২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকার হটাতে অপচেষ্টা

সরকার উৎখাতে নানা অপচেষ্টা ও অপতৎপরতা শুরু হয়েছে বিএনপি-জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে। সঙ্গে ‘সুগ্রীব দোসর’ হিসেবে রয়েছে একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ও একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি। তাদের সঙ্গে ঘোট পাকানোর চেষ্টায় নিরত কয়েকটি পাতি রাজনৈতিক দলের নন্দী-ভৃঙ্গী, ভোটে দাঁড়ালে যাদের কারও জামানত অবশিষ্ট থাকবে না। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মরিয়া ও বেপথুমান হয়ে উঠেছে এই চক্রটি। ১/১১-এর কুশীলবদের আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে। ইতোমধ্যে মোহাম্মদপুরে এক গোপন বৈঠক তথা নৈশভোজের প্রমাণ মিলেছে, যেখানে একটি প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মিলিত হয়েছিলেন ১/১১ -এর হোতারা। ব্যাংককে বসে বৈঠক ও ষড়যন্ত্রের খবরও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি লন্ডন ষড়যন্ত্রের পূর্বাভাস তো বরাবরের মতোই আছে। সত্যি বলতে কি, ১/১১তে সামরিক মদদপুষ্ট জাতীয় নির্বাচনে লজ্জাবনত পরাজয়ের পর থেকে বিএনপি-জামায়াত চক্র বর্তমান সরকারকে মেনে নিতে পারেনি কখনই। বরং তারা তা অব্যাহত রেখেছে নানা পথ ও পন্থায়। তবে সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতিরোধ এবং গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তাদের সেসব অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা পেট্রোলবোমা মেরে অগণিত মানুষ হত্যা, যানবাহন-রেল ইত্যাদিতে আগুন লাগিয়ে ভোট বানচালের কম অপচেষ্টা করেনি। হায়, সকলই গরল ভেল। সর্বশেষ তারা সওয়ার হওয়ার অপচেষ্টায় নেমেছিল কোটা বাতিল আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ নানা অরাজনৈতিক ও অহিংস আন্দোলনে শরিক হয়ে। এর জন্য তারা প্রধানত বেছে নিয়েছে গুজবকে, যা ছড়িয়েছে ফেসবুক, ফেসবুক লাইভ, মোবাইল, ইন্টারনেট, মোবাইল এ্যাপস ইত্যাদি মাধ্যমকে, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে কেন্দ্র করেও তারা ষড়যন্ত্রের জাল পেতেছিল। ভারতে গ্রেফতার বোমারু মিজান সেই সাক্ষ্য দিয়েছে। আগামীতে এই ধরনের গুজব ছড়ানোর আরও অপচেষ্টা হতে পারে। সুতরাং গুজব থেকে সাবধান হোন।

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির নিত্যনতুন ব্যবহারে সারা বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমরা নেমেছি এর অপব্যবহারের প্রতিযোগিতায়। এর সর্বশেষ উদাহরণ নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা। এহেন কুকীর্তি ও হীন প্রচেষ্টায় জড়িত রয়েছে রাজধানীসহ দেশব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কতিপয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও চক্র। ফটোশপে হামলা-ভাংচুরের ছবি এডিট করে, অশ্লীল ও আপত্তিকর ভাষায় লিখিত ব্যনার-ফেস্টুন-স্লোগান ইত্যাদি লিখে সর্বোপরি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে বহুবিধ পোস্ট দেয়া হয়েছে ফেসবুক, ইন্টারনেট, ইউটিউবে- যা ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে মুহূর্তেই। এতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বভাবতই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন মহলে। অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে, সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোই তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। হাতেনাতে এর প্রমাণও মিলেছে।

ফেসবুক, তথ্যপ্রযুক্তি, ইন্টারনেটে অপপ্রচার ও উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং ছবি প্রচার প্রতিরোধে স্থায়ী কোন আইন করা যায় কিনা, তা ভেবে দেখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। আইনের যথাযথ ব্যবহার যেমন প্রত্যাশিত তেমনি আইনের অপপ্রয়োগও নিন্দনীয়। তবে দেশ, সম্পদ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর তথা ধ্বংসাত্মক তৎপরতাকে উৎসাহিত করে এমন যে কোন উদ্যোগ ও প্রয়োগকে অবশ্যই নিরুৎসাহিত করা অত্যাবশ্যক। কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত কয়েকটি সিটি নির্বাচনেও ফেসবুক, মোবাইল ও ইন্টারনেটের ব্যাপক অপব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব বিষয়ে আরও সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

নির্বাচিত সংবাদ