২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২৭১টি নতুন সরকারী কলেজ

বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা-সম্প্রসারণ কার্যক্রমে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও যুগোপযোগী এবং জনবান্ধব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অবৈতনিক কর্মসূচী থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পাঠ্যসূচীর আওতায় বছরের শুরুতে কোন অর্থমূল্য ছাড়া বোর্ডের বই বরাদ্দ করা গণমুখী কর্মযোগের উল্লেখযোগ্য দিক। শুধু তাই নয়, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতাকেও বিশেষ বিবেচনায় আনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ২০১০ সালে যে সব উপজেলায় স্কুল এবং কলেজ নেই সেখানে ১টি করে বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই লক্ষ্যে পরবর্তী সময়ে শুধু স্কুল-কলেজ স্থাপন করাই নয়, বিভিন্ন বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারের আওতায় এনে শিক্ষা সম্প্রসারণের মতো মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে প্রাসঙ্গিক সমস্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। এতে বিশেষভাবে বিবেচনায় আনা হয় প্রতিষ্ঠানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিসহ শিক্ষকম-লীর গুণগত মানই শুধু নয়, তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাদিও এই অনুসন্ধান প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠুভাবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা সম্প্রসারণের এই বৃহৎ কর্মযোগের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এই ধরনের একটি মহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ ও প্রয়োগ করতে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ বাজেটে থাকা আবশ্যক তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যবস্থাপনায় এগিয়েও আসেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ে এই কার্যক্রমের জন্য বাজেট আবেদন করে শিক্ষা সচিব ৪ হাজার ৯৭১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাড়তি অর্থ প্রদানের অনুমোদন প্রার্থনা করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি। ফলে ২০১৮-১৯ সালের অর্থবছরে নতুন করে সরকারী শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের জন্য বাজেট বরাদ্দ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরে ৩২৭টি সরকারী স্কুলের জন্য ৩৪৯ কোটি ৪০ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২৯৯ কলেজের জন্য ৬২৬ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন। চলতি অর্থবছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই নতুন অধিকরণে কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি। এছাড়াও স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠানের মূল সম্পদ সরকারীকরণের আওতায় চলে যাবে। এ তো গেল সরকারী ব্যবস্থাপনায় স্কুল-কলেজের সহায়-সম্পত্তি এবং রাষ্ট্রকর্তৃক বরাদ্দ অর্থের সুপরিকল্পিত নির্দেশনা।

কিন্তু বেসরকারী কলেজকে সরকারী নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যেতে আরও অনেক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধাবিপত্তিকে অতিক্রম করাও বাঞ্ছনীয়। সরকারী কলেজের শিক্ষকদের নির্দিষ্ট বয়সের আওতায় (সরকার নির্ধারিত) উন্নতমানের একটি নির্বাচনী পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ইঈঝ) পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিকভাবে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারী কলেজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। কিন্তু বেসরকারী কলেজের শিক্ষকদের সে ধরনের কোন নির্বাচনী পরীক্ষায় বসতে হয় না। সঙ্গত কারণে গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সরকারী কলেজের শিক্ষকরা এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে গুণগত মান যাচাইয়ের প্রেক্ষিতে। শুধু সরকারী কলেজ শিক্ষকরাই নন, অনেক প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাবিদের কাছ থেকেও এই ধরনের ওজর আপত্তি ওঠে। ফলে মাঝপথে থেমে যায় এই সরকারীকরণ প্রক্রিয়া। সব ধরনের আপত্তি, বিতর্ক, ক্যাডার-নন ক্যাডার বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক জারি করা হয় ২৭১ বেসরকারী কলেজকে সরকারীর মর্যাদা দেয়ার প্রজ্ঞাপন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় উপসচিব নাসিমা খানের স্বাক্ষরে এই আদেশ জারি করা হয়। তার আগে এই আদেশনামায় প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদন গৃহীত হয়। নতুন জাতীয়করণ হওয়া কলেজের শিক্ষকদের মানের ওপরও নির্দিষ্ট বিধিমালা প্রস্তুত করা হয়। এতে শিক্ষকদের অবস্থান, বদলি এমনকি পদোন্নতির ব্যাপারটিও বিশেষভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিধিনিষেধ, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন- সবদিক বিবেচনায় এনে এই নতুন কর্মসূচী বাস্তবায়ন হবেÑ এই আশা সবার।