২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কমলাপুরে ফিরতি টিকেট বিক্রি নিয়ে তুমুল হইচই

কমলাপুরে ফিরতি টিকেট বিক্রি নিয়ে তুমুল হইচই

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বড় কোন ঝামেলা ছাড়াই ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি কার্যক্রম শেষ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রিটার্ণ টিকেট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে কমলাপুরে তুমুল হট্টগোল হয়েছে। হট্টগোলের কারণে প্রায় আধাঘন্টার পাশের কাউন্টার থেকে টিকেট বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। পরে রেল পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সদস্যরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রিটার্ন টিকেট বিক্রির কোন সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, এসি চেয়ার ও এসি বার্থ টিকেট নিয়ে জটিলতা হয়েছে। অনেকেই চাহিদামত টিকেট না পেয়ে অভিযোগ করেছেন।

এদিকে আজ শুক্রবার থেকে ঈদযাত্রা শুরুর কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার কমলাপুর স্টেশনজুড়ে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভীড়। প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই বাড়তি যাত্রী দেখা গেছে। পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদেও যাত্রী সংখ্যা ছিল অনেক। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ছাদ ভ্রমন ঠেতাতে কোন রকম তৎপরতা দেখা যায়নি। এদিকে টিকেট না কেটে ট্রেন ভ্রমনকারীর সংখ্যাও কম ছিল না।

সকাল ১১টায় কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে ৫নম্বর কাউন্টারে শত-শত মানুষের লাইন। তারা জানিয়েছেন, অগ্রিম টিকেট কেটেছেন ঠিকই। কিন্তু ফিরতি টিকেট নিয়ে দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। তাই মধ্য রাতেই টিকেটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন তারা। স্টেশনের তথ্য কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, ৫নম্বর কাউন্টার থেকে ফিরতি টিকেট বিক্রি হবে। যাত্রীদের তীব্র হইচইয়ের পর বেলা ১২টার দিকে কাউন্টার খোলা হয়। এরপর কাউন্টার থেকে জানানো হয়, আজ ফিরতি টিকেট বিক্রি হবে না। আগামীকাল শুক্রবার দেয়া হবে। এ নিয়ে কাউন্টার মাস্টারের সঙ্গে যাত্রীদের কথা কাটাকাটি হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাউন্টার মাস্টার জানান, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন রেল স্টেশন থেকে ফিরতি টিকেট দেয়া হচ্ছে। তবে কেন এখানে সবাই ভীড় করছেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ি কমলাপুর রেল স্টেশন থেকেও অগ্রিম টিকেট বিক্রির কথা আছে। তখন কাউন্টার মাস্টারের বক্তব্য এ ব্যপারে আমার কাছে কোন নির্দেশনা আসেনি। যাত্রীরা বললেন, তবে তথ্য কেন্দ্র থেকে কেন নিশ্চিত করা হয়েছিল ৫ নম্বর কাউন্টার থেকে ফিরতি টিকেট দেয়া হবে। এমন আশ্বাসে আমরা রাত জেগেছি। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বন্ধ হয়ে যায় আশপাশের কাউন্টার গুলোর টিকেট বিক্রি। তবে তথ্য কেন্দ্রে কেউ না থাকায় যাত্রীদের অভিযোগের কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। শুক্রবার থেকে ঈদযাত্রা শুরু হবে। অন্যদিকে ঘরে ফেরা মানুষের ঢাকা আগমন নির্বিঘœ করতে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ট্রেনের রিটার্ন টিকেট বিক্রির সেবা কার্যক্রম। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করার পরও কাঙ্খিত এই টিকেটও না পাওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকে।

স্টেশন সূত্রে জানা যায়, কমলাপুর স্টেশনের ৫ নম্বর কাউন্টার থেকে রিটার্ন টিকেট দেয়া হয়। এছাড়া দেশের নিজ নিজ স্টেশন থেকেও একযোগে দেয়া হচ্ছে টিকেট। বৃহস্পতিবার ২৬ আগস্টের ফিরতি টিকেট দেয়ার কথা ছিল। একইভাবে ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট যথাক্রমে পাওয়া যাবে ২৬, ২৭, ২৮ আগস্টের রিটার্ন টিকেট সিডিউল ঘোষণা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সুস্মিতা জানালেন, আমি ভোরে আসি টিকেট সংগ্রহের জন্য। তথ্য কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে অগ্রিট টিকেট মিলবে পাঁচ নম্বর কাউন্টার থেকে। কিন্তু দুপুরে কাউন্টার খোলার পর বলা হচ্ছে আজ কোন রিটার্ন টিকেট বিক্রি হবে না। একই অভিযোগ করলেন সোহান। তিনি জানান, রাত ২টায় লাইনে দাঁড়ান তিনি। তিনি কিন্তু দুপুরে বলা হয় টিকেট দেয়া হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত ৫ নম্বর কাউন্টারের যাত্রীরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

