২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বস্তিবাসী ফ্ল্যাটে থাকবে ॥ রাজধানীর খাল উদ্ধার করে তার ওপর এলিভেটেড ওয়ে নির্মাণ হবে

বস্তিবাসী ফ্ল্যাটে থাকবে ॥ রাজধানীর খাল উদ্ধার করে তার ওপর এলিভেটেড ওয়ে নির্মাণ হবে
  • বারিধারা, গুলশান, বনানী, বসুন্ধরা, সংসদ ভবন ও ক্যান্টনমেন্ট থেকে শুরু করে সব এলাকার জলাবদ্ধতা ও দূষণ বন্ধ হয়ে যাবে সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলে পানি সরবরাহে আজ দেশ দক্ষিণ এশিয়ার রোল মডেল

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীতে ক্ষমতায় এলে ঢাকা শহরের সব বক্স কালভার্ট ভেঙ্গে খালগুলো উদ্ধার করে সেগুলোর ওপর এলিভেটেড ওয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের তো সময় শেষ। আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন। যদি আগামীতে আসতে পারি, আমার একটা টার্গেট বা লক্ষ্য থাকবে- প্রত্যেকটা বক্স কালভার্ট ভেঙ্গে ফেলে দেয়ার। আশা করি পর্যাপ্ত টাকা পয়সা হবে আমাদের। আর ওই বক্স কালভার্টগুলোকে খালে উন্মুক্ত করে দেব। আর খালের ওপর দিয়ে এলিভেটেড রাস্তা করে দেব। রাস্তার প্রয়োজন আছে আমাদের, কিন্তু রাস্তাগুলো আমি যদি খালের ওপর করে ফেলি তাহলে সমস্যা থাকল না। রাস্তাও থাকল, খালও থাকল। আবার পয়ঃনিষ্কাশন, পানির সরবরাহ ব্যবস্থাও ভাল হলো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা মহানগরীর আধুনিকায়নে তাঁর সরকারের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আরও বলেন, আমরা দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। এই উন্নয়নের ছোঁয়া শুধু উচ্চবিত্ত নয়, নিম্নবিত্তরাও পাবেন। রাজধানীর বস্তিগুলো বহুতল ভবনে প্রতিস্থাপিত হবে। বস্তিবাসীরা এখন ঢাকা শহরে যে ভাড়া দিয়ে একটা কামরায় থাকে সে ভাড়া দিয়ে ২০তলা ভবনের ফ্লাটে থাকবেন। যাতে করে তারা উন্নত স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে জীবন-যাপন করতে পারে আমরা সে ব্যবস্থা করব। তারা দিনে, সপ্তাহে এবং মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দিয়ে বসবাস করবেন।

রবিবার সকালে প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর তাঁর ভবিষ্যত এসব পরিকল্পনার কথা জানান। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুয়ো এবং ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এবং হুইপবৃন্দ এবং সরকারের পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীর বিভিন্ন খাল ও জলাধার বন্ধ হওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে অনেক খাল ছিল। মতিঝিলে বিশাল ঝিল ছিল, সেটা বন্ধ করে দিল আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর। ধোলাই খাল, শান্তিনগর খাল, সেগুনবাগিচা খালসহ অগণিত খালে ভরা এই শহরটা। ঢাকা শহরের চারদিকে পাঁচটি নদী- বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, বালু নদী, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা। নদী দিয়ে ঘেরা ঢাকা শহর। ঢাকা শহরের ভেতর খালগুলো ছিল শিরা-উপশিরার মতো। সেখানে আমরা দেখলাম সেগুনবাগিচা খাল সেখানে বক্স কালভার্ট করা হলো, আজকে পান্থপথ সেটা কিন্তু খাল। সেখানেও বক্স কালভার্ট, শান্তিনগর খাল সেটাও বক্স কালভার্ট। আর তার ফলে জলাবদ্ধতার নানা সমস্যা।

তিনি বলেন, প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে দরিদ্র মানুষকে রাজধানীতে আসতে হয়। আবার আমাদের দৈনন্দিন কাজেও এই শ্রমিক শ্রেণীর প্রয়োজন পড়ে। তারা যেন একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেজন্যই তাদের বসবাসের জন্য একটু ভাল পরিবেশের দরকার। তিনি বলেন, বস্তিবাসীরা এখন বস্তিতে যে ভাড়া দিচ্ছে সে ভাড়াতেই এখানে থাকবেন, অবশ্য তাদের ভাড়া দিয়েই থাকতে হবে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হচ্ছে, কাজেই তারও যেন সেই ছোঁয়াটা পায় সেটা আমাদের দেখতে হবে। কেবল অবস্থাসম্পন্নদের জন্যই নয়, আমাদের উন্নয়ন সকলের জন্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বস্তি এলাকার পানির ব্যবস্থা আমি করছি, কিন্তু ঢাকা শহরের বস্তিগুলো এখন যে দুরবস্থার মধ্যে আছে সে বস্তি ঢাকা শহরে থাকবে না। আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি- মানুষ কেন এই মানবেতরভাবে জীবন যাপন করবে। তারা তো মানুষ, তারা তো কোন না কোন কারণেই বস্তিতে আসে। তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হবার পর বস্তিবাসীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন যে এখানে কেউ আসে কাজের খোঁজে, কেউ আসে সামাজিক সমস্যার কারণে, কেউ আসে সম্পত্তির দ্বন্দ্বে। তিনি বলেন, ১৯৯৬ পরবর্তী সরকার গঠনের পরই সে সময়ই তিনি বস্তিবাসীদের নিজ গ্রামে পুনর্বাসনে ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচী চালু করেন।

বস্তিবাসীর জন্য তাঁর সরকারের বহুতল আবাসন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুত, পানির প্রিপেইড মিটার থাকবে, তারা যতটুকু ব্যবহার করবে তার বিল দেবে। কারণ শহর যত উন্নত হয় তার কাজের জন্য এ ধরনের কর্মীও লাগে। কাজেই তাদের জীবন-মানটা যেন উন্নত হয় সেদিকেও ভালভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। ইতোমধ্যেই গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কিছু পরিকল্পনা করেছে যেগুলো তিনি দেখে দিয়েছেন। কাজও শুরু হয়েছে। এভাবে সমগ্র ঢাকা এবং ঢাকা ছাড়াও পর্যায়ক্রমে যে পরিকল্পনা করা হবে তাতে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পরিকল্পনা করেই আমরা কাজ করব। ভবিষ্যত যে উন্নয়নটা হবে তার ছোঁয়া উচ্চবিত্তের পাশাপাশি এই খেটে খাওয়া নিম্নবিত্তরাও যাতে পায় তা নিশ্চিত করা হবে। কারণ এই নিম্নবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষের জন্যই আমার রাজনীতি।

হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাঁর সরকারকে ৬৮টি মামলা মোকাবেলা করতে হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন কাজ করতে গেলেই এভাবে বাধা আসে এবং সেই বাধা অতিক্রম করইে আমাদের কাজ করতে হয়। এখন থেকেই যদি আমরা সেই ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পরিকল্পনা নিয়ে নেই তাহলে ভবিষ্যতে আর সমস্যা হবে না। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোয় তাঁর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম আধুনিক ও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিলিং সিস্টেমকে ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। ফলে গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ওয়াসার সিস্টেম লসের পরিমাণ শতকরা ৪০ ভাগ থেকে কমে ২০ ভাগে নেমে এসেছে। অত্যাধুনিক ডিএমএ (ডিস্ট্রিক্ট মিটারড এরিয়া) প্রযুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিস্টেম লস ৫ শতাংশ পর্যন্ত নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এটির জন্য ঢাকা ওয়াসা সাউথ-ইস্ট এশিয়ার মধ্যে একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে প্রশংসা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর পানি শোধনাগারসমূহের পানির উৎস মূলত চারপাশের নদী। নদীর তলদেশের বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করার জন্য ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ওয়াসাকে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য। যারা এখানে কাজ করবেন প্রত্যেককে একথা মনে রাখতে হবেÑ প্রত্যেকেরই মানুষকে সেবা দেয়ার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। তাঁর সরকারের সরকারী কর্মচারীদের বেতনভাতা বৃদ্ধি এবং আবাসন সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি চাইব এখানকার কর্মরতরা যেন মানুষকে সেবা দেয়ার বিষয়টার প্রতি লক্ষ্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় হাতিরঝিলসহ রাজধানীর একটি বড় অংশে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করে সরকারী প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টিকারীদের সতর্ক করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় আসি তখন ঢাকা শহরে পানির জন্য হাহাকার ছিল। ১৫০ টাকার পানির গাড়ি দেড় হাজার টাকা দিয়ে নিতে হতো। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়ায় রাজধানী পানি সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে। তিনি বলেন, পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসা এখন দক্ষিণ এশিয়ার রোল মডেল। ঢাকা ওয়াসায় অনেক অনিয়ম ছিল। আমরা সেগুলো দূর করেছি। ঢাকা শহরের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য শহরের পানি সমস্যারও সমাধান করব আমরা। তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলে আমরা এ কাজগুলো করতে পারছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতে কাজ করছে বর্তমান সরকার। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি মানুষকে নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেল্টা প্ল্যান ঘোষণা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘোষণা দিয়েছি, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশের মধ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। আর ২০৪১ সাল নয়, ২১০০ সালের বাংলাদেশে কি হবে তা দেখতে চাই। আমরা ডেল্টা প্ল্যান নিয়েছি ২১০০ সাল পর্যন্ত। ডেল্টা প্ল্যানের মধ্যে যেটা আমি সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছি, প্রত্যেকটি নদী ড্রেজিং করে, প্রতিটা এলাকাকে উন্নত করতে হবে। প্রতিটা জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডসহ আমাদের সুপেয় পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এই তিনটির পদক্ষেপ নিতে হবে।’

পত্রিকায় অযাচিত লেখালেখিতে সরকারি নানা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজ না পেয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী পত্রিকায় লেখেন। আর কিছু কিছু পত্রিকা উন্মুখ হয়ে বসে থাকে সেগুলো ছাপানোর জন্য। এতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্প অকারণে পিছিয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রকল্প নিতে গেলে সময়ক্ষেপণের বিষয়টি তুলে ধরে এই প্রকল্পকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এখানে কাজ করতে গেলে নানা ঝামেলা। এমনকি পাইপে আধা ইঞ্চির সমস্যা নিয়ে আমাদের অনেক দিন সময় নষ্ট হয়ে গেল। এসব বিতর্ক কেন তোলা হয় তা বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারণটা আমি জানি। কারণটা আর কিছুই না, কাজটা কে পেল না পেল। কেউ যদি না পেল, ওমনি দিল একখানা পত্রিকায় লিখে। আর কিছু পত্রিকা তো উন্মুখ হয়ে বসে থাকে, ওটা লিখবেই। তারপর সেটা নিয়ে আবার নানা জল্পনা কল্পনা, তারপর আবার মাপামাপি, তার ওপর আবার রিপোর্ট দেন। অনেক ঝক্কি ঝামেলা, খামাখা সময়টা নষ্ট।

তিনি বলেন, অথচ হাতিরঝিল করেছি, হাতিরঝিলের পানি প্রায়ই পচে যায়। এই ট্রিটম্যান্ট প্লান্টটা যদি আমরা না করি, তাহলে হাতিরঝিলকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না, এটা হলো বাস্তবতা। কিন্তু সেটা না করে কোথায় পাইপের আধ ইঞ্চির ব্যাস কম। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমরা সায়েদাবাদ-১ করেছি, তারপর করেছি সায়েদাবাদ-২। এখন সায়েদাবাদ-৩ করার জন্য প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি, তারপর অন্যান্য যে ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্লান্ট এবং স্যুয়ারেজ প্লান্ট আমরা করেছি, সেখানে কত ব্যাসার্ধের পাইপ ব্যবহার করেছিলাম, সেটার রিপোর্ট আনো। সেটা দেখে অনেক কিছু করে অবশেষে আজকে সেটা কার্যকর হচ্ছে।

দাসেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার পর বিশেষ করে যারা পস এলাকায় থাকেন, বারিধারা, গুলশান, বনানী বসুন্ধরা, সংসদ ভবন থেকে শুরু করে ক্যান্টনমেন্ট থেকে শুরু করে সমস্ত এলাকার জলাবদ্ধতা বা দূষণ যেমন বন্ধ হয়ে যাবে, এসব এলাকার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা আরও সুন্দরভাবে হবে। পুরো ঢাকা শহরের সমস্ত এলাকার মানুষ যেন এই সুবিধাটা পায়, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। রাজধানীর পাশাপাশি জেলা, উপজেলা শহর এবং ইউনিয়ন পর্যায়েও পানি ও পয়ঃসেবা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হওয়ারও নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সুপেয় পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, এই তিন পদক্ষেপ নিতে হবে এই কারণ যে, আমরা প্রত্যেকটা গ্রামকে শহরে উন্নীত করতে চাই, গ্রামের মানুষ যেন শহরের মতো একটা উপযোগী ব্যবস্থা পায়। এখন থেকে যদি আমরা ব্যবস্থা নেই, তাহলে ভবিষ্যতে কাজ করতে সমস্যা হবে না। কারণ এখন কাজ করতে গেলে এখানে জায়গা নাই, ওখানে জায়গা নাই, নানা সমস্যা। কিন্তু আমরা যদি এখন থেকে পরিকল্পনা নেই, সেই সমস্যাটা আর ভোগ করতে হবে না।

পুকুর ভরাট করা চলবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের জলাধার সংস্কার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের তাগিদ দেন। ঢাকার পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ায় আক্ষেপের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের বহু পুকুরগুলোতে বিশাল বিশাল দালান উঠে গেছে। ঢাকায় এখন হাতেগোনা কয়েকটা পুকুর। এই পুকুরগুলো সব সংরক্ষণ যেমন করতে হবে। রাজধানীর প্রধান নদী বুড়িগঙ্গার তলদেশে থাকা বর্জ্য অপসারণ, বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করে নদীটিতে পুরোপুরি দূষণমুক্ত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গা তো প্রায় পচে দুর্গন্ধ। প্রচুর ময়লা সেখান থেকে বের করতে হয়েছে। কিন্তু তারপরও এখনও সেভাবে হয়নি। ওখানেও কতগুলো স্যুয়ারেজ সিস্টেম তৈরি করতে হবে। ওখানে নানা ধরনের বর্জ্য আছে। কিছু আছে বসতবাড়ির বর্জ্য, কিছু আছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বর্জ্য। কাজেই সেখানে দুই ধরনের ট্রিটম্যান্ট প্লান্ট তৈরি করা দরকার। ইতোমধ্যে আমরা সেখানে একটি কমিটি করে দিয়েছি এলজিআরডি মন্ত্রীকে দিয়ে এবং একটা ধারণাও দিয়েছি। এছাড়া যমুনা নদী থেকে পংলী নদী ড্রেজিং করে তুরাগ নদী হয়ে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত যদি ড্রেজিং করে দিতে পারি, এভাবে পানির ধারাটা যদি অব্যাহত রাখতে পারি, তাহলে এই বুড়িগঙ্গা নদীতে আর দূষণ থাকবে না। পাশাপাশি বালু, তুরাগ, ধলেশ্বরীও ড্রেজিং করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদী ড্রেজিং করলে প্রচুর জমি আমরা উত্তোলন করতে পারি। কোথাও আমরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন করব, কোথাও আমরা চাষের উপযোগী জমি ব্যবহার করব, কোথাও আমরা শহর গড়ে তুলব।’

ঢাকার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে একই পাইপলাইনে নিয়ে আসতে চীন সরকারের সহযোগিতায় ঢাকা ওয়াসার ২০২৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়নাধীন মহাপ্রকল্পের অংশ হিসেবে খিলগাঁও এলাকায় এই দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প নির্মিত হচ্ছে। রাজধানীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে রাজধানীতে আরো ৪টি পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এতে পাগলায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় দুটি এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতায় রায়েরবাজার এবং উত্তরায় আরও দুটি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। অনুষ্ঠানে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও উপস্থাপনায় জানানো হয়, ৩ হাজার ৩৭৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। ২৪ হেক্টর জমির ওপর বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে ৫০ লাখ নগরবাসীকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে।