মহিলা কলেজ রানার আপ এবং চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান বলেন, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের মূল লক্ষ্য- উন্নয়নের ধারায় কাউকে কোনভাবেই পেছনে রেখে যাবে না। প্রতিটি মানুষকেই উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এজন্য দেশের ১৬ মিলিয়ন প্রতিবন্ধী মানুষকে অবশ্যই উন্নয়নের মূল ধারায় যুক্ত করতে হবে। এই বিরাট জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের কৌশলগুলো চিহ্নিত করে তাদের ইচ্ছে ও কর্মশক্তিকে বাড়াতে হবে। এতে করে তারা আরও কাজ করতে উৎসাহী হবে। তাদেরকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে না পারলে আমাদের সব উন্নয়ন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে এই সরকারের অবদান অন্য যে কোন সরকারের তুলনায় অগ্রসর। প্রতিবন্ধী বান্ধব এই সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোকে আরও এগিয়ে নেয়া প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী মমতাজ বেগম এমপি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপ আগে গ্রহণ করা হলে এখন সমস্যায় পড়তে হতো না, ৪৭ বছরে অনেক এগিয়ে যেতাম।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নসহ তাদের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকারের প্রচেষ্টা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ২০০৮ সালের মহানগর ইমারত বিধিমালায় প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা পার্কিং, টয়লেট, র‌্যাম্প তৈরির কথা উল্লেখ করলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৩ সালের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইনে ভাতা প্রদান, শিক্ষা গ্রহণ ও চিকিৎসা সেবাসহ নানা অধিকারের কথা বলা থাকলেও এর দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।