২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কোফি আনান আর নেই

   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কোফি আনান আর নেই

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ও শান্তিতে নোবেল জয়ী কোফি আনান মারা গেছেন। শনিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ৮০ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ঘানায় জন্ম নেয়া কোফি আনান প্রথম আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুদফা এ পদে ছিলেন তিনি।

জাতিসংঘকে নতুনভাবে গড়ে তোলা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ভুমিকা রাখার জন্য কোফি আনান ২০০১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। -খবর বিবিসি ও এএফপির। মারা যাওয়ার সময় কোফি আনানের স্ত্রী ন্যানে ও তিন সন্তান আমা, কোজো ও নিনা তার পাশেই ছিলেন।

শনিবার সুইজারল্যান্ড থেকে কোফি আনান ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, অল্প অসুস্থ হয়ে পড়ার পর স্বাভাবিকভাবে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন কোফি আনান।

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোফি আনান একজন অভিজ্ঞ ‘বৈশ্বিক নেতা’ ছিলেন। স্বচ্ছ ও অধিকতর শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে সারা জীবন লড়াই করে গেছেন।

তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব এ্যান্তনিও গুতেরেস, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার জাইদ রাদ আল হুসাইনসহ, ঘানার প্রেসিডেন্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষমতাসীন দল এএনসি, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ, ন্যাটো প্রধান জেন্স স্টোলেনবার্গ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থার প্রধান নাভেন মিমিকাসহ অন্যান্য বিশ্ব নেতা শোক প্রকাশ করেন।

এক শোক বার্তায় এ্যান্তনিও গুতেরেস বলেন, কোফি আনান ভাল কাজের পথ প্রদর্শক ছিলেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে বলেন, আমি কোফি আনানের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি একজন মহান নেতা ও জাতিসংঘের সংস্কারক ছিলেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেন, আমি কোফি আনানের প্রজ্ঞা ও সাহসের ভূয়সি প্রশংসা করছি। অত্যন্ত জটিল ও সঙ্কটময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারতেন তিনি। রাশিয়ার জনগণ তাকে চিরদিন মনে রাখবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, কোফি আনানের মৃত্যুতে বিশ্ব একজন বৈশ্বিক শান্তি স্থাপনের দূতকে হারালো। তিনি একজন বড় মাপের কূটনীতিক ও মানবাধিকার রক্ষার নেতা ছিলেন।

কোফি আনানের মৃত্যুতে তার দেশ ঘানায় সাত দিনের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট নানে আকুফো আদ্দো। আগামী সোমবার থেকে ঘানাসহ দেশটির আন্তর্জাতিক মিশনে দেশটির পতাকা অর্ধনমিত রাখার ঘোষণা দেন তিন।

ঘানার কুমাশি এলাকায় ১৯৩৮ সালের ৮এপ্রিল ফান্তে গোত্রে জন্ম নেন তিনি।

জাতিসংঘ থেকে বিদায় নেয়ার পরও বিশ্ব শান্তি স্থাপনে নানা কাজ করেন কোফি আনান। সিরিয়া সঙ্কট ও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে কাজ করেন তিনি। তার নেতৃত্বেই সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ অবসানের চেষ্টা করা হয়। আবার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে একটি রুপরেখা প্রণয়ন করেন তিনি। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব থাকার সময় ইরাক যুদ্ধকে অবৈধ ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক মহলের প্রশংসা কুড়ান তিনি।

কোফি আনানের ভাষায় তার সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ‘সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ নির্ধারণ-দারিদ্র্য আর শিশু মৃত্যু কমাতে বিশ্বব্যাপী প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ।

প্রধানমন্ত্রীর শোক ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী কোফি আনানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী কোফি আনানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার অবদানের কথা স্মরণ করেন । শেখ হাসিনা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আইনমন্ত্রীর শোক ॥ কোফি আনানের মৃত্যুতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রী শনিবার এক শোক বাণীতে কোফি আনানের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

নির্বাচিত সংবাদ