২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আকাশ ছোঁয়া বঙ্গবন্ধু প্রকাশ হলো ১৫০ শিল্পীর তুলিতে

আকাশ ছোঁয়া বঙ্গবন্ধু প্রকাশ হলো ১৫০ শিল্পীর তুলিতে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ৬৩ ক্যানভাস, ১৫০ শিল্পী; টানা তিন দিনের কাজ। দিনরাত রং তুলির স্পর্শে সৃষ্টি হলো একটি প্রতিকৃতি। জাতির পিতার ছবি, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা প্রতিকৃতিটি দেখে শোক দিবসে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়েছেন। হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে ১৫ আগস্ট।

জাতির পিতার ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ৪৩ ফুট উচ্চতা ও ৩৫ ফুট প্রস্থের প্রতিকৃতিটি বসানো হয়েছে মিলন চত্বরসংলগ্ন রাস্তার পাশে। বুধবার সারাদিনই দর্শনার্থীর ভিড় ছিল এখানে। অনেকেই বৃহৎ এই প্রতিকৃতি উন্মুক্ত হওয়ার কথা শুনে ছুটে এসেছিলেন বিশ^বিদ্যালয় এলাকায়।

ঠিক যখন তুলি ধরেছিলেন তখনকার মুহূর্তের অনুভূতি কেমন ছিল ১৫০ শিল্পীর একজন সুমন বৈদ্য জনকণ্ঠের কাছে অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, এটি প্রকাশ করা কঠিন। ভেতরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসা না থাকলে এমন কাজ করা কঠিন। জাতির শোকের দিনে এমন প্রতিকৃতি উন্মুক্ত হবে যতবারই ভেবেছেন অন্যরকমভাবে শিহরিত হয়েছেন। চারুকলা বিভাগের এই নবীন শিক্ষকের মতো চারুশিল্পী সংসদের প্রায় ১৫০ শিল্পী মিলে প্রতিকৃতিটি তৈরি করেছেন। শিল্পীর চোখে কেমন ছিল দর্শকদের মুগ্ধতা জানতে চাইলে একবাক্যে সবাই বলেছেন, অসাধারণ।

অন্যরকম এক ভাললাগা থেকে ঢাবিতে বুধবার শোকের দিনে অনেককে ভিড় করতে দেখা গেছে। সময়টি যেহেতু ডিজিটাল বাংলাদেশের তাই প্রতিকৃতির পাশে দাঁড়িয়ে এদের কেউই ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারেননি।

এদেরই একজন জহিরুল ইসলাম জানালেন, বঙ্গবন্ধুর এতবড় প্রতিকৃতি তিনি আগে দেখেননি। শুনেই ছুটে এসেছেন। জাতির শোকের দিনকে চারুকলা অন্যরকম করে স্মরণীয় করে রাখল। এমন করে প্রতিবারই কোন না কোন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

মুগ্ধতা নিয়ে প্রতিকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকা সোমা শীল জানালেন, এবার ১৫ আগস্টে মানুষকে আকৃষ্ট করার মতো কাজ হয়েছে এটি। সব থেকে ভাল, সব থেকে আকর্ষণীয় বলছেন এই প্রতিকৃতিকে তিনি।

অনেক ছবি বাছাই করে এই প্রতিকৃতির নক্সা তৈরি করেন ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভের শিক্ষক শাহজাহান আহমেদ বিকাশ; মূল চিত্র অঙ্কনে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সহকারী অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ টুটুল।

‘এ্যাক্রেলিক রঙে’ আঁকা ছবিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এর পর এটি বিভিন্ন জেলায় প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে চারুশিল্পী সংসদের।

মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এই প্রতিকৃতির উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতা নিজের জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশ গড়ে গেছেন। চারুশিল্পীরা বঙ্গবন্ধুর যে প্রতিকৃতি এঁকেছেন তাতে আমি অভিভূত। আজ এখানে বসে ছবিটির দিকে তাকিয়ে মনে হয়েছে, আমি ’৭১ সালে যেভাবে তার সঙ্গে বসতাম সেভাবেই বসে আছি।

ধন্যবাদ দেয়ার ভাষা জানা নেই। জাতির পিতা সপরিবারে রক্ত দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের রক্তের ঋণ শোধ করে গেছেন। তিনি শুধু বাংলাদেশের নন, সারা বিশ্বের নেতা ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, ১৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অনন্য একটি দিন। কারণ এদিনটিতে জাতির পিতা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসত চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য তিনি আসতে পারেননি। চারুশিল্পী সংসদের এই উদ্যাগে আমি অভিভূত। এভাবেই আগামীতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে পড়বে।

জাতির পিতার সবচেয়ে বড় প্রতিকৃতি আঁকার কাজটি কীভাবে এগিয়েছে সে বিষয়ে তুলে ধরেন বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদের সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনেক ছবিইতো আঁকা হয়। কিন্তু আমরা ভাবলাম ‘গণচরিত্রের’ কিছু একটা করার। এরপর আমরা শুরু করলাম পোর্ট্রেট নির্বাচন। কয়েকদিন ধরে অনেক ছবি বাছাই করে একটি ছবি নির্বাচন করলাম।

শাহজাহান আহমেদ বিকাশ, কিরীটি রায় ও হারুন-অর রশিদ টুটুলকে নিয়ে একটা কমিটি করা হয়েছিল। বিকাশ লে-আউট তৈরি করেছে আর টুটুল দেখেছে ছবি আঁকার বিষয়টা। মূল কাজটা আমরা করেছি টিএসসির সুইমিংপুলে।

মূল ছবির শিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইনের সহকারী অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরার আসলে কিছু নেই, কিন্তু তাকে ছড়িয়ে দেয়ার বিষয় আছে। সেই ছড়িয়ে দেয়ার জায়গা থেকেই আমরা এ কাজটি করেছি।’

নির্বাচিত সংবাদ