২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্থায়ী আমানত ধরে রাখতে ব্যাংকে আলাদা সুদহার দরকার

  • কাওসার রহমান

দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি নির্ভর করে জনগণের প্রত্যেকের সঞ্চয়ের প্রবণতার ওপর। এই সঞ্চয়ই হলো কোন দেশের নিজস্ব পুঁজি। অর্থাৎ আপন অর্থনৈতিক সামর্থ্য। এই সামর্থ্য না থাকলে অন্যদেশের কাছে ভিক্ষার হাত পাততে হয়। এই ভিক্ষা কখনও অনুদান, আবার কখনও হয় ঋণ, যা পরিশোধ করতে হয়। সঞ্চয় মানুষের জন্য ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও। এই নিরাপত্তা মানুষেরা খুঁজেছে যুগে যুগে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে সঞ্চয়ের পন্থার।

সম্প্রতি সঞ্চয়ের প্রবণতা এদেশে অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে পড়তে চলেছে ব্যাংকের আমানতের সুদের হার অত্যন্ত কমে যাওয়ায়। আজকের জনগোষ্ঠী সঞ্চয়ের সুদের হার হ্রাস পাওয়ায় হতাশ। ব্যাংক আমানতের সুদের হার নেমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। মূল্যস্ফীতি যতটা বেড়েছে, তার চেয়েও কম এখন আমানতের সুদের হার। ফলে সবার চোখ এখন সঞ্চয়পত্রের দিকে।

এদেশে ব্যাংক থেকে নেয়া উদ্যোক্তাদের ঋণের ওপর সুদের হার কমানোর জন্য চাপ রয়েছে প্রবলভাবে। ফলে গত পহেলা জুলাই থেকে ব্যাংকিং খাতে ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (বিএবি)। ঋণের সুদের হার কমাতে গিয়ে এর চাপটা এসে পড়ে আমানতের সুদের ওপর। ঋণের হার কমানোর ফলে ব্যাংকগুলোর এই খাতের আয় কমে যাবে। তার ফলে আমানতকারীদের আমানতের জন্য দেয় সুদের হারও কমিয়ে দিতে তারা বাধ্য হয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঋণের সুদের হারের বিপরীতে আমানতের সুদের হার ছয় শতাংশে নামিয়ে আনার, যা সঞ্চয়পত্রের দিকে সাধারণ মানুষের ধাবিত করেছে।

বেসরকারী ব্যাংকগুলো গত ১ জুলাই থেকে তিন মাস মেয়াদী আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হার ৬ শতাংশ নির্ধারণ করার পর সঞ্চয়পত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে। অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সঞ্চয়পত্র কিনে রাখছেন। ব্যাংকের তুলনায় সুদ বেশি হওয়ায় সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সঞ্চয়পত্র কিনতে। প্রতিদিন গড়ে ৪ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে। কোন কোন দিন বিক্রির পরিমাণ ১০ কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

এক সময় সঞ্চয়পত্র থেকে পাওয়া সুদে অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকদের সংসার চললেও এখন সব শ্রেণী পেশার মানুষ সঞ্চয়পত্রের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আর নতুন করে সুদের হার কমায় ব্যাংকের স্থায়ী আমানত ভেঙ্গে সবাই সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছেন। এ কারণে প্রতিদিনই বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় দেখা যাচ্ছে সঞ্চয়পত্র ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি। এর কারণ, স্থায়ী আমানতের সুদ ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমতে কমতে এখন ৬ শতাংশে এসে পৌঁছেছে। এই টাকায় এখন সংসার চলে না। তাই এফডিআর ভেঙ্গে সঞ্চয়পত্র কিনছেন ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীরা।

গত চার বছর ধরে প্রতিবছর গড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা করে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে। স্থায়ী আমানতের সুদের হার এখন ৬ শতাংশ। বিভিন্ন মেয়াদে সঞ্চয়পত্রের জন্য ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিচ্ছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর। আর এ কারণে বেশি আমানতের আশায় প্রতিদিনই মানুষ সঞ্চয়পত্র কিনছে। এমনিতে সারা বছরই মানুষ কিছু পরিমাণ সঞ্চয়পত্র কেনে। কিন্তু জুলাই মাসের শুরু থেকেই সঞ্চয়পত্র ক্রেতাদের ভিড় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

মূলত দুটি কারণে মানুষ এখন সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে। প্রথমত, গ্রাহকদের কাছে অর্থের উৎস জানতে চাওয়া হয় না। দ্বিতীয়ত, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার যে কোনো আমানতের সুদের হারের চেয়ে অনেক বেশি। সবচেয়ে বড় কথা, সঞ্চয়কারীরা এখানে টাকা রাখাকে নিরাপদ ভাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২ কোটি।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের হিসাব মতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৮ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হলেও পরের বছর অর্থাৎ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকায়। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিক্রি হয় ৪২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। সদ্য সমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১১ মাসেই বিক্রি হয়েছে ৪৭ হাজার ৮৬১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র।

উদ্বেগের বিষয় হলো, সমাজের কোন শ্রেণীর মানুষ সঞ্চয়পত্র কিনছেন তার কোন পরিসংখ্যান নেই সঞ্চয় অধিদফতরের কাছে। স্বল্প আয়ের মানুষ ও পেনশনভোগীদের কাছে বিক্রি করার কথা থাকলেও বর্তমানে সঞ্চয়পত্র কিনছেন বিত্তবানরাই। এই তালিকায় রয়েছেন রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বড় পদের সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। এমনকি, বেশ কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সঞ্চয়পত্র কিনে রাখছে। ব্যাংকের চেয়ে সুদের হার বেশি ও নিরাপদ হওয়ায় বিনিয়োগের বিকল্প জায়গা হিসেবে তারা সঞ্চয়পত্রকেই বেছে নিচ্ছেন।

বেসরকারী গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) পরিসংখ্যানে বলা হয়, সঞ্চয়পত্রও এখন ধনীদের দখলে। সাধারণ বা স্বল্প আয়ের মানুষ ও পেনশনভোগীদের কথা বলা হলেও বাস্তবে ৯০ শতাংশ সঞ্চয়পত্র কিনছেন বড় পদের সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনীতিবিদ ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা। অর্থাৎ ৮৫ শতাংশ সঞ্চয়পত্র মাত্র ১২ শতাংশ লোকের কাছে বিক্রি হচ্ছে। আর মাত্র ১৫ শতাংশ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে বাকি ৮৮ শতাংশ লোকের কাছে।

মূলত সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা দেয়ার জন্য সরকার নিম্ন-মধ্যবিত্ত, সীমিত আয়ের মানুষ, বয়স্ক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্পগুলো চালু করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সুদের হার বেশি হওয়ায় সঞ্চয়পত্রে বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করছে। অথচ সমাজের কোন কোন শ্রেণীর ব্যক্তিরা সঞ্চয়পত্র কিনছেন- এ ব্যাপারে সঞ্চয় অধিদফতরের কাছে কোন তথ্য নেই। এমনকি, বছরের পর বছর ধরে সঞ্চয়পত্র কারা কিনছে, সে ব্যাপারে তথ্যভান্ডার তৈরির চেষ্টাও নেই এই অধিদফতরের। তাদের কথা হলো, ১৮ বছরের বেশি বয়সী বাংলাদেশের যে কোন সুস্থ নাগরিক সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। সে মতোই তারা সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে যাচ্ছেন।

প্রতিবছর সঞ্চয়পত্রের পেছনে বিপুল পরিমাণ সুদ গুনতে হচ্ছে সরকারকে, যা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আদায় করছে। আবার সরকারের বিপুল পরিমাণ সুদ গুনতে গিয়ে ঋণ ব্যবস্থাপনায় তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের ঝুঁকি। এছাড়া হিসেবি ও নির্ঞ্ছাট মানুষেরা ব্যাংক থেকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ভাঙিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনার কারণে একদিকে সঞ্চয়পত্র বিক্রির রেকর্ড হচ্ছে, অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তহবিলেও টান পড়ছে।

সঞ্চয়পত্রের প্রতি মানুষের হুমড়ি খেয়ে পড়ায় কমানো সুদহার বাস্তবায়ন নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যাংকাররা বলছেন, সুদহার যতই কমানো হোক, আমানত চলে গেলে তা বাস্তবায়ন করা যাবে না। আবার বাংলাদেশ ব্যাংকও মনে করছে, সঞ্চয়পত্রের উচ্চ সুদ ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। সঞ্চয়পত্রের উচ্চ সুদের কারণে সার্বিকভাবে আর্থিক খাত ও বন্ড বাজারের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। সঞ্চয়পত্রের সুদহার অর্থবাজারে বিদ্যমান সুদহারের চেয়ে বেশি হওয়ায় সরকারের দায় বেড়ে যাচ্ছে। তাই বলে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে মানুষকে সঞ্চয়বিমুখ করা কোন রাষ্ট্রের কাম্য নয়। বরং মানুষকে সঞ্চয়মুখী করাই রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য। মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়গুলো সংগ্রহ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানোই সরকারের উদ্দেশ্য। তাই মানুষকে বিশেষ করে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। উচ্চ বিত্তদের সঞ্চপত্রে বিনিয়োগে কিভাবে নিরুৎসাহিত করে নিম্ন ও মধ্য বিত্তকে সঞ্চয়ে ধরে রাখা যায় তার উপায় নিয়ে ভাবতে হবে। ব্যাংকগুলোও কিভাবে তাদের আমানত ধরে রাখতে পারে সে ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করতে হবে। এক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের প্রতি ঝোঁক ঠেকাতে জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য ব্যাংকগুলোতে একটি আলাদা ডিপোজিট রেট (সুদহার) বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এভাবে ঢালাও সুদের হার কমিয়ে আমানত ধরে রাখতে পারবে না ব্যাংকগুলো। স্থায়ী আমানতের জন্য বেশি সুদ না দিলে সব আমানত সঞ্চয়পত্রে চলে যাবে। স্থায়ী আমানত ধরে রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে আলাদা সুদহার নির্ধারণ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের চালু করা চার ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এগুলো হলো পাঁচ বছর মেয়াদী পরিবার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদী পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদী মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং তিন বছর মেয়াদী ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এগুলোর গড় সুদের হার ১১ শতাংশের বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র দেশের যে কোন নাগরিক কিনতে পারেন। এই দুই ধরনের সঞ্চয়পত্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে একক নামে ৩০ লাখ ও যৌথ নামে ৬০ লাখ টাকার পর্যন্ত কেনার সুযোগ আছে।

পাঁচ বছর মেয়াদী পরিবার সঞ্চয়পত্র একক নামে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকার পর্যন্ত কেনা যায়। তবে সবাই এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন না। কেবল ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী যে কোন বয়সী নারী-পুরুষ এবং ৬৫ বা তার চেয়ে বেশি বয়সী নারী ও পুরুষ এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।

পাঁচ বছর মেয়াদী পেনশনার সঞ্চয়পত্র একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার পর্যন্ত কেনা যায়। এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন কেবল অবসরপ্রাপ্ত সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং মৃত চাকরিজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা অফিস, সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের অধীনস্থ সারাদেশে ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো অফিস এবং পোস্ট অফিস থেকে এসব সঞ্চয়পত্র কেনা ও নগদায়ন করা যায়। সঞ্চয়পত্রগুলোর মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদী পেনশন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদী পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়। পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এছাড়া, ডাকঘর সঞ্চয়পত্র নামে আরও একটি সঞ্চয়পত্র স্কিম রয়েছে, যা শুধু ডাকঘর থেকে লেনদেন করা হয়। তিন বছর মেয়াদী ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বর্তমানে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। বাংলাদেশের যে কেউ এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক