১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাখাইনে চিকিৎসা না পেয়ে ধুকে ধুকে মরছে রোহিঙ্গারা

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ মিয়ানমারের উত্তর রাখাইনে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে রোহিঙ্গারা ধুকে ধুকে মরছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন এনজিও সংস্থার চিকিৎসক দল বিশেষ করে এমএসএফ ইতোপূর্বে রাখাইন প্রদেশে উত্তর রাখাইনে মানবিক চিকিৎসা সেবা চালিয়ে আসছিল। রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসী আটকের নামে শুদ্ধি অভিযান চলাকালে হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়া হয় এমএসএফ এর কার্যক্রম। এমনকি ওই সময় তাদের ৪টি মেডিক্যাল সেন্টারের মধ্যে তিনটি পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে রাখাইন প্রদেশের উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গা রোগীদের জন্য কোন ধরনের মানবিক চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলে সীমান্তের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক মানবিক চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স-ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) এর মতে স্বাধীন মানবিক সংস্থাগুলো উত্তর রাখাইনের অরক্ষিত ও ঝুঁকিতে থাকা সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনই যথেষ্ট বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় মানবিক ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের অনুপযুক্ত পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০১৭ সালের ১১ আগস্টে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)’র আক্রমণ ও পরবর্তীতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর তথাকথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে মিয়ানমার সরকার এমএসএফ-এর উত্তর রাখাইনের মেডিক্যাল কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এক বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত এমএসএফ সেখানে কাজ করতে পারছে না।

এমএসএফ-এর মিয়ানমারের অপারেশন ম্যানেজার বেনোয়া দ্য গ্রিজ বলেন, উত্তর রাখাইনে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র পরিস্থিতির যাচাই ও মূল্যায়নের অভাবের কারণে এখন পর্যন্ত কেউই পুরোপুরি জানতে পারছে না যে, সেখানকার মানবিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা আসলে কতটুকু। মিয়ানমার সরকারের কাছে এমএসএফ বারবার আবেদন করেছে স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যাতায়াত ও মেডিক্যাল কার্যক্রমের অনুমতি চেয়ে। কিন্তু প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কল্যাণে এটি এখনও সম্ভব হয়ে উঠেনি।