২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্বব্যাংক

দেশে মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে এবার এগিয়ে এসেছে বিশ্বব্যাংক স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে। পাঁচ বছর মেয়াদী সমন্বিত সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি)-এর আওতায় ট্র্যান্সফরমিং সেকেন্ডারি এডুকেশন ফর রেজাল্ট অপারেশন বা টিএসইআরও প্রকল্পে ৫১ কোটি ডলার বা চার হাজার কোটি টাকা স্বল্পসুদের ঋণচুক্তিতে এগিয়ে এসেছে ব্যাংকটি। এর পাশাপাশি গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটির আওতায় আরও ১ কোটি ডলার দেয়া হবে অনুদান হিসেবে। এসইডিপি বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের পাশাপাশি আরও আগ্রহ প্রকাশ করেছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও অন্যান্য দাতা সংস্থা। দেশে মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নততর মান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি, বর্ধিত মেধা ও দক্ষতার প্রতি গুরুত্বারোপ এর মূল লক্ষ্য। এসইডিপি বাস্তবায়নের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান বাড়বে বলে শিক্ষাবিদদের ধারণা। তদুপরি মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে প্রকল্পটি। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য সমন্বিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হবে ১৩ মিলিয়ন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে দ্বিমতের অবকাশ নেই। যে কারণে বলা হয় শিক্ষাই জাতির মেরুদ-। বিশ্বে সেই জাতি তত উন্নত, যে জাতি যত উন্নত শিক্ষায়। শিক্ষা মানুষকে যাবতীয় সংস্কার ও কূপম-ূকতা পরিহার করতে শেখায়। ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে মুক্ত করে শেখায় জিজ্ঞাসু হতে। পরিবার ও সমাজকে অগ্রসর হতে সর্বদাই অনুপ্রাণিত করে। স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার মাধ্যমে উজ্জীবিত করে মনপ্রাণ। সর্বোপরি জ্ঞান-বিজ্ঞান, উন্নয়ন ও অগ্রগতির সোপান খুলে দিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে উন্নীত করে স্বনির্ভর হতে। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও আত্মনির্ভরশীল একটি দেশ ও জাতি কখনও কারও মুখাপেক্ষী হতে পারে না, যদি সেই জাতি হয় সুশিক্ষিত।

অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। দেশে ক্রমশ শিক্ষার হার বাড়ছে। বাড়ছে শিক্ষার মানও। প্রতি বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে অগণিত শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ প্রাপ্তিই এর একটি অন্যতম সূচক বলে বিবেচিত হতে পারে। তবে লেখাপড়ার মান তো অবশ্যই বাড়ানো যেতে পারে। বলা যায় এটি একটি নিরন্তর ও অব্যাহত প্রক্রিয়া। দুনিয়া এত দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন শাখা ও দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সে সব অতি অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে শিক্ষার পাঠ্যক্রমে। শিক্ষা ক্ষেত্রে কোন গোঁড়ামি ও কূপম-ূকতার স্থান নেই। শিক্ষাকে সর্বদাই হতে হবে আধুনিক ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরম্পরা নির্ভর। তা না হলে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের ঠাঁই হবে না।

তবে দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মান প্রশ্নবিদ্ধ। একে ক্ষতিগ্রস্ত করছে রাজনীতি, যা মূলত অপরাজনীতি। বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে মাদক, চোরাচালান এমনকি ধর্মীয় উগ্রতা ও সন্ত্রাস প্রবেশাধিকারের সুযোগ পাচ্ছে। আর রাজনীতির খোলসে ব্যবসা-বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, আধিপত্য বিস্তার, হল দখল, সিটবাণিজ্য, খুনোখুনি, সর্বোপরি মাদক, অস্ত্র ও জঙ্গীবাদ। এহেন আত্মঘাতী প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে শিক্ষাঙ্গনগুলোকে। এর জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে গড়ে তুলতে হবে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা ও জনমত। মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের কুফল সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষ অবহিত হলে তা পরিহার করবে অবশ্যই। আর শিক্ষাই এক্ষেত্রে হতে পারে সর্বোত্তম হাতিয়ার। বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার অনুদান ও ঋণ এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

নির্বাচিত সংবাদ