২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেশবপুরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ১৫ দিন ধরে তালাবদ্ধ

কেশবপুরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ১৫ দিন ধরে তালাবদ্ধ

নিজস্ব সংবাদাতা, কেশবপুর ॥ কেশবপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের চিকিৎসা সেবা মারাত্বক সংকট দেখা দিয়েছে। মেডিকেল অফিসার (মা ও শিশু স্বাস্থ্য) না থাকায় ওই বিভাগের জন্ম নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী ও দীর্ঘ মেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণ এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবায় ধস নেমেছে। ওই বিভাগের ডাক্তার আব্দুল বারী সম্প্রতি বদলী ও ডাঃ তামান্না পারভীন ছুটিতে থাকার কারণে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। সংশি¬ষ্ট বিভাগের মেডিকেল অফিসারের কক্ষ গত ১৫ দিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। যে কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘ প্রায় দশ বছর এখানে থাকা নানা অপকর্মের সাথে জড়িত ডাঃ আব্দুল বারী বদলী থামাতে ঊদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি ভালো লোক দাবি করে একটি আবেদনপত্র লিখে নিজের অধিনস্থ কর্মচারিদের জোর করে স্বাক্ষর নিয়ে বদলী থামানোর অপচেষ্টা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার জানান, ডাক্তারের প্রতিনিধি চপল সাহা আমাদেরকে চাপ দিয়ে এ সি আর ও সার্ভিস বুকে সমস্যা হবে বলে হুমকি দিয়ে ওই আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে রোগিদের যৌন হয়রানী ও ক্লিনিকে অপচিকিৎসায় রোগি মারার তদন্ত হয়েছিল। অথচ তাঁর কিছুই হয়না। অদৃশ্য কারনে যে কোনভাবে সে পার পেয়ে যায়। গত ২৩ জুলাই ডিজি অফিস ডাঃ আব্দুল বারীকে কেশবপুর থেকে বদলী করলেও সেখানে যোগদান না করে বরাবরের মতো এবারও তিনি বদলী থামানোর অপচেষ্টা করছেন।

কেশবপুর উপজেলার ১৪৪ গ্রামসহ পাশ্ববর্তী মনিরামপুর, কলারোয়া ও তালা উপজেলার আংশিক এলাকার মা ও শিশু রোগীরা প্রতিনিয়ত পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সেবা গ্রহণ করতে কেশবপুর হাসপাতালে আসে। সরেজমিন শনিবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জন্ম নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী ও দীর্ঘ মেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণ করতে প্রতিদিনের মতো হাসপাতালে প্রচুর রোগি এসেছে। কিন্তু মেডিকেল অফিসারের কক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় তারা সেবা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। প্রায় দশ বছর এখানে থেকে নিজের আধিপত্ত বিস্তার করে ডাক্তার আব্দুল বারী নিয়মিত অফিস না করে বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশন করেন। অফিসের অধিকাংশ কর্মচারি মুখে তাঁর বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ শোনা গেছে। ২০১৫ সালে কেশবপুর উপজেলার আয়েশা খাতুন নামের এক রোগির যৌন হয়রানী করার অভিযোগ করা হয়। অভিযুক্ত হলেও তিনি ঊদ্ধর্তন কর্তাদের ম্যানেজ করে পার পেয়ে যান। গত বছরের অক্টোম্বর মাসে কেশবপুরের মর্ডান ক্লিনিকে উপজেলার জাহানপুর গ্রামের তাছলিমা নামের এক গৃহবধু তাঁর ভুল অপারেশনে মারা যান। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ডাক্তার আব্দুল বারী ৯ বছর একটানা কেশবপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল অফিসার (মা ও শিশু স্বাস্থ্য) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার সত্তে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীরা জানান, মেডিকেল অফিসার (মা ও শিশু স্বাস্থ্য) আব্দুল বারীর গত ২৩ জুলাই ঢাকা ডিজি অফিস তাঁকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় বদলী করেন। আদেশ পেয়ে তিনি যোগদান না করে বদলী থামাতে দেড় মাসের জন্যে ছুটি নিয়েছেন। গত ২৬ জুলাই থেকে অফিসে আসেন না দপ্তরে অনুপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া তিনি স্বপদে বহাল থাকতে অধীনস্থ কর্মচারীদের বাধ্য করছেন তাঁর পক্ষে ঊধ্বর্তন মহলে ভালো লোক হিসেবে আবেদন করাতে। অসুস্থতার ছুটি নিয়ে তিনি প্রতিদিন কেশবপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে সিজারিয়ানসহ অন্যান্য অপারেশন করে চলেছেন। আর একজন মেডিকেল অফিসার (মা ও শিশু স্বাস্থ্য) ডাঃ তামান্না পারভীন কেশবপুর পরিবার পরিকল্পনা অফিসে দেড় বছর আগে যোগদান করলেও তিনি কখনও অফিস করেন না বলে অভিযোগ রযেছে। অধিকাংশ সময় ছুটি নিয়েই কাটিয়ে দিচ্ছেন। তিনি গত ১০ জুলাই থেকে ৩১ দিনের ছুটি কাটাচ্ছেন। ফলে ওই ডাক্তারদ্বয়ের কক্ষটি এখনও তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

এ ব্যাপারে ডাক্তার আব্দুল বারী বদলীর আদেশ ও দেড় মাসের ছুটির কথা স্বীকার করে জনকণ্ঠকে জানান, আমার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানী ও অপারেশনে রোগির মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত হয়েছে তা মিথ্যা বলে প্রমানিত হয়েছে। আমি কর্মজচারিদের জোর করে স্বাক্ষর করায়নি। এ ব্যাপারে আমি জানিও না। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার বিশ্বাস জানান, ডাক্তার আব্দুল বারী আর ডাক্তার তামান্না পারভীন ছুটি নিয়েছেন। কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শেখ আবু শাহিন বলেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সম্পূর্ন আলাদা। তাদের সাথে স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের কোন সম্পর্ক নেই। তবে শুনেছি তিনি বদলী হয়েছেন। এ ব্যাপারে যশোর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক ডাক্তার মুন্সি মনোয়ার হোসেন জানান, মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আব্দুল বারীকে ডিজি অফিস বদলী করেছেন। আদেশের পর তাকে তিনি মাস পর্যন্ত সময় পাবেন সেখানে যোগদান করতে। পরিবার পরিকল্পনা খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডাক্তার শরিফুল ইসলাম বলেন, কেশবপুরের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যশোরের উপপরিচালক লিখিতভাবে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।