২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লবণ সঙ্কট

লবণ নিয়ে পরিস্থিতি লবণাক্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে লবণ সঙ্কট তৈরির পুরনো প্রথা আবার চাগাড় দিয়ে উঠেছে। দফায় দফায় অপরিশোধিত লবণের দাম বাড়ানো হচ্ছে। রাশ টেনে ধরার জন্য আমদানির সিদ্ধান্ত হলেও তা দেশে যথাসময়ে পৌঁছাবে কিনা সে নিয়ে সংশয় থাকলেও সরকার সচেষ্ট কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে। অতএব লবণ নিয়ে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার সম্ভাবনা যে ক্ষীণ তা স্পষ্ট। এমনিতেই দেশে লবণ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। চাষযোগ্য জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় প্রতিবছর দেশে লবণ উৎপাদন কমছে। অপরদিকে শিল্প-কারখানায় লবণের চাহিদা বাড়ছে। ফলে আসন্ন ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে লবণের সঙ্কট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবশ্য বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জরুরী ভিত্তিতে লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। উৎপাদন, মজুদ ও চাহিদা বিবেচনায় এ বছর পাঁচ লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চামড়া রক্ষায় কোরবানির আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

লবণ একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। মুখরোচক সব ধরনের খাবারেই লবণ অপরিহার্য। তাই লবণের দাম বাড়লে এর প্রভাব সব জায়গায় পড়বে এটাই স্বাভাবিক। বিসিকের তথ্য মতে, দেশে বছরে কুড়ি লাখ টন লবণের বিপরীতে উৎপাদন হয় সাড়ে ১৪ থেকে ১৫ লাখ মেট্রিক টন। ফলে সাড় পাঁচ লাখ মেট্রিক টন ঘাটতির বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতিবছর কোরবানির আগে লবণ আমদানির অনুমতি দেয়া হয়ে থাকে। এ বছর আমদানির অনুমতির আগেই লবণের দাম এক দফা কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বর্তমান লবণ মানভেদে প্রতিকেজি ২৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। ঈদের আগে দাম আরও বাড়তে পারে অতীতের ধারাবাহিকতায়। আশার কথা যে, লবণকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। লবণ শিল্পের সঙ্গে অনেক লোক জড়িত। সে জন্য এ খাতকে সহযোগিতা করা এবং এ খাতের যুক্তিযুক্ত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। লবণ সঙ্কট যাতে না হয় সেজন্য যেমন সতর্ক থাকা জরুরী, তেমনি মূল্য কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাও বাঞ্ছনীয়। লবণের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার জন্য আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। যে কোন মূল্যে লবণের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনা প্রয়োজন। আর ক’দিন পরই দেশে পালন করা হবে ঈদ-উল-আজহা। এ সময় কাঁচা চামড়া সংগ্রহে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত লবণের প্রয়োজন হবে। মূলত ব্যবসায়ীরা এই চাহিদা পুঁজি করেই প্রতিবছর কোরবানি ঈদের আগে লবণ নিয়ে কারসাজি ও দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করে থাকে। যথাসময়ে লবণ আমদানি না হলে দাম বেড়ে যেতে পারে। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের চামড়া শিল্পকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। লবণের বাড়তি দামের সুফল কিন্তু লবণ চাষীরা মোটেও পায় না। মাঝে চামড়া ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে লবণ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে কস্টিক সোডা উৎপাদনের নামে সোডিয়াম সালফেটসহ অন্যান্য শিল্প লবণ আমদানি করে ভোজ্য লবণ হিসাবে বাজারজাত করা নৈতিকতাবিরোধী কাজ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ট্যারিফ কমিশনের মতে, দেশের ৪-৫ লাখ মেট্রিক টন লবণ অবৈধভাবে আনা হয়ে থাকে। এটা বন্ধ করে সঠিক পন্থায় লবণ আমদানি করা উচিত। যারা বিধিবহির্ভূত কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী। দেশে লবণের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আমদানি নির্ভরতা কমাতে লবণ চাষ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া না হলে আমদানির পরিমাণ বাড়তে থাকবে, যা সঙ্কট মোচনে তেমন সহায়ক হবে না। লবণ নিয়ে কোরবানির সময় কারসাজি বন্ধে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে সঙ্কট মোচন হবে।

নির্বাচিত সংবাদ