২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পদ্মার ভাঙ্গন থামেনি, আরও ৩০ বাড়ি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে

পদ্মার ভাঙ্গন থামেনি, আরও ৩০ বাড়ি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে

আবুল বাশার শরীয়তপুর থেকে ॥ জেলার নড়িয়ায় প্রমত্ত পদ্মার তীব্র ভাঙ্গন বুধবারও থামেনি। তবে নড়িয়া উপজেলার মূলফৎগঞ্জে ভাঙ্গনের যে তীব্রতা ছিল তা কিছুটা কমে এখন বাঁশতলা এলাকায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে। বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঁশতলা ও সাধুরবাজারসহ অন্যান্য এলাকায় কমপক্ষে ৩০ কাঁচা-পাকা বসতঘর, ৫ দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, ১৫ দিন পূর্বে বাঁশতলায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশি ছিল। কয়েক দফা ভাঙ্গনের পর মাঝখানে বন্ধ ছিল। বুধবার এসব এলাকায় ৩০ কাঁচা-পাকা বসতঘর, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় নতুন করে ভাঙ্গন আতঙ্কে দিশেহারা এ অঞ্চলের মানুষ। এছাড়া পানের বরজ, একটি কলা বাগানসহ কয়েক একর ফসলিজমি ও একটি মেঠোপথ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে নড়িয়া উপজেলার মূলফৎগঞ্জ বাজার, বাঁশতলা বাজার ও সাধুরবাজারের ৫শ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ৮ শতাধিক স্থাপনা বিলীন হয়েছে। মারাত্মক ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে আছে মূলফৎগঞ্জ বাজারের সহ¯্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে এলাকার বাসিন্দার। বেসরকারী হিসাব মতে, এ বছর এসব এলাকায় ভাঙ্গনে কমপক্ষে ৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙ্গনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন পদ্মার তীরে ভিড় করছে হাজারও উৎসুক জনতা। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের দাবি দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক।

বাঁশতলায় ভাঙ্গন ঝুঁকিতে থাকা বাড়ির মালিক রতন খালাসী বলেন, সবাই এক এক করে ভাঙ্গন আতঙ্কে তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। আমি সাহস করে এতদিন টিকেছিলাম কিন্তু আমারও শেষ রক্ষা হলো না। আজ ঘরবাড়ি ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নদীভাঙ্গনের ফলে আমাদের এই করুণ দশার সংবাদ যদি কেউ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দিত তাহলে তিনি হয়ত কিছু একটা ব্যবস্থা করতেন। বসতবাড়ি ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে থাকা বাঁশতলার জাকির হোসেন বলেন, টাকার অভাবে এক সপ্তাহ ধরে নিজের বসতঘর ভেঙ্গে অন্যত্র সরাতে পারছি না। যে কোন মুহূর্তে বসতঘরখানিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। একই পরিস্থিতিতে থাকা আলী আকবর বলেন, আমি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে এখন নদীরপারেই কোন রকমে ছাপড়া তুলে দিন কাটাচ্ছি। অর্ধাহারে-অনাহারে থাকতে হচ্ছে আমাদের।

বুধবার চরজুজিরা, মুলফৎগঞ্জ ও নড়িয়ায় ভাঙ্গনকবলিত এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলার মুক্তারের চর, কেদারপুর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভায় পদ্মার অব্যাহত ভাঙ্গনে মাত্র একদিনে সাধুরবাজারের হযরত বেলাল (রাঃ) জামে মসজিদ, বাঁশতলায় নজরুল ইসলাম নজু ঢালী, কাদের ঢালী, মোঃ ফিরোজ, গনি বেপারি, সোবাহান মাল, সাগর দেওয়ান, জমিস খান, রফিক ঢালী ও জামাল বেপারির ৩০ বসতঘর নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। গনি বেপারির পানের বরজ, ফিরোজ মিয়ার কলা বাগানসহ কয়েক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দু’মাসে পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে নড়িয়া উপজেলার দেওয়ান ক্লিনিক, রওসনারা সপিং মল, হেল্থ কেয়ার ক্লিনিক, গাজী কালুর ভবন, নড়িয়া উপজেলা স্ব্যাস্থ্য কমপ্লেক্স নতুন ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সহ¯্রাধিক স্থাপনা বিলীন হয়েছে। ওয়াপদা বাজার ও সাধুরবাজারের কমপক্ষে ২শ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবন (নতুন) নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর ওই হাসপাতালের আওতাধীন ১২ ভবন যে কোন মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

ভাঙ্গনকবলিতদের মধ্যে ত্রাণ ও বস্ত্র বিতরণ ॥ বুধবার দুপুরে নড়িয়া উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনকবলিত অসহায় ১২শ’ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীমের রতœগর্ভা মায়ের নামে গঠিত আশ্রাফুন্নেসা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নদীতে সহায়সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ১২শ’ পরিবারের প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল, ডাল,তেল, বস্ত্রসহ নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