এ বিষয়ে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, রিটার্ন টিকেট নিয়ে অভিযোগের কিছু নেই। এ টিকেট দেশের সব রেল স্টেশন থেকে অনলাইনের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে। যেহেতু সব স্টেশন থেকে একযোগে দেয়া হচ্ছে তাই সবাই এসি নিতে চাচ্ছেন, এতে কেউ পাচ্ছেন কেউ পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, আমাদের সব ট্রেনে এসি কেবিন সংখ্যা কম। শোভন চেয়ার বেশি। তাছাড়া টিকেট থাকলে কাউকে ফিরিয়ে দেয়ার ইতিহাস নেই। যেহেতু অনলাইনে টিকেট, তাই স্কিনের মাধ্যমে টিকিট প্রত্যাশীরা সব দেখতে পান। আমরা একটি টিকেট থাকা পর্যন্ত বিক্রি করি, এটা সব স্টেশনের ক্ষেত্রে। তাছাড়া কালো বাজারে যেকোনো টিকেট বিক্রি বন্ধ করতে পুলিশ, র্যাব, রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার সদস্য ও গোয়েন্দা সদস্যরা সব সময় নিয়োজিত আছেন।

অন্যদিকে, শুক্রবার থেকে প্রতিদিন ট্রেনে করে প্রায় এক লাখ মানুষ ঘরে ফিরবেন বলে আশা করছেন সিতাংশু। একইসঙ্গে তিনি সব যাত্রীকে ট্রেনের ছাদ বা বাফারে না ওঠার অনুরোধ জানান।

গত আট আগস্ট বিক্রি হয় ১৭ আগস্টের ট্রেনের অগ্রিম টিকেট। ১৮ আগস্ট থেকে ঈদ উপলক্ষে নয় জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এবারে ঈদ যাত্রায় ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এরমধ্যে রয়েছে- দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল : ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ- ঢাকা (ঈদের আগে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট এ চারদিন এবং পরে ২৩ আগস্ট হতে ২৯ আগস্ট সাতদিন চলবে)। চাঁদপুর স্পেশাল-১: চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম (ঈদের আগে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট চারদিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট হতে ৩০ আগস্ট সাতদিন চলবে)। চাঁদপুর স্পেশাল ২: চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম (ঈদের আগে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট চারদিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট হতে ৩০ আগস্ট সাতদিন চলবে)। রাজশাহী স্পেশাল : রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী (ঈদের আগে ১৮, ১৯ ও ২০ আগস্ট তিনদিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট সাতদিন চলাচল করবে)। দিনাজপুর স্পেশাল: দিনাজপুর-ঢাকা-দিনাজপুর (ঈদের আগে ১৮, ১৯ ও ২০ আগস্ট তিনদিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট হতে সাতদিন চলাচল করবে)।

লালমনি স্পেশাল : ঢাকা-লালমনিরহাট-ঢাকা (ঈদের আগে ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ আগস্ট চারদিন এবং ঈদের পরে ২৪ আগস্ট হতে ৩০ আগস্ট সাতদিন চলবে)। খুলনা এক্সপ্রেস : খুলনা-ঢাকা-খুলনা (ঈদের আগে ২১ আগস্ট একদিন চলবে)। শোলাকিয়া স্পেশাল-১ : ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রুটে ঈদের দিন চলাচল করবে। শোলাকিয়া স্পেশাল-২ : ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে ঈদের দিন চলবে।

এ ছাড়া যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ঈদের তিনদিন আগে থেকে কনটেইনার ও জ্বালানিবাহী ট্রেন ছাড়া কোনো পণ্যবাহি ট্রেন চলাচল করবে না। ঈদের দিন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কিছু মেইল এক্সপ্রেস চলাচল করবে। ঈদের দিন অন্তঃনগর কোনো ট্রেন চলাচল করবে না। তবে ঈদের পাঁচদিন আগে (১৮ আগস্ট) থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তনগর ট্রেন সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও চলাচল করবে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সুষ্ঠু ও নিরাপদে ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ২১ ও ২২ আগস্ট মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং ২৩ আগস্টে বন্ধন এক্সপ্রেস চলাচল করবে না।

ঈদের পর আরো সাত জোড়া ট্রেন ॥ এছাড়া ঈদের পর আরও ৭ দিন এসব বিশেষ ট্রেন চলবে। ঢাকা- দেওয়ানগঞ্জ, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে দুটি করে, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-দিনাজপুর, ঢাকা-লালমনিরহাট ও ঢাকা-খুলনা রুটে এসব ট্রেন চলবে। এছাড়া ভৈরব-কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটে ঈদের দিন চলবে শোলাকিয়া স্পেশাল। এবার ঈদে ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করবে। এছাড়া ঈদের পাঁচ দিন আগে (সম্ভাব্য তারিখ ১৮ আগস্ট) থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আন্তনগর রুটের সব ট্রেনের ডে-অফ বাতিল করা হয়েছে।

সুষ্ঠু ও নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আর ঈদযাত্রায় যে কোনো নাশকতা ঠেকাতে আনসার, জিআরপি, র্যাব, পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবেন। ঈদ উপলক্ষে বাড়তি কোচ সংযোজন ও লোকোমোটিভ সরবরাহ করা হবে এবং টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক পাহারা থাকবে। রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে,এবার কোরবানির ঈদের আগে চার দিন সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে বিভিন্ন গন্তব্যে।