২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিরপুরের সেই বাড়িতে গুপ্তধনের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি

মিরপুরের সেই বাড়িতে গুপ্তধনের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মিরপুর-১০ নম্বরের সি ব্লকের সেই বাড়িতে গুপ্তধনের সন্ধানে অনেক খোঁড়াখুঁড়ি ও তৎপরতা চালানো পরও কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েও গুপ্তধনের সন্ধান না পেয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তাজওয়ার আকরাম জানান, আমরা ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর ও বুয়েটের এক্সপার্ট এনে ওই বাড়ির ভেতরে জিপিআর স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি। বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত আমরা এই পরীক্ষাটি করি। কিন্তু সেখানে কোনও ধাতব বা গুপ্তধনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

তাই অভিযানটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো। পাশাপাশি ওই বাড়ি থেকে পুলিশের পাহারাও তুলে নেয়া হয়েছে। মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আরিফুর রহমান সরদার জানান, মিরপুরের ওই বাড়িতে কোনও গুপ্তধন পাওয়া যায়নি। রেজাল্ট জিরো। তাই প্রশাসনের নির্দেশে সেখান থেকে পুলিশি পাহারা তুলে নেয়া হয়েছে। মিরপুর-১০-এর সি ব্লকের ওই বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির সামনে স্তুপ করে রাখা মাটি শ্রমিকরা ভেতরে নিয়ে ফেলছেন। বাড়ির ভেতরের দু’টি কক্ষ ভরাট করার কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত ২১ জুলাই রাজধানীর মিরপুর-১০ এর সি-ব্লকের ১৬ নম্বর রোডের ১৬ নম্বর বাড়িতে গুপ্তধনের খোঁজে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি করে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। বাড়িটির মাটির নিচে কমপক্ষে দুই মণ স্বর্ণালঙ্কার থাকার দাবি ওঠায় ওই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে শুরু হয় এই অভিযান। বিশ জন শ্রমিকের সহায়তায় ছয় ঘণ্টা ধরে সাড়ে ৪ ফুট খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। বাড়ির ভিত্তি প্রস্তুর দুর্বল হওয়ায় ওইদিন খোঁড়াখুঁড়ি স্থগিত করে দেয়া হয়। এরপর পুনরায় ২২ জুলাই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিমত নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সূত্রগুলো জানায়, গত ১০ জুলাই মোহাম্মদ আবু তৈয়ব নামের এক ব্যক্তি একটি মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ১২ জুলাই রাতে কয়েকজন লোক বাড়ির ভেতরে গুপ্তধন আছে বলে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই মর্মে ১৪ জুলাই বাড়ির মালিক মনিরুল ইসলাম থানায় একটি জিডি করেন। পরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বাড়িটি খননের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। ২০১০ সালে সেলিম রেজা নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এই বাড়িটি গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কেনেন মনিরুল ইসলাম।

পল্লবীতে থাকেন তিনি। আর এই বাড়ি দেখাশোনা করেন শফিকুল ইসলাম ও সুমন নামে দু’জন। শফিকুল ইসলাম ছিলেন বাড়ির কেয়ারটেকার। বাড়ির ভেতরে রয়েছে সাতটি কক্ষ। একটিতে শফিকুল ও সুমন থাকতেন। বাকিগুলোতে ভাড়াটিয়ারা ছিলেন। তবে গত ৪/৫ মাস আগে ভবন ভেঙে নতুন ভবন তৈরির কাজ শুরুর কথা বলেন সব ভাড়াটিয়াকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন বাড়ির মালিক।

নির্বাচিত সংবাদ