২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কবিতা

অলৌকিক গর্বপুত্র

সৈয়দ রফিকুল আলম

এরাবিয়ান লয়েস্না এর মতো দীর্ঘকায়; লক্ষেীয়ি ফিনফিনে

কালো শেরওয়ানি শোভা; সূক্ষ্ম পরিবৃত্ত গোলমূর্তে চশমা

স্থিত, বেকব্রাশ করা চুলের আঁচড়; হলিইড ক্যারিশমা

ওমর শরীফে গোঁফ; মৃদু বাতাসের দোলনায় ডৌল তৃণে

মিহিযাম ওড়াউড়ি। সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বললে, অনুক্ষণে-

কিছু বক্তব্য রাখব, সমাগত শ্রোতা পিনপতন বিক্ষণে-

চুম্বকীয় টানে জপ্য-শব্দ, ধ্বনি, ক্ষুধার্ত প্রাণনে আশাবাদ বুনে :

কথার শৈলীতে ভাসে নিনাদিত ভৈরু খাম্বাজ অলঙ্করণ।’

আমি পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র, আমার শিক্ষক সঙ্গে সঙ্গে ছিল

হঠাৎ অস্ফুট কণ্ঠে বললাম, এই নেতা হবে জন্মনেতা

শিক্ষক একটু স্মিত হাসলেন; সেই মৌল মুহূর্তে আমি-মিতা।’

জনকের ছায়াদীপ্তি হৃদয় অন্তরে আবাবীলের আবিল।

কোটি মানুষের রুধি মিশে আছে জল, বায়ু, মাটির বিস্তৃতে,

কোমল ভালবাসায় স্থিত ক্ষুধার্ত মানুষে হাসি ফোটানোয়

ছিনিয়ে এনেছ মুক্ত স্বাধীনতা- স্বাদ; হয় যেন ভরা ভূইঁ

ক্ষুধিত পাষাণ নয়, রস কষে ভরা উদিত সূর্যের রীতে।

জনকের প্রিয়তম কিশলয় শিশুরা মঞ্জুরি শোভনায়

শিশুতোষ গল্পকথা, কল্পের সুষমা, আবেগের স্বরে মোহ,

হৈ হৈ রৈ রৈ হট্টমেলা-সঙ্গে ভবিষ্য কা-ারী হওয়ার দ্রোহ।’

নাঙ্গা উন্মাদিত্য আছে ঝুরিঃ তেমনি কিয়ৎ আছে সংহিতায়

প্রশাসনের চাতুর্য হাস্যমগ্নে হাল্কা চরিতাথ প্রশ্ন বটে

দু’জন অবোধ শিশু অপাপবিদ্ব-সংহারে, ছিন্নভিন্ন ঘটে

তাই তো গনগণে তপ্ত’ স্লোগান মিছিলে হন্তাদন্ডক কসায়ে।

জনক চেয়েছিল শ্বেত সুসংগঠিত রম্যের অপার ভূমি

উন্নয়নে দেশ উর্ধে বটে, নিয়মের কীর্তি যায় যাদি ভুলি...

** ক্যাসিনো

ফকির ইলিয়াস

বৃষ্টির সাথে জুয়া খেলছে ঘর্মাক্ত চাঁদ। রাতগুলো

একা থাকতে পারে না- এই তথ্য জেনে,

রাতের শরীরে নিজের শরীর মিশিয়ে দিচ্ছে

মাতাল জোনাকী। আগরবাতির ঘ্রাণ নিতে নিতে

আঙ্গুলগুলো পালন করছে গভীর মৌনতা।

হারা-জেতার ভয় না করেই নদীর সাথে

বাজি ধরছে স্রোতের তারুণ্য।

অথবা বলা যায় বসন্তে;

বনে বনে যে জোয়ার বয়ে যায়,

তাকে হরণ করতে চাইছে মাঘকালীন মেঘ।

আলোগুলো ঝলসে উঠছে। ঝাড়বাতি নেই,

তবু উজ্জ্বল আনন্দে ভরে যাচ্ছে নর্তক-সময়।

নেপথ্যে কালো সুতাগুলো কাটছে কোন তাঁতি!

সংগৃহীত হিংসের ডানা,

ছড়িয়ে দিচ্ছে একদল হিংস্র ঈগল।

** কাকে বলি

সোহেল মাজহার

তুমি দাঁড়িয়েছিলে রৌদ্র-ছায়ার বিপরীতে

আমি দৌড়ে গেছি বোকা হাবাগোবা ছেলে

অসম্পূর্ণ আহ্বানের অর্থ খুঁজতে গিয়েছি সমুদ্রে

সমস্ত উপকূল জুড়ে প্রবাহিত হয় ঠা-া বাতাস

বেদনাহত শরীরে বয়ে যায় লবণ জলের ¯্রােত

কাকে বলি তীব্র যন্ত্রণা বৃষ্টি জলে

মুছে যাবার নয়।

স্মৃতি আহত ভাঙা দেয়ালের কোটরে

হাত রেখে বিষ জর্জরিত অদৃশ্য ছোবলে,

কাকে বলি সেই সাপের হা মুখে ছিল

প্ররোচনা, পাখির বাসা, ভাঙা ডিমের খোলস।

শুশ্রƒষার লোভে তাই ক্লান্ত দেহে ঘুম যাই

সমস্ত খুপড়ি ঘরে বেজে ওঠে চটুল গানের রেকর্ড

মোহতাড়িত জীবন অতিবাহিত হয় সন্ধ্যার রাগে

লোড শেডিংয়ের পর লিপস্টিক, কড়া জর্দার পান

সস্তা প্রসাধনীর অনুরাগে।

** বঙ্গবন্ধুর কড়চা

তোফাজ্জল হোসেন

হাজার নদীর মাঝি তুমি হাজার নায়ের নেয়ে

নদী ঢেউয়ের সাথে তুমি আছো এক হয়ে।

সবাই জানে বঙ্গবন্ধু তুমিই শুধু একা

যাকে মেরে ইতিহাসে যায়নি কিছু লেখা।

ইতিহাসে আছেন তিনি তুল্য রাখাল রাজা

তার নামে সব মানুষের জয় ভেড়ি বাজাও,

বঙ্গবন্ধু শহীদ বটে কিবা আসে যায়

তাঁর পদধূলিতে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা অমরত্ব পায়।

বাংলার বিল-নদী-নালা উদার প্রান্তর

সব কিছু হয়ে গেছে তাঁরই অন্তর।

পেলো সবাই সবার যত পাওনা অধিকার

এক সত্তায় বিলীন হয়ে হলেন একাকার।

দেশের রাজা তাড়ানো যায় মনের রাজা নয়

শেষতক দেশের রাজারও হয় যে বিজয়।

বঙ্গবন্ধু জানতেন আরো কি সে যে কি হয়

দেশের রাজা মনের রাজা দিগি¦জয়ী হয়।

তাই তো বঙ্গবন্ধু হলেন সবার মনের রাজা

কালক্রমে হলেন আরো ঐন্দ্রজালিক

শক্তিবলে কার না মনের রাজা

ওরা জানে বঙ্গবন্ধু সবার মনের রাজা

সবাই জানে বঙ্গবন্ধু মনের রাজা বটে

তবে দেশের রাজা তাড়ানো যায় মনের রাজা নয়।

তাই তো বলি দেশের রাজা মনের রাজা সবারই জয় হয়।

জয় বঙ্গবন্ধু আর শেখ হাসিনার জয়

বঙ্গবন্ধু ছিলেন যে দেশের রাজা সুনিশ্চয়

এ সত্ত্বে¡ও তার ঊর্ধ্বে ছিলেন তিনি মনের রাজা সুনিশ্চয়।

তাকে নিয়ে হটকারিতার খেলা মানবে না তো ইতিহাস

এই সত্যের ভিত্তিমূলে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ

জয় বাংলার মনের রাজার জয়

ঐতিহাসিক সত্য এই

দেশের রাজা মনের রাজা একাত্ম হয়ে

একাকার হয়ে যান মহাকালের বুকে

বৈজয়ন্তী আকাশে উড়ায়ে চির সত্তা হাসিল করেন

মহাকালের বুকে বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনা একাকারও বটে

বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনা তাই হয়েছেন বটে উভয়ের একাত্ম

এক আসনে সমাসীন হয়ে অমরত্ব পেলেন তারা অভিন্ন সত্তায়

মহাকালের বুকে জয় বাংলার জয় বঙ্গবন্ধুর জয় হাসিনার জয়

মহাকালের বুকে তোমাদের জয় বাংলা জয়

এমনটি খুব নয় সময়েরই বাঁধন ভেঙ্গে কখনো তা হয়

এমনটি হয়েছিল মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর কালে

যার ধ্বংস নেই বৈরিতার উল্লম্ফনে কিংবা হতাশায় কুটিল নর্তনে।

মনের রাজাও বটে দেশের রাজাও বটে।

তাই তো ইতিহাসে আছেন বেঁচে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে।

** অপরাহ্ণের মৃত্যু সংবাদ

মুহম্মদ আশরাফুল ইসলাম

মাস্তুলের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে চুপচাপ বসে আছি।

যদি শহরের শেষ ঘেউ ধ্বনি থেমে যাবার আগেই,

তোমার কাছে পৌঁছে যায় মূকাভিনয়ের শর্ত আর...

অপরাহ্ণের মৃত্যু সংবাদ!

তবে কী শীতনিদ্রা থেকে উঠে আসবে রতির পালক?

তবে কী আঙ্গুলে ধারণ করে দুর্বোধ্য নকশার স্মৃতি,

নতমুখে হেঁটে যাব ভাড়াটে পরমায়ুর দিকে?

হয়তো ঘরমুখো সরীসৃপ হয়ে যাবে মনোহর ফাঁদ;

হয়তো বয়ঃসন্ধি পেরুনো হ্রদের কিনারে দাঁড়িয়ে,

পুনরায় পাঠ করব শাপগ্রস্ত সড়কের গোঙানি।

মূলত যারা স্বাস্থ্যবান জীবন তাদের শোভনীয় নয়;

সুঠাম গন্ধের মৗসুমে তাঁরা হয় শোকাতুর ছিল।

নিজের খনিজ নিংড়ে কোন একদিন তুমিয়ো —

নিশ্চিত পৌঁছে যাবে, অপরাহ্ণে।

যেহেতু ধর্মান্ধ না হলে সংসারী হওয়া যায় না,

যেহেতু এক টুকরো মাংসের আলাপ থেকেই বিস্তৃত

হয় যাপিত যুদ্ধ। তাই সংসারে শুদ্ধতা বলতে কিছু নেই।

অথচ অদৃষ্ট তার সংযত নির্যাস রচনা করছে অহেতুক।

অথচ অপরিহার্য সংকেতে মিশে যাচ্ছে স্মরণীয়

বর্ষাতি। পরম্পরা ভুলে যাচ্ছে সমবয়সী শোকেরা;

নির্বাচিত সংবাদ