২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিমত ॥ বিশ্ববাসীকে দেয়া ‘দেশরত্নের’ উপহার

  • হায়দার মোহাম্মদ জিতু

সরদার ফজলুল করিমের মতে, ‘সাহিত্য সমাজের আত্মপরিচয় বহন করে এবং এটা কখনই নিরপেক্ষ নয়’। আর সাহিত্য রচনার কারিগর যেহেতু মানুষই, সে হিসেবে তাঁদের কেউ যদি নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করেন তবে তা হবে নিতান্তই ভাঁওতাবাজি।

তবে ট্র্যাজেডি হলো বাঙালীর জীবনে এখন এই ভাঁওতাবাজের সংখ্যাই বেশি এবং এরাই নিজেকে বুদ্ধিজীবী হিসেবে দাবি করেন। তবে আশার কথা, যে প্রলেতারিয়েত শ্রেণীর চিন্তক তাত্ত্বিক গ্রামসির ফ্রেমকৃত নিক্তিতে এদের অন্তত মাপা যায়।

গ্রামসির চিন্তাকৃত দুই শ্রেণীর মাঝে এরা পোষাপালিত শ্রেণীর। অর্থাৎ, এরা সরাসরি উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত না থেকে অন্যের অনুগ্রহ-অনুকম্পায় পালিত হন।

একটা সময় এদেশ বহিঃশত্রু (৪৭-৭১) এবং স্বৈরাচারী (৭৫-৯০) শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তখন প্রেম- দ্রোহ-স্পর্ধার অনুরণনে এখানকার বুদ্ধিজীবীরা অন্যায়কে তর্জনী-তুবড়ি দেখিয়েছিলেন। শাণিত চিন্তা এবং ক্ষুরধার যুক্তিতে জনতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

অথচ আধুনিকতা এবং উত্তরাধুনিকতার ফাঁকে চলমান এই সময়টার কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া একটা নারকীয় অন্যায় যজ্ঞকে এঁরা প্রায় ফাঁক গলেই যেতে দিলেন!

বহুপক্ষীয় চিন্তার অংশগ্রহণ এবং প্রতিযোগিতাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু সেই চিন্তার প্রয়োগ যদি গণমানুষের প্রাণনাশে ব্যবহৃত হয় তবে তা একাধারে পরিত্যাজ্য এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

২০১৪ এর ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চালানো ‘বিএনপি-জামায়াত-শিবির জঙ্গী তৎপরতা’ সেই চিন্তারই বহির্প্রকাশ। জনবিচ্ছিন্ন এই সংগঠন নিজেদের নিশ্চিত পরাজয়ের গ্লানি ঘোচাতে বলি চড়িয়েছিল নিরীহ সাধারণ মানুষের।

২০১৪-এর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘২০১৩ এর ২৮ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারি’ পর্যন্ত তারা ‘নারকীয় জঙ্গী তৎপরতা’ চালিয়েছেন। ফলাফল, সারা দেশের ২২৪০৬ জন মানুষ অগ্নিদগ্ধ-আহত এবং ৫০৬ জন মানুষ নিহত। রীতিমতো জঙ্গী কায়দায় ঘুমন্ত বাসযাত্রীদের ওপর পেট্রোল হামলা চালিয়েছে। শুধু তাই নয় দিনের আলোতে চলন্ত যাত্রীবাহী বাসের ছিটকিনি বাইরে থেকে লাগিয়ে তাতে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে।

অথচ ‘পেট্রোল বোমা’ ‘আবিষ্কার’ সংক্রান্ত অতীত বলে, ‘এটি মূলত ব্যবহৃত হতো অস্ত্রধারী পক্ষের বিরুদ্ধে অতর্কিত আক্রমণে’। সেক্ষেত্রে একটা স্বাভাবিক প্রশ্ন দাঁড়ায়, তাহলে কেন এই নিরস্ত্র মানুষের ওপর ‘বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের’ পেট্রোল বোমার জঙ্গী তৎপরতা?

উত্তরটি সহজ। ‘বিএনপি-জামায়াত-শিবির’ বিমুখী জনতার ভোট আচরণ। অর্থাৎ, ভোট পাবেন না জেনে জনতাকে আক্রান্ত ও আতঙ্কিত করে ব্লাকমেইল করবার চেষ্টা।

শুধু তাই নয়, তারা জঙ্গি ছোবল থেকে রেহাই দেয়নি জনগণের জানমালের দায়িত্বে থাকা ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও’। তাদের জঙ্গী তৎপরতায় বাঁধা দেয়ায় নৃশংসভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে ১৩ জন পুলিশসহ ২ জন বিজিবি সদস্যকে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের আচ্ছন্ন ও বিভ্রান্ত করা ‘কোটা’ আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়কের দাবির পেছনে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠায় তাদের আদমসুরত ঠিকই দেখা গেছে।

যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয়ের বাসভবনে হওয়া নারকীয় তাণ্ডবে তার শৈশবের ‘হাওয়াই মিঠাই’ খাওয়া তন্দ্রায় ছিলেন! পাশাপাশি সারাদেশ থেকে আগত স্কুল ছাত্রের ছদ্মবেশে যাদের ব্যাগে চাপাতি-রামদা ছিল, তাদের ক্ষেত্রেও তাদের চোখে ছিল কাঠের চশমা।

অথচ এই সময়গুলোতে কিছু সংখ্যক বুদ্ধিজীবীও যদি সঠিক এবং সরব উপস্থিতি দেখাতেন তাহলে জনগণ বিভ্রান্ত হওয়া থেকে এবং জানমালের বিপুল ক্ষতি থেকে বাঁচতে পারতেন।

তবে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোতে সবচেয়ে বেশি লাভ হয়েছে ‘জনগণ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার’। জনগণ বুঝতে পেরেছেন তাঁদের বাতিঘর শেখ হাসিনা কতমুখী ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তাঁদের ভাগ্য বদলের সংগ্রামে রত।

যার প্রমাণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যুত উৎপাদনের (১০৮৩৫ মেগাওয়াট, ২৮’মে ২০১৮) রেকর্ড। পাবনায় ‘রূপপুর’ এবং খুলনায় ‘রামপাল’ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের পথে।

শুধু তাই নয়, বিশ্ব ষড়যন্ত্র হটিয়ে বিশ্ব ব্যাংককে আঙ্গুল উঁচিয়ে প্রমাণ করেছেন দুর্নীতির মতো মিথ্যাচার করে বাঙালীর জয়রথ থামানো যাবে না। যার প্রমাণ আজ বাঙালী নিজের অর্থায়নেই তাঁদের স্বপ্নের ‘পদ্মা সেতুর’ কাজ প্রায় শেষের পথে নিয়ে চলেছেন।

তবে এতশতের মাঝেও বিশ্ববাসীকে দেয়া ‘দেশরতেœর’ সেরা উপহার ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’। যে যুক্তরাষ্ট্র একদিন বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিল, আজ সেই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে, পুরো বিশ্বের সামনে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণ করল বাংলাদেশ। আনন্দের বিষয়, এরই মাঝে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়েছেন ‘বঙ্গবন্ধুর স্যাটেলাইট-২’ এর কাজ।

সুইস ভাষাতাত্ত্বিক ফারদিনান্দ দ্য দস্যুর ভাষা সংক্রান্ত চার সূত্রের একটি মতে, ‘শব্দের অর্থ তার মাঝেই নিহিত থাকে’। সে হিসেবে আজ ‘শেখ হাসিনা’ নামে নিহিত ‘বাঙালীর পরম নির্ভরতা এবং বর্তমানের আলোকে উজ্জ্বল ভবিষ্যত বাস্তবায়ন’। বাঙালীর এই অগ্রযাত্রা এবং বিশ্বাস অব্যাহত থাকুক।

লেখক : সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

haiderjitu@gmail.com