২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

লাব্বায়েক  আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক ॥ পবিত্র জিলহজ মাসের ৩য় দিবস আমরা অতিবাহিত করে চলেছি। ইতোমধ্যে এ বছরের হজ প্রেয়সীগণ মক্কা শরীফ অবস্থান করছেন। তাদের লাব্বায়েক ধ্বনিতে মুখরিত হিজাজ ভূমি। হজ ইসলামের অন্যতম রুকন এবং ফরজ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য এ ইবাদত অবধারিত ও বাধ্যতামূলক। আমাদের দেশের মানুষের একটি কালচার হলো টাকা পয়সার সমস্ত সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও হজ করে না নানা অজুহাতে। শরীয়তমতো এটি এক জঘন্য পাপ ও আচরণ, ধর্মীয় বিভ্রান্তি। আসুন আমরা আজ এ পর্যায়ে বিশুদ্ধ হাদিস সঙ্কলন পবিত্র তিরমিযী শরীফের হজ অধ্যায় থেকে কিছু প্রাসঙ্গিক হাদিস গ্রহণ করি।

বিখ্যাত সাহাবি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কিসে হজ ওয়াজিব হয়? তিনি বললেন, পাথেয় ও বাহন (থাকলে)।’ হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার হজ করেছেন: হিজরতের পূর্বে দুইবার এবং হিজরতের পরে একবার। এই (শেষোক্ত) হজের সঙ্গে তিনি উমরাও করেছেন। তিনি তেষট্টিটি কোরবানির উট নিয়ে এসেছিলেন। এই উটগুলোর মধ্যে আবু জাহলের একটি উটও ছিল। এর নাসারন্ধ্রে একটি রৌপ্যের শিকল পরানো ছিল। এটিও তিনি জবেহ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি কোরবানির উট থেকে এক টুকরা গোশত নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন। এগুলো পাকানো হলে তিনি এর শুরুয়া পান করেন।

হযরত কাতাদাহ (রা.) বলেন, আমি বিখ্যাত সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)- কে বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার হজ করেছেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার হজ এবং চারবার উমরা করেছেন। জিলক্বদ মাসে একটি উমরা, হুদাইবিয়ার উমরা, হজের সঙ্গে একটি এবং হুনাইন যুদ্ধের গণিমত বণ্টনকালে জিইররানা থেকে একটি উমরা।-(বুখারী মুসলিম)। সম্ভবত এ হাদিসে নবীজীর হিজরতের পূর্বের দুইবার হজ করার কথাটি উল্লেখ করা হয়নি।

মহান সাহাবি হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার উমরা করেছেনÑ হুদায়বিয়ার উমরা, এর পরবর্তী বছর দ্বিতীয় উমরা, এটি ছিল জিলক্বদ মাসে কাযা উমরা হিসেবে, তৃতীয় উমরা হলো জিইররানা নামক স্থান থেকে এবং চতুর্থ উমরা তাঁর হজের সঙ্গে আদায় করেন।

বিখ্যাত হাদীস বিশেষজ্ঞ সাহাবি হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনÑ এক উমরা অপর উমরা পর্যন্ত সংঘটিত গোনাহসমূহের কাফফারাস্বরূপ। কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।

হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন তিনি যেন আয়েশা (রা.)কে তানঈম থেকে (ইহরাম করে) উমরা করান।

জিরানা নামক স্থান থেকে নবীজী উমরা করেছেন। মুহাররিশ আল-কাবী (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিরানা থেকে রাতে (ইহরাম বেঁধে) উমরার উদ্দেশে বের হন এবং রাতেই মক্কায় প্রবেশ করেন। তিনি উমরা পালন করে ওই রাতেই ফিরে আসেন। জিরানাতেই তাঁর ভোর হয়। মনে হলো তিনি যেন এখানেই রাত যাপন করেছেন। পরবর্তী দিন সূর্য ঢলে পড়লে তিনি বাতনে সারিফের উদ্দেশে রওনা হন এবং মুযদালিফার পথে তথায় পৌঁছে যান। এই কারণে মানুষের কাছে তাঁর এই উমরার খবর অজ্ঞাত থেকে যায়।

এ সব হাদিস থেকে আমাদের সামর্থ্যবান মুসলমানরা একাধিক হজ করার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত হয়। নবীজী অপরস্থানে এরশাদ করেছেন মাহে রমজানের উমরা হলো নফল হজের সাওয়াবের সমতুল্য। তাই প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান মক্কা শরীফে ছুটে চলেন পবিত্র উমরা পালনের জন্য। আর হজের মৌসুমে হাজী সাহেবরা সেখানে অবস্থান করার সময় একটু সুযোগ পেলেই উমরার ইহরাম পড়েন। কখনও যান মসজিদে আয়েশা বা তানঈমে, আবার কখনও যান উমরার নিয়ত করার জন্য জিরানা নামক স্থানে। বর্তমানে আল্লাহর ঘরের মজনুরা এ ধরনের কাজ নিয়েই সময় কাটাচ্ছেন পবিত্র ভূমিতে।