২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জরুরী চিকিৎসা সেবা

চিকিৎসা খাতে জনগণের উপকারের লক্ষ্যে নয়া উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চিকিৎসা সেবার মান আন্তর্জাতিক মানদ-ে উন্নীত এবং যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ জনসেবায় এক মহত্ত্বর দিককে উন্মোচিত করবে। ইতোমধ্যে প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই সেবা চালু করা হয়েছে। গত বছরের নবেম্বরে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেবা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ২৪ ঘণ্টার জন্য চালুর পর এখন সব সরকারী মেডিক্যাল কলেজে চালু হতে যাচ্ছে। ‘ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সার্ভিস’ নামক এই চিকিৎসা সেবায় সংযুক্ত থাকছে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, ইসিজি, প্যাথলজি ল্যাব ও অপারেশন থিয়েটার, পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড ও ডে-কেয়ার সুবিধা। এ ছাড়াও মেডিসিন, গাইনি, কার্ডিওলজি, অর্থোসার্জারি, শিশুপেডি সার্জারি এবং এনেসথেসিওলজি এ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ নার্স, প্যারামেডিক ও সাপোর্ট স্টাফ থাকছে এই সেবায়। পূর্ণাঙ্গ সুবিধার এ সেবা চালু হলে হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ জরুরী সেবা পাওয়া যাবে। ময়মনসিংহে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া সেবায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ এর আশপাশের প্রায় তিন কোটি মানুষ এই সুবিধার আওতায় এসেছে। সব হাসপাতালে চালু হলে মারামারি, দুর্ঘটনায় আহত ও প্রসূতিসহ যে কোন সমস্যা নিয়ে আসা রোগীরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা পাবেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রয়োজন হলে কেবল কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রোগীকে ভর্তির জন্য হাসপাতালের ওয়ার্ডে পাঠাবেন। এতে ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপ কমার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনের ভোগান্তিও কমে আসবে। প্রসূতিদের স্বাভাবিক প্রসব ও সিজারসহ মারামারি, কাটা-ছেঁড়া দুর্ঘটনায় আহতদের অপারেশন সুবিধার ব্যবস্থা থাকছে। এ ছাড়া কার্ডিয়াক ও শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথাসহ যে কোন সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও জীবন রক্ষাকারী সব ওষুধ প্রদান করা হবে। ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রে পানি জমার মতো জটিল সমস্যার দ্রুত সমাধানে ইন্টারভেনশন চিকিৎসা সুবিধাও যুক্ত থাকছে। এ ছাড়া ফ্রি অপারেটিভ ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডও রাখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট সংস্থার সহায়তায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ দেশের চিকিৎসা খাতে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করবে। ২৪ ঘণ্টায় এই সেবায় মেডিসিন, সার্জারি গাইনিসহ স্ব-স্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিক্যাল টিম সর্বক্ষণিক থাকবে। এ ছাড়া পাশেই থাকবে অপারেশন থিয়েটার এবং অক্সিজেন সুযোগ-সুবিধাসহ পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড। সেই সঙ্গে সংযুক্ত থাকছে এ্যাম্বুলেন্স। একটা নির্দিষ্ট কল নম্বরে ফোন দিলেই সংশ্লিষ্ট জায়গায় চলে যাবে এ্যাম্বুলেন্স। দেশের সরকারী হাসপাতালগুলোতে পূর্ণাঙ্গ জরুরী বিভাগ এখনও গড়ে ওঠেনি। এ কারণে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক জরুরী রোগীকে নানা দিকে ছোটাছুটি করতে হয়। রোগীকে একই হাসপাতালের আরও বিভাগ, এমনকি অন্য হাসপাতালেও পাঠানো হয়। এই সেবা চালু না থাকায় রোগীকে হাসপাতালের ইনডোরে সংশ্লিষ্ট বিভাগে বিশেষজ্ঞদের মতামতের জন্য, রোগ নির্ণয়ে জরুরী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠাতে হয়। তাৎক্ষণিক কিংবা সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় ট্রলিতে কিংবা রাস্তায় ২০ থেকে ২৫ ভাগ জরুরী রোগীর মৃত্যু হয়। এমনিতেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া দেশের ৬০২টি সরকারী হাসপাতালে জরুরী বিভাগ নামসর্বস্ব। যে পর্যায়ের চিকিৎসকরা এখানে দায়িত্ব পালন করেন, তারা জটিল রোগীদের চিকিৎসা প্রদানে সক্ষম। কারণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এখানে দায়িত্ব পালন করেন। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগছে। যথাযথভাবে সেবা চালু করা গেলে রোগীসহ দেশবাসী উপকৃত হবে।