২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে হারিয়ে ইতিহাস বাংলাদেশের

 বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে হারিয়ে  ইতিহাস বাংলাদেশের
  • প্রথমবারের মতো নকআউট রাউন্ডে লাল-সবুজের দেশ

জাহিদুল আলম জয় ॥ ফের বাংলাদেশের ফুটবলে সুদিন ফেরার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মেয়েরা ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভাল করে চলেছে। তাদের দেখে হয়তো পুুরুষ ফুটবল দলও অনুপ্রাণিত হচ্ছে। এরই নমুনা পাওয়া গেছে ইন্দোনেশিয়ায় চলমান এশিয়ান গেমস ফুটবলে।

রবিবার রাতে ইতিহাস গড়ে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে (শেষ ষোলো) নাম লিখিয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। তাও আবার পরবর্তী অর্থাৎ ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে। জাকার্তার বেকাসির প্যাট্রিয়ট চন্দ্রভাগা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের জয়সূচক গোলদাতা অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। দেশের ফুটবল ইতিহাসে এটি অন্যতম সেরা সাফল্য। অসাধ্য সাধন করা এই জয়ে গেমসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বের টিকেট পেয়েছে বাংলার ছেলেরা। তাক লাগানো এ

সাফল্যের মধ্য দিয়ে ফুটবলে নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছে। আগে যে স্বপ্ন কখনও দেখেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা, এবার সে স্বপ্ন ধরা দিয়েছে বাস্তবে। ইংলিশ কোচ জেমি ডে’র হাত ধরে ফুটবলের নতুন উচ্চতায় উঠেছে দেশ। বাংলাদেশ এখন এশিয়ার সেরা ১৬ দেশের একটি।

‘বি’ গ্রুপে উজবেকিস্তান তিনটি ম্যাচই জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেরা ষোলোতে উঠেছে। বাংলাদেশ তিন ম্যাচে একটি করে জয়, ড্র ও হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে পরের রাউন্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে। অবাক করা বিষয়, কাতার ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সবদিক দিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল। পরের বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। যেখানে কাতার ৯৮তম স্থানে, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ১৯৪তম। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে বাংলার দামাল ছেলেদের কাছে হারতে হয়েছে তাদের। শেষ ষোলোতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সৌদি আরব বা ইরান। যেটা জানা যাবে আজ।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে হারলেও ওই ম্যাচে শিষ্যদের খেলায় মুগ্ধ হন বাংলাদেশ দলের কোচ জেমি ডে। গুরুর সেই প্রশংসার প্রতিদান দল দেয় দ্বিতীয় ম্যাচে থাইল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে। ভাগ্য সহায় না হওয়াতে খেলা শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে গোল খেয়ে যায় লাল-সবুজরা। তবে থাইদের বিরুদ্ধে জয় হাতছাড়া হওয়ার জ্বালা জামাল, সুফিল, সাদ, জনিরা মিটিয়েছেন কাতারকে হারিয়ে। পুরো ম্যাচে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগে কখনই ভীতি ছড়াতে পারেনি কাতারের ফুটবলাররা। পুরো আসরেই পরবর্তী বিশ্বকাপের আয়োজকরা সুপার ফ্লপ। গ্রুপপর্বে তিনটি ম্যাচের দু’টিতেই হেরেছে তারা। শুধু থাইল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সান্ত¡নার এক পয়েন্ট পেয়েছে। যে কারণে গ্রুপের চার নম্বর হয়ে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। এর আগে উজবেকিস্তানের কাছে কাতার হেরেছিল ৬-০ গোলে। বাংলাদেশও প্রথম ম্যাচে উজবেকদের কাছে হেরেছিল। তবে কাতারের চেয়ে অর্ধেক অর্থাৎ ৩-০ গোলে।

প্রথম ম্যাচে হারলেও বাংলার ছেলেরা মন্দ করেনি। তার প্রমাণ মেলে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে। জিততে জিততে ড্র হয় ম্যাচটি। আর তৃতীয় ম্যাচে কাতারকে হারিয়ে তো বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয় উপহার দিয়েছে জেমি ডে’র দল। কাতারকে মাটিতে নামিয়ে বাংলাদেশের যুবারা বুঝিয়ে দিয়েছে হেলাফেলা করার দিন শেষ! ম্যাচের শুরু থেকে কাতার বলের দখল নিয়ে খেললেও বাংলাদেশের ছেলেরা ছিল বেশি আত্মবিশ্বাসী। যে কারণে বাংলাদেশের রক্ষণদুর্গে তেমন আগ্রাসী আক্রমণ করতে পারেনি কাতার। উল্টো পাল্টা আক্রমণে বেশ কয়েকটি সহজ গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে মাসুক মিয়া, সুফিল, জামাল ভুঁইয়ারা। প্রথমার্ধে তো কাতারি গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেনি বাংলার ফুটবলাররা।

প্রথমার্ধে বাংলাদেশের সামনে এসেছিল চারটি সুযোগ, যার তিনটিতে ছিলেন মাহবুবুর রহমান সুফিল। অষ্টম মিনিটে বামপ্রান্ত দিয়ে ঢুকে সুফিল শট নিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু তার শট বাইরে চলে যায় দ্বিতীয় পোস্ট ঘেঁষে। ১৬ মিনিটে বল নিয়ে সুফিল কাতার বিপদ সীমানায় ঢুকলে তার সামনে ছিলেন শুধুই গোলরক্ষক। কিন্তু তিনি পারেননি গোলরক্ষককে কাটিয়ে শট নিতে। কাতারের গোলরক্ষক দ্রুত এসে তাকে ব্লক করেন। ২৮ মিনিটে আরও একবার গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন সুফিল। এবারও কাতারের গোলরক্ষক দৌড়ে এসে তাকে বাধা দেন। এ সময় ধাক্কা লেগে দুইজনই পড়ে যান মাটিতে। ৩৮ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়ার কর্নারে লাফিয়ে হেড নিয়েছিলেন তপু বর্মন। কিন্তু বল চলে যায় সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে। এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের দলটিও। ২১ মিনিটে একটি ফ্রিকিক বামদিকে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। কয়েক মিনিট পর কাতারের আলশামরির হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

বিরতির পরও বেশ তরতাজা দেখা যায় রানা, তপু, সাদদের। গোলপোস্টে আশরাফুল ইসলাম রানা ছিলেন এককথায় অসাধারণ। বেশ কয়েকটি ভাল আক্রমণ তিনি নস্যাৎ করে দেন। পুরো দলের সম্মিলিত প্রয়াসেই অসাধারণ সাফল্যগাথা রচনা করতে পেরেছে লাল-সবুজের দেশ। ৬৫ মিনিটে ভাল সুযোগ পায় বাংলাদেশ। কিন্তু বিপলু আহমেদের শট রুখে দেন কাতারের গোলরক্ষক। এ অর্ধেও কাতার বলের নিয়ন্ত্রণ বেশি নিয়ে খেলেছে। কিন্তু কাজের কাজ করতে পারেনি। উল্টো পাল্টা আক্রমণে মাঝে মধ্যেই ভীতি ছড়ায় বাংলার দামাল ছেলেরা। এরই ধারাবাহিকতায় ইনজুরি সময়ে মিডফিল্ডার মাসুক মিয়া জনির পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি বক্সের মাথা থেকে দারুণ প্লেসিং শটে লক্ষ্যভেদ করেন জামাল ভুঁইয়া (১-০)। এই গোলেই ইতিহাস গড়া জয় পায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী খেলতে পারা তিন সিনিয়র খেলোয়াড়ের একজন জামাল।