২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক ॥ দূর আরবের স্বপ্ন দেখি / বাংলাদেশের কুটির হতে / চলছি যেন বেহুঁশ হয়ে /

কেঁদে কেঁদে কাবার পথে।

যারা আর্থিক ও শারীরিক দিক থেকে সামর্থ্যবান তাদের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। হজের আভিধানিক অর্থ, কোন মহৎ কাজের জন্য ইচ্ছা বা সঙ্কল্প করা। শরীয়তের পরিভাষায় হজের সংজ্ঞা হলো: আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে শরীয়তের নিয়ম অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে তথা বায়তুল্লাহ শরীফ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ নির্ধারিত কাজ ও আমলের মাধ্যমে জিয়ারত করা। -(শামী ২)।

হযরত রাসূলে মাকবুল (স.) ইরশাদ করেন : যে ব্যক্তি পবিত্র হজে গমন করতে এমন কোন প্রকাশ্য বিশেষ সমস্যা ও প্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধক নয়, কিম্বা জালিম শাসক (বাদশাহ) অথবা প্রতিরোধক রোগ যদি প্রতিবন্ধক না হয় এবং এমতাবস্থায় সে যদি হজ পালনের জন্য পবিত্র মক্কা শরীফ গমন না করে তাহলে সে ইহুদী হয়ে মরুক বা নাসারা হয়ে মরুক (তাতে ইসলামের কিছু আসে যায় না)।’ অর্থাৎ রাসূলে কারীম (স.) এর হাদীস থেকে বোঝা যায়, এ ধরনের কৃপণ ব্যক্তির মৃত্যু ইমানের সঙ্গে নাও হতে পারে। পরকালে একজন মুসলমানের জন্য আল্লাহ ও তার রাসূলের (স.) পক্ষ থেকে ক্ষমার যে সুসংবাদ রয়েছে তা থেকে সে বঞ্চিত হতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা বায়তুল্লাহ পর্যন্ত যাবার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর হজ করা আল্লাহর পক্ষ থেকে আরোপিত হক, আর যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করে তার জানা থাকা উচিত, আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টি জাহানের অমুখাপেক্ষী’। - (সূরা আল ইমরান -৯৭)। এ আয়াত থেকেও বোঝা যায়, আল্লাহর লক্ষ কোটি বান্দা থেকে কয়েকজন অকৃতজ্ঞ, কৃপণ বান্দা যদি হজে না যায় তাহলে আল্লাহ পাকের কোন সমস্যা নেই; সমস্যা ও দুর্ভোগ হলো তাদের যারা এ পুণ্যময় কাজকে অবহেলা করল, দুনিয়ার ব্যস্ততাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজেরা নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনল। উম্মুল মু’মেনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন: আরাফাতের দিনের চাইতে বেশি সংখ্যায় আর কোন দিন আল্লাহ বান্দাকে দোজখ থেকে মুক্তি দেন না।

পবিত্র হজে গমন করে এবং এ পর্যন্ত বিভিন্ন কাফেলায় হাজীদের খিদমতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে আমার এ অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মতো মাত্র কয়েকটি দেশের মুসলমান হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত সম্পন্ন করতে দেরি করেন। জীবনের শেষ দিকে অনেকটা বৃদ্ধ অবস্থায় হজে যান। এ জন্য তাদের দুর্ভোগও কম থাকে না। কাফেলার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সব করতে পারেন না বলে কখনও হারিয়ে যান, অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিজের ইচ্ছা আগ্রহ এবং আবেগের সঙ্গে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে শারীরিক অক্ষমতা। এ সময়ে প্রয়োজন দ্বীনদার বিশ্বস্ত কোন অভিজ্ঞ আলেম বন্ধু। যে বা যারা তার অসহায় মুহূর্তে সুখে দুঃখে সাথী হবেন, ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে মনে প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক শক্তি এনে দেবেন, হজ পূর্ণতায় সহায়তা করবেন, নিরাপদে প্রিয়জনদের কাছে নিয়ে আসবেন।

পক্ষান্তরে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের মুসলমানদের দৃশ্য ভিন্ন। তারা শক্তি সামর্থ্য থাকতে হজে আসেন। স্ত্রী পরিজন, সন্তানসন্ততি নিয়ে হজে আসেন। এতে প্রতিটি মুহূর্তে এক পরম আনন্দ ও স্নেহের পরশ পাওয়া যায়। আল্লাহ আমাদের সকলের জীবনে নিরাপদে হজে বায়তুল্লাহ ও জিয়ারতে মদীনাতুল মুনাওয়ারা নসিব করুন।

নির্বাচিত সংবাদ