২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশের ১০০ শীর্ষ ঋণ খেলাপীর তালিকা প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী

দেশের ১০০ শীর্ষ ঋণ খেলাপীর তালিকা প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বুধবার দেশের ১০০ শীর্ষ ঋণ খেলাপীর তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ঋণ খেলাপীর সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ জন। এসব ঋণ খেলাপীদের কাছ থেকে অনাদায়ী অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইজে সংরক্ষিত গত জুন পর্যন্ত তথ্যানুযায়ী এই ঋণ খেলাপীর সংখ্যা উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগ দলীয় সংরক্ষিত সংসদ সদস্য বেগম পিনু খানের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী এ তালিকা প্রকাশ করেন। মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর পর্বে টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

সংসদে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ ১০০ ঋণ খেলাপীদের মধ্যে রয়েছে- মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম লি, ম্যাক্স শিপিং মিলস, রাবেয়া ভেজিটেবল ওয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ, রাইজিং স্টিল মিল, ঢাকা ট্রেডিং হাউজ, বেনেটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আনোয়ারা শিপিং মিলস, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস, ইয়াসির এন্টারপ্রাইজ, চৌধুরী নিটওয়ার, সিদ্দিক ট্রেড, রুপালী কম্পোজিট লেদার ওয়ার, আলফা কম্পোজিট টয়য়েলস হলমার্ক ফ্যাশন লিমিটেড, মুন্নু ফেব্রিক্স, ফেয়ার ইয়ার্ন প্রসেসিং লিমিটেড, ফেয়ার ট্রেড ফেব্রিক্স, শাহরিজ কম্পোজিট টয়েল লিমিটেড, ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল, সুরুজ মিয়া শিপিং মিলস, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিঃ, সালেহ কার্পেট মিল. পদ্মা পলি কটন নিট ফেব্রিক্স, এ কে স্ট্রিলসহ ১০০টি ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠান এই ঋণ খেলাপির তালিকায় রয়েছে।

সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৪০ কোটি। এরপরই রয়েছে জনতা ব্যাংক ১৪ হাজার ৮৪০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৯ হাজার ২৮৪ কোটি, ব্যাসিক ব্যাংক ৮ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক, সাউথইষ্ট ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংকে বকেয়া ঋণের পরিমাণ বেশি। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকে ৫ হাজার ৭৬ কোটি, সাউথইষ্ট ব্যাংকে ৩ হাজার ৯৯৮ কোটি এবং প্রাইম ব্যাংকে ৩ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ঋণ বকেয়া রয়েছে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে বিভিন্ন দাতা দেশ/সংস্থা থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের আশ্বাসের (কমিটমেন্ট) পরিমাণ ছিল ৩৬১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তন্মধ্যে ঋণের পরিমাণ ৩৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অনুদানের পরিমাণ ১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বৈদেশিক সাহায্যের প্রাপ্তির (ডিসবার্সমেন্ট) পরিমাণ ছিল ১৮৭ কোটি ৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তন্মধ্যে ঋণের পরিমাণ ১৮৫ কোটি ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ পরিমাণ ২ দশমিক ৪২ মার্কিন ডলার।

সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার পুঁজিবাজারের শ্ঙ্খৃলা তথা গতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করেছে। ফলে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থা পূর্বের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও গতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্চ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথোরিটি নিয়মিত সমন্বয় সভা করছে।