২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কথিত জোট বাঁধার অপজটিলতা রুখতে হবে

  • অজয় দাশগুপ্ত

ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের পর রাজনীতি আবার চাঙ্গা হতে চাইছে। রাজনীতি চাঙ্গা হলে দেশের লাভ। দুনিয়ার সব দেশে রাজনীতি আছে। থাকতে হবে। আমাদের সমাজে রাজনীতি এখন এমন এক জায়গায় পেঁৗঁছে গিয়েছে যেখানে বাস্তবে এককেন্দ্রিকতাই এখন ভরসা। ভরসা বললে যেসব সুশীলরা আমাদের ওপর রাগ করেন কিংবা মনে করেন দলকানা তাদের কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে চাই। কোন রাজনীতি বা কি ধরনের রাজনীতি চান আপনারা? কাকে বলে রাজনৈতিক দল? যদি আমরা সত্যভাষী হই কিংবা আমাদের বুকে হাত দিয়ে বলতে হয় আমরা কি বিএনপিকে গঠনমূলক রাজনৈতিক দল বলতে পারি? তাদের বাদ দিলে আর যারা সরকার বিরোধী কথা বলে মাঠ গরম রাখেন তাদের দিকে তাকান। কারা এরা? নতুন প্রজন্মের চাওয়া নতুন প্রজন্মের কথা বুঝতে না পারা বয়সী মানুষগুলো পারবে রাস্তায় নেমে আসা আমাদের বাচ্চাদের আশা পূরণ করতে? এরা যদি এই সরকারকে হটাতে পারে তাহলে কি হবে একবার কি ভেবে দেখেছেন আপনারা?

আসুন, আমরা খোলামেলা হয়েই কথা বলি। এখন দেখছি ঈদের পর রাজনীতি চাঙ্গা হবার সুসংবাদ! কারা চাঙ্গা করবেন এই রাজনীতি? খবরে দেখলাম বাতিল মালগুলো আবার মাঠে নামছেন। ড. কামাল হোসেন, বি. চৌধুরী এরা নাকি নতুন পথ দেখাবেন? বয়স মানুষকে দেয় অভিজ্ঞতা। মানুষ বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সংযত করবেন এটাই স্বাভাবিক। রাজনীতি এমন এক পেশা যেখানে রিটায়ারমেন্ট বলে কোন বিষয় নেই। আজীবন বা আমৃত্যু তা করা যায়। কিন্তু কারা করবেন কিভাবে করবেন তার একটা রূপরেখা না থাকলে যা হয় সেটাই দেখছি বাংলাদেশে। পাশের দেশ ভারত এমনকি পাকিস্তানেও বয়সী মানুষেরা রাজনীতিতে সক্রিয়। ভারতে সদ্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বিজেপি নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ীর কথাই ভাবুন। রাজনৈতিকভাবে তাঁকে সমর্থন করি না। কিন্তু তাঁর সরল জীবন আর সহজ জীবন কিভাবে ভোলা যাবে? এই সেদিনও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছিল সাধারণ এক রান্নাঘরে অতি আটপৌরে এক কেতলিতে চা বানিয়ে খাওয়ার দৃশ্য। এই সহজ জীবন বাদ দিলেও তাঁর বয়স আর অভিজ্ঞতা বিজেপিকে প্রথমবার গদিতে এনে যে কাঠামো দিয়েছিল সেটার সুফল এখনও ভোগ করছে মোদি সরকার। এমন ঘটনা নানা দেশের বয়সী রাজনীতিবিদদের বেলায়ও দেখেছি।

মনে পড়ে মওলানা ভাসানীর কথা। অতি সাধারণ জীবনযাপন করতেন। সন্তোষে খড়ের চালার ঘরে তাঁর ভাত রেঁধে খাওয়ার ছবিটি যারা দেখেছেন তারা জানেন মওলানা কত সহজ একটা জীবনযাপন করে গিয়েছেন। আমাদের দেশের নেতাদের ভেতরে অতীতে এমন অনেকেই ছিলেন। মণি সিংহ থেকে হাজী দানেশ সবার জীবন পর্যালোচনা করলেই তা বোঝা সম্ভব। মিলিয়ে নিনি আজকের ছবি। ডাক্তারী পেশা থেকে একমাত্র টিভি চ্যানেলে আপনার ডাক্তার হওয়ার সুবিধাভোগী বি. চৌধুরী জীবনকে শুধু উপভোগই করেননি, ভোগও করেছেন। নেতৃত্বহীন বিএনপিতে ঢাল তলোয়ারহীন এই নিধিরাম সর্দার দেশের সর্বোচ্চ পদ রাষ্ট্রপতির পদ দখল করার পরও থেমে থাকেননি। বিএনপির লোকেরা খুব ভাল জানেন কি কারণে তাঁকে তারা রেললাইনে তাড়া করে বেরিয়েছিল। দৌড়াতে দৌড়াতে কাপড় সামলাতে না পারা বি. চৌধুরীর সেই ছবি কি ভুলে গেছে জনগণ? নেতারা মনে করেন মানুষ কিছুই মনে রাখে না। আসলে জনগণ ভোলেন না। ভোলেন না বলেই এরা নিজেরা নিজেদের নেতা ভাবেন, বাস্তবে এদের কোন জনসমর্থন নেই।

ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে শ্রদ্ধাভাজন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর লেখার পর আর বলার কিছু থাকে না। এখন তাঁকে দেখলেই মনে হয়: হায় হোসেন! সত্যি হায় হোসেন তিনি। কি বলছেন কেন বলছেন তিনিই জানেন। ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলন কথাটা তাঁর মুখে মানাব? বি. চৌধুরীদের মুখে মানালেও তাঁকে মানায় না। কারণ এ যাবত যা ভোগ করেছেন বা যে যশ যে সুনাম নিয়ে করে খাচ্ছেন তা এক উপহার। আর এই উপহার দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। ড. কামালের চাইতে বহু বাঘা বাঘা মানুষ থাকার পরও বঙ্গবন্ধু স্নেহ আর ভালবাসায় তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ দেয়ার কারণে তিনি আজ বড় বড় কথা বলছেন। মনে আছে সত্তর আর আশির দশকে রাস্তায় যখন মানুষ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তখন তাঁকে সামনে আনলেও দুঃসময়ে পাওয়া যায়নি। বিরোধীদের যে কোন হুঙ্কারে দেশ ছেড়ে পালিবে যাওয়া ড. কামাল হোসেন তখন ছিলেন অনেক কম বয়সী। আর এখন? এই মানুষ নেবেন ঝুঁকি!?

সঙ্গে জুটেছে নবীন ভাইবার মান্না। একদা বাসদের নেতা আওয়ামী লীগে এসেছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদকও হয়েছিলেন। তারপরের ঘটনা সবার জানা। কিভাবে মুক্তি পেলেন আর কেন ওবায়দুল কাদের ফুল নিয়ে গিয়েছিলেন আমাদের জানা নাই। তবে এটুকু বুঝি তাঁকে মানে মান্নাকে বিশ্বাস করা যায় না। অবিশ্বাসী এদের দিয়ে মাঠে কি রাজনীতি হবে আর মানুষের কি স্বার্থ বা ভাল তারা আদায় করবেন কে জানে। এটুকু নিশ্চিতভাবে বলতে পারি এরা না চায় আন্দোলন না কোন সমস্যার সমাধান। সে সাধ্য বা সাহস বা প্রজ্ঞা কোনটাই আর অবিশিষ্ট নেই তাদের ভেতর। তারা এখন কেবল কতগুলো নাম। যে নামগুলো কেবল অতীত ওজনে ভারি। তাই ঈদের পর যে নতুন ষড়যন্ত্র আর দুষ্টু রাজনীতির আভাস তাতে সন্দেহপ্রবণ হওয়ার বিকল্প নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এদের যত রাগ। আমরা অত বোকা না যে, কারণ বুঝি না। সরকারের যে অংশে পচন বা যারা সরকারের লোকসান করার জন্য কাজ করছে ভেতরে থেকে ঘুঁটি চালছে তাদের বিরুদ্ধে এদের তেমন কোন উচ্চবাচ্য নেই। খেয়াল করবেন রিজার্ভ চুরি কিংবা নানাবিধ আর্ধিক কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে তারা তেমন সরব না। বলার দরকার বলে দুু’চার কথা বলেন। নেই কোন সমাধান-ফর্মুলাও। কোটা আন্দোলন থেকে সুবিধা নেয়ার জন্য মুখিয়ে থাকা এই প্রবীণদের কাছে এর সমাধান কি? সে বিষয়ে কি তারা কিছু জানিয়েছে? জানিয়েছে কি রাস্তার আন্দোলন বিষয়ে তাদের পরামর্শ? তারা সরকারে এলেই কি যানবাহনের পাগলা ড্রাইভাররা সাবধান হয়ে যাবে? নাকি রাস্তার দস্যুরা সুড় সুড় করে ঢুকে যাবে গর্তে? কোনটাই হবে না। বরং এই স্থিতিশীল দেশটাকে আবার উল্টে দে মা নতুন করে লুটেপুটে খাই শুরু হবে। মনে রাখতে হবে অনেকদিনের অভুক্ত আর সুবিধা বঞ্চিত বিএনপি কর্মী ক্যাডাররা বসে আছে কখন সময় আসবে। যার বড় নজির এসব মানুষের পেছনে থাকা বিলেতের তারেক রহমান। মিডিয়াতে দেখলাম সবকিছু নাকি এগোচ্ছে তার পরামর্শে। সে ভয়ঙ্কর ভবিষ্যত যাদের কাম্য তারা আর একবার দেশ ও জনগণের কথা ভাববেন দয়া করে।

ঈদের পর জোট বাঁধার দুঃস্বপ্ন দেখা নেতাদের আমরা বাতিল মাল বললেও তাদের পেছনে আছে অপশক্তি। সে অপশক্তি খালি বাহিনী দিয়ে ঠেকানো যাবে না। এ জন্য চাই মানুষের মতো। মানুষের সংযোগ। সরকারি দল এখন সে জায়গায় নীরব। তাদের উচিত জনগণের কাছে যাওয়া। সংঘটিত বেদনাদায়ক ঘটনাগুলোর জন্য মাফ চাওয়া। মানুষকে স্বস্তি ও শান্তির কথা বলা। শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করা মানে স্তাবকতা না। যার যার দায়-দায়িত্ব পালন না করলে ঈদের পর অপশক্তির আস্ফালন মোকাবেলায় আবারও জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সাধু সাবধান।