২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদের আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে ॥ রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গড়িমসি না করে ঈদের আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। অপর এক অনুষ্ঠানে সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের আগে সংলাপ চাই।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, বন্দী করে এখন নানাভাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ওপর জুলুম চালানো হচ্ছে। খালেদা জিয়া যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার তার প্রমাণ মিলছে প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যে। খালেদা জিয়াকে বন্দী করার জন্যই তার বিরুদ্ধে অসত্য মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। এটা কোন আইনী প্রক্রিয়া নয়, খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে আনন্দ লাভ করা। তিনি বলেন, অহঙ্কারের কারণেই বার বার আওয়ামী লীগের পতন হয়। এবারও চারদিকে সরকার পতনের শব্দ শুনতে পাওয়া যাচ্ছে।

রিজভী বলেন, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার মানিকনগর নিজ বাড়িতে পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে। শুক্রবার দলীয় নেতাকর্মীরা মওদুদ আহমদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদের পুলিশ বাধা দেয় এবং তার বাড়ি ও বাড়ির সামনে থেকে ১০ জনকে আটক করে। এর নিন্দা জানিয়ে তিনি গ্রেফতারকৃত দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।

রিজভী বলেন, কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নানা রকম দুঃস্বপ্নে অস্থির ও শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। গণতন্ত্রকে হরণ করে যে শূন্যতার সৃষ্টি করেছেন তাতে ধেয়ে আসা প্রতিবাদী মানুষের টর্নেডোতে ভয় পেয়ে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা বেসামাল হয়ে পড়েছেন। তাই কখনও ভয়ের কথা বলছেন, কখনও ধমকের সুরে কথা বলছেন।

রিজভী বলেন, শিশু-কিশোররা রাস্তায় নেমেছিল নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনে। আবেগাপ্লুত স্লোগানে তারা মানুষের হৃদয়কে শুধু দোলাই দেয়নি বরং ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়েছে, কর্তব্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করেছে। এ আন্দোলনের সমর্থনকারীদের বলা হচ্ছে উস্কানিদাতা। যারা এ আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতারের হিড়িক চলছে। তিনি বলেন, রিমান্ডে নিয়ে শেখানো বুলি স্বীকার করতে উৎপীড়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়া নজিরবিহীন। তিনি অবিলম্বে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি করেন।

রিজভী বলেন, আমরা ক্ষতিকর গুজবের পক্ষে নই, তবে প্রকাশ্যে হাতুড়ি দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে পা গুড়া করে পঙ্গু করে দেয়া এবং শহীদ মিনারে একজন ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করা কি গুজব ? পুলিশ ও হেলমেটধারী সন্ত্রাসীদের একযোগে শিশু-কিশোর ও সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া কি গুজব ? এগুলোতো সবার সামনেই ঘটেছে। এদের কেন বিচারের আওতা থেকে দূরে রাখা হয়েছে ?

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের আগে সংলাপ চাই- নজরুল ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সরকারকে সংলাপের আয়োজন করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাইলে তফসিলের আগে সংলাপ চাই। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নজরুল খান বলেন, দেশের মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন যদি নির্বাচনে না হয়, তাহলে সেটা কোন নির্বাচন নয়। সেই নির্বাচন হতে হলে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। আমরা সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে ফয়সালা করতে হবে। আর সংলাপ না হওয়ার কারণে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এর দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

নজরুল ইসলাম বলেন, একই খেলা বার বার হয় না। কাজেই সরকারকে বলতে চাই, সম্মানজনক বেরিয়ে যাওয়ার পথ একটাই অবশিষ্ট আছে তা হচ্ছে সংলাপের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সারাদেশে আওয়ামী লীগ পাবে আমাদের চার ভাগের এক ভাগ ভোট। আর সেই ভয়েই তারা নির্বাচন এমনভাবে করতে চায়, যেভাবে তাদের জেতা নিশ্চিত করে।

শুক্রবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ফখরুল সাহেব তার বক্তব্যে বলেছেন স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। এই কথার অর্থ এই না যে, আবার একাত্তর সালের মতো লড়াই করে ওই রকম স্বাধীনতা আমাদের আনতে হবে। বুঝতে হবে এটা রাজনীতির ভাষা। এই স্বাধীনতার মানে হলো রাজনীতি করার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের স্বাধীনতা, সুন্দর, সুস্থ ও নিরাপদে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা। ২০০৭ সালে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের কথা তুলে ধরে নজরুল ইসলাম বলেন, উনি ওই সময়ে বলেছিলেন, বঙ্গভবনের অক্সিজেন বন্ধ করে দেবেন। অক্সিজেন বন্ধ হলে মানুষ কিভাবে বাঁচে ? বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন, সামরিক-বেসামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। এখন কি আমরা বলব যে, উনি তাদের হত্যা করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন ?

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি জুলফিকার মতিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম প্রমুখ।

১ সেপ্টেম্বর থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই শুরু– দুদু ॥ ১ সেপ্টেম্বর থেকেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই শুরু হবে। আর সেই লড়াই বিএনপিজোট রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পরে শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কৃষকদল আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে দুদু বলেন, অন্যথায় পাকিস্তানের সময় শেখ মুজিবকে যেভাবে কারাগার থেকে বের করা হয়েছিল আমরাও সেই অবস্থা সৃষ্টি করব। প্রয়োজন হলে পুনরায় সে রকম আন্দোলন করা হবে এবং সে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে।

আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবি, কৃষক দলের সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দীন মাস্টার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দীন খান মিলন প্রমুখ।

৯০’র মতো গণঅভ্যুত্থান হবে– আমান ॥ ওয়ান ইলেভেনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, কেন ওয়ান ইলেভেনের পদধ্বনি শুনছেন ? তাহলে পদত্যাগ করেন। নইলে খালেদা জিয়ার মুক্তি, কেয়ারটেকার সরকার ও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ে একটি আন্দোলন শুরু হবে। ৯০’র মতো গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ সরকারের পতন হবে। এরপর দেশে জনগণের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে লেবার পার্টির ছাত্র মিশন আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

আমান বলেন, ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন থেকে যারা সেদিন নেতৃত্ব দিয়েছিল, তার অগ্রভাগে ছিল ছাত্রসমাজ। সর্বশেষ ১৯৯০ এর ছাত্র আন্দোলনে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছিল, গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছিল ছাত্রদের ভূমিকার কারণে। আজকে সেই ছাত্ররাই রাজপথে নেমেছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সালমান খান বাদশার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

সংসদ ভেঙ্গে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে– মাহবুব ॥ জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে তা না হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে চেতনা বাংলাদেশ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাহবুব বলেন, সংবিধান থেকে নির্বাচন কমিশনকে অনেক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সে ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য তার যে প্রশাসন রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে তারা যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে না থাকে তবে কোন দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। তিনি বলেন, ক্ষমতা ভাগাভাগির অনেক সময় পাওয়া যাবে। যদি ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে গিয়ে আমাদের বৃহত্তর ঐক্যে ফাটল ধরে তবে কেউ জনগণের রোষ থেকে রক্ষা পাবেন না। তাই মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আসুন ঐক্যবদ্ধ হই। তিনি বলেন, সরকার যদি মনে করে নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে বন্দুক রেখে একটা প্রহসনের নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় আসবেন সেটা ভুল করবেন।